ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

চাঁদপুর

অমল সাহা
🕐 ৪:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০২২

চাঁদপুর

আমি এ যাত্রায় পুনর্জন্মের আভাস পাই-
আমিই জন্মেছি এই শহরে?
নাকি নতুন করে জন্ম হয়েছে এই শহরটার?
বড় ধন্ধ লাগে- পুনঃনির্মাণের আয়োজনে!

কালীবাড়ি মোড়ের ক্যাফে ওয়ান মিনিটের চায়ের আসরের
বিগত যৌবনের প্রবীণ মস্তানরা
অদৃশ্য এই বিনির্মাণে!
দেখেছি তাদের এককালে চৌদ্দ সেলাইয়ের বডি-টাইট শার্ট
আর চল্লিশ ইঞ্চির বেলবটম পরে
জর্জ হ্যারিসনরা ঘুরে বেড়াতো চাঁদপুরের নন্দিত রাস্তায়,
চুল তার কবেকার এলভিস প্রিসলি!

‘গিভটোন’ রেডিও সারাইয়ের দোকানে
অবিরত দেখে আসা গম্ভীর মুখের সেই মেকানিক
উধাও তার তল্পিতল্পাসহ
বিরাট সব রেডিও নিয়ে হেঁটে গেছে
রেললাইন ধরে ছায়াবাণী সিনেমার পাশ দিয়ে
‘নতুন সভ্যতা’র বাইরে।

মাতৃপীঠ স্কুলের উর্বশী মেয়েদের অবজ্ঞার হাসি
নন্দীর সুগন্ধি চপের দোকান
সিনেমার ছেঁড়া টিকিট
কিছুই আজ জমা নেই এই আমার জন্য
এই শহরের নবীন সরণিগুলোর বাঁকে।

ডোরা ফার্মেসির বুড়োদের আড্ডায়
নখদর্পণের বুড়োরা অশ্রুত এক নিম্ন স্বরে,
‘নবীন সভ্যতা’র মুণ্ডুপাতে মেতে উঠেছিল শেষের দিকে।

কিন্তু থামেনি কিছুই-
নিয়নের বাতি। প্রমোটারের বহুতল।
ঝকঝকে জাংফুড ফ্র্যানচাইজ
উচ্চ লহরির মিউজিক সিস্টেম
চরণ ভোলানো ঝাঁ চকচকে টাইলসের আইটেম।

খেয়াঘাটের রেললাইন উপড়ে নিয়েছে দস্যুরা-
মেনেছে মানুষ ওদের আগ্রাসন,
হারিয়েছে এক বৃদ্ধ পাকুড় এই শহর
কে রাখে তার খবর?

কত কিশোরের চোখে আলো ফেলেছিল
বীরেন সাহার মেঝ মেয়েটা!
আমি দ্বিতীয় যাত্রায় সেই আলো খুঁজে ফিরি
ওদের ছায়াবীথি ঘেরা অলীক বাড়িটার পথে,
এইখানে আজ কত মানুষের আনাগোনা
বিলাসবিহারী গৃহিণীরা বাজার করে ফেরে
মনোহর সব দোকানের সারি
ছায়াবীথিপথ দিয়েছে কবে কোন কালে পাড়ি।

যাদব স্যারের ছাতাটা কোথায়?
মেঘবৃষ্টি রোদ ছাড়াও সেই নিরীহ ছাতা ছিল
অবারিত এই শহরের পথে
সেটি আজ আর কোথাও নেই
সবই গেছে যাদব স্যারের সাথে।

হায় চাঁদপুর! মিথিলা রাজ্যপুরী আমার!

 
Electronic Paper