রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন ৬ এর আওতাধীন উত্তরা ১৫নং সেক্টরের কয়েক একর রাজউকের পরিত্যক্ত জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানকার ভাড়া আদায় করেই চলছে ৫২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের পুনর্গঠন, দেওয়া হচ্ছে আন্দোলনের খরচও।
তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের দিকে ৫২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ মোল্লা নিজের জমির সামনে থাকা রাজউকের পরিত্যক্ত জায়গায় অবৈধভাবে একটি কাঁচাবাজার নির্মাণ করেন। এটি দেখে উৎসাহিত হয়ে একের পর এক পরিত্যক্ত প্লটগুলো দখল করতে থাকেন ৫২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। উত্তরা ১৫ নং সেক্টর ২নং ব্রিজ থেকে ৫নং ব্রিজের আগ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রাস্তার পাশে রাজউকের পরিত্যক্ত প্লটগুলো দখল করে নিজেদের মতো স্থাপনা নির্মাণ করেন। সেই স্থাপনা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ভাড়া উত্তোলন করে আসছেন ৫২নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। ২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও বহাল তবিয়্যতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সেসব নেতারা। দখলদারদের তালিকায় এক নম্বর রয়েছে মো. সবুজ মোল্লা, তিনি ৫২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পাকুরিয়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক।
তারপরে রয়েছে ৫২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ আহমেদের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম। এছাড়াও দখলবাজের তালিকায় রয়েছে, সবুজ মোল্লার বাবা মো. কদম আলী। যুবলীগ নেতা তাল টেকের কবির, ভাঙ্গারি রমজান, আজাহার ও সোহেল নামে এক ব্যক্তি। রাজউকের জমি দখলকারী প্রায় সবার নামে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। যে কারণে বর্তমানে তারা পলাতক থাকলেও তাদের পরিবারের লোকজন মারফতে প্রতিমাসে আগের তুলনামূলক হারেই ভাড়া উত্তোলন করছেন।
সেই টাকায় চলছে অনেকের সংসার আবার অনেকে সেই টাকা দিয়ে দলকে চাঙ্গা করতে নেতাকর্মীদের খরচ জোগাচ্ছেন বলেও জানিয়েছে নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র। দখলকৃত এসব জমিতে স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, টিনশেডের বস্তিবাড়ি, রেস্টুরেন্ট, ফুটকোট, ভাঙ্গারি দোকান, প্লাস্টিক রিসাইকেল ফ্যাক্টরি, অটো রিকশার গ্যারেজ এবং অন্তত দশটি অটো রিকশা তৈরির কারখানা ও ডজনখানিক পার্টসের দোকান। এছাড়াও অটোরিকশা সমিতি নিজেদের জন্য একটি পাকা অফিস তৈরি করেছেন দখলকৃত এই জমিতেই, সেই সঙ্গে চা দোকান মুদি দোকানসহ বেশকিছু দোকান রয়েছে।
এই সব স্থাপনা থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ভাড়া উত্তোলন করা হয়। এইদিকে দখলকৃত জমির পাশ দিয়ে বয়ে চলা এই সড়কটি শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিসহ বেশকিছু নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা হওয়ায় সড়কটি থাকে সর্বদাই ব্যস্ত। আবার অন্যদিকে এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা হওয়ায় ও একাধিক রিকশার গ্যারেজ থাকায় এখানে মাদক যেন সহজলভ্য। গাঁজা ইয়াবা ও ফেনসিডিলের মতো মাদক হরদম মিলছে এখানে।
সন্ধ্যার পরে এলাকাটিতে মাদকসেবীদের ভিড় জমে। দামি গাড়িতে করে কেউ আসেন কিনতে আবার কেউ আসেন সেবনের উদ্দেশ্যে। এছাড়াও ১৫নং সেক্টরে পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ত্রিশটি রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। আসছে কোরবানির ঈদে দিয়াবাড়ি পশুর হাট হলে এই জায়গাটি হতেপারে ছিনতাই ও ডাকাতির আদর্শ্য স্থান বলে মনে করছেন সচেতন মহল। আবার দখলকারীদের তথ্যমতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর অনুমতিতেই এগুলো স্থাপন করা হয়েছে। যে কারণে এগুলো উচ্ছেদের প্রশ্নই আসেনি কখনো।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সবারই পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি, তবে যুবলীগ নেতা কবির ওরফে তালটেকের কবিরের স্ত্রী ভাড়া উত্তোলন করেন, এই বিষয়ে যুবলীগ নেতা কবিরের স্ত্রীর মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি খোলা কাগজকে বলেন, এখানে আমাদের নিজস্ব কিছু জমি আছে বাকিটা রাজউকের, এখানকার অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তার অনুমতি নিয়েই স্থাপনা নির্মাণ করেছি, রাজউকের যখন প্রয়োজন হবে আমরা ছেড়ে দিব। আমার স্বামী আওয়ামী লীগ করতেন, উনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন, সেজন্য এখানকার ভাড়াটা আমি নিজে উত্তোলন করছি। এখানে তিনি কোনো চাঁদাবাজি করছেন না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
রাজউকের জমি দখল বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউক উত্তরা বাস্তবায়ন ৬ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. গোলাম রাব্বি খোলা কাগজকে বলেন, আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার কাজ এখানে শেষ, বর্তমানে এটা আমাদের ডেভলপমেন্ট কনসল শাখা নিয়ন্ত্রণ করে। উনারা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছেন। এই বিষয়ে থানা পুলিশকেও অবগত করা রয়েছে উনারাও বিষয়টি দেখবাল করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেকে/এএস