ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘নৌকা নিয়েও ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারলে ভান্ডারিয়া ছেড়ে যাব’

আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উদ্দেশ্য ভান্ডারিয়া আ.লীগ সম্পাদক মিরাজ

আরিফ মোস্তফা, পিরোজপুর
🕐 ৪:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২৩

‘নৌকা নিয়েও ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারলে ভান্ডারিয়া ছেড়ে যাব’

জেপি চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে উদ্দেশ্য করে ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মিরাজুল ইসলাম বলেছেন, আপনি নৌকা মার্কা নিয়েও ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারলে আমরা সেদিন ভান্ডারিয়া ছেড়ে চলে যাবো। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে ঢাকার পান্থপথের সামারাই কনভেনশন সেন্টারে ঢাকাস্থ ভান্ডারিয়াবাসীর আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মিরাজুল ইসলামসহ অন্যদের দেয়া বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেটি এ প্রতিনিধির হাতেও এসেছে।

 

মিরাজুল ইসলাম বলেন, আপনি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো লিখেছেন। লেখাটা দেখে আমি খুব আনন্দ পেয়েছি। এটা ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের স্বার্থকতা।

মঞ্জুকে উদ্দেশ্যে করে মিরাজুল ইসলাম বলেন, আপনি ভান্ডারিয়ায় বলেছিলেন কবুতরের খোপে হাত দিলে সাপ পাওয়া যায় কিন্তু একটা আওয়ামী লীগ পাওয়া যেত না। আরেক সভায় বলেছিলেন সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৪০টি আসন পাবেনা। এ রকম অনেক কিছুই বলেছেন। এখন আপনার নৌকায় ওঠার খায়েশ দেখে খুব আনন্দ পেয়েছি। আপনি হয়তো জানেন না, আপনি যেদিন নৌকায় উঠতে যাবেন সেদিন ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারীসহ সহযোগী সংগঠন আপনার ঐ দল থেকে নেমে যাবে। তখন আপনি কি নিয়ে নির্বাচন করবেন। কোন ভরসায় আপনি যাবেন।

এসময় তিনি (মিরাজুল ইসলাম) সভায় উপস্থিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির কাছে জানতে চান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যদি নৌকা নিয়ে আসেন তখন আপনারা তার সাথে থাকবেন। তখন সবাই সমস্বরে না না বলে উঠবেন।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, আমিও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাথে থাকবো না। ১৪ সাল থেকে যখন ফাইজুর রশীদ খসরু সভাপতি আর আমি মিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। সেই থেকে নিধন শুরু করেছেন এবং বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্ম্পকে যত আজেবাজে কথা আমরা যখন তার রুমে থাকতাম শুনতাম। আমরা জবাব দিতে পারতাম না, হাফিজুর রশীদ তারেক সাহেব ছিলো সে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেবের কথার উল্টাপাল্টা জবাব দিতো। হাফিজুর রশীদ তারেক সাহেবের কথায় কয়েকদিন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কেঁদেও দিয়েছেন।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, মঞ্জু সাহেবের কেন এরকম বুদ্ধি হলো যে নৌকায় আসবেন। আপনি মনে হয় বুজতে পারতেছেন নৌকা ছাড়া এখন আর উপায় নাই। কিন্তু ভান্ডারিয়ায় আপনি যদি সকল সেন্টারে নৌকা মার্কা নিয়েও এজেন্ট দিতে পারেন তা আমি নির্বাচনের দিন ভান্ডারিয়া ছেড়ে চলে যাবো। গেল পৌরসভা নির্বাচনে আপনি ভান্ডারিয়ায় অর্থবিত্ত, জামাই(নিক্সন চৌধুরী), কত নিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি সে সময় কিন্তু দেখে আসছেন। আবার এমন না হয় আপনার আম ছালা সব যায়। সাইকেলও যায় আবার যেটা চাচ্ছেন সেটাও যায়। আপনার জন্মস্থান ভান্ডারিয়ায়তো এজেন্ট দিতে পারবেনা না, কাউখালী, স্বরুকাঠীতে কি করবেন।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, আর ভয়-ভিতি দেখাবেন না। আপনি সব কিছু ছেড়ে সম্মান নিয়ে ঘরে ফিরে যান। সবাই মনে করবে আপনি ভান্ডারিয়ার মুরব্বী ছিলেন। আর যদি আপনি আপনার শিষ্যর (আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর সাবেক এপিএস ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ) সাথে নির্বাচনে হেরে যান। তখন বুঝবেন খেলাটা হবে কি। আমি চাইনা আপনার অন্তরে জ্বালা ধরুক।

মিরাজুল ইসলাম এ সময় বলেন, প্রকৃত আওয়ামী লীগের কাউকে যদি মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে মহিউদ্দিন মহারাজ নির্বাচন করবেন না। আর যদি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে যদি নৌকা দেয়া হয় তাহলে মহিউদ্দিন মহারাজও নির্বাচন করবেন।

মতবিনিময় সভায় পিরোজপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা আওয়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আমাদেরকে মাদক ব্যবসায়ী বানাতে চান। আমাদেরকে রাজাকারপুত্র বানাতে চান। আমি একটু আওয়ামী লীগের পদে আছি। সেটা যেন না থাকি। আমার মনে ছিল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জীবদ্দশায় আমি তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে যাবনা। উনি এত যদি নিধন করতে চান তাহলে সেটা কি মানা যায়।

মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ভান্ডারিয়া পৌরসভার মেয়র ও ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজুর রশীদ খসরুর সভাপতিত্বে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ভান্ডারিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান মৃধা, তালুকদার সরোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, ভান্ডারিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তালুকদার এনামুল কবির টিপু।

মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেয়া ভান্ডারিয়ার বাসিন্দা টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারেক জমদ্দার বলেন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আওয়ামী লীগ নিধনকারী। আমরা মহিউদ্দিন মহারাজকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানাই।

 
Electronic Paper