৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা

৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ফেনী প্রতিনিধি ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০১৯

print
৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯২ জনের মধ্যে ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছে আদালত। পর্যায়ক্রমে বাকি ১৩ জনেরও সাক্ষ্য নেওয়া হবে। গতকাল মঙ্গলবার ২৯তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

তারা হলেন পিবিআইর এসআই মো. আল আমিন শেখ, সোনাগাজী থানা পুলিশের এসআই ময়নাল হোসেন ও এসআই নুরুল করিম, পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা ও ফেনী পিবিআইয়ের এসআই মো. হায়দার আলী আকন। আজ বুধবার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য দেবেন পিবিআইয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২৭ জুন থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। শুরুর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করছেন।

এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরে রাফীর বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার, শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন, সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরি মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন, অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল করিম, সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী, সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী, মাদ্রাসা ছাত্রী বিবি জাহেদা বেগম তামান্না, মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবী রাণী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার, কায়সার মাহমুদ, মাদ্রাসার ছাত্রী ফাহমিদা আক্তার হামদুনা, নাসরিন সুলতানা, হল পরিদর্শক কবির আহম্মদ, তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর সিদ্দিক, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আকবর হোসেন, ফজলুল করিম, রাবেয়া আক্তার, মোয়াজ্জেম হোসেন, জাফর ইকবাল, প্রফেসর মুহাম্মদ মহিউদ্দিন চৌধুরী, হাফেজ মোবারক হোসেন, মো. ইব্রাহীম, রেজা মো. এনামুল হক, মো. নুর উদ্দিন, আকরাম হোসেন, এমদাদ হোসেন পিংকেল, মো. শাহজাহান, মো. আবুল কাশেম ও মো. সেলিনুর রেজা, জেল সুপার রফিকুল কাদের, ডেপুটি জেলার মনির হোসেন, কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা এবং মোশারেফ হোসেন ও মো. গোলাম মাওলা, ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন, রাসায়নিক পরীক্ষক পিংকু পোদ্দার, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক রোমানা আক্তার, রাসায়নিক পরীক্ষক মো. নজরুল ইসলাম, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আবদুল বাদী ও ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদসহ ৭৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফী।