ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ | ১১ আষাঢ় ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সাফল্য

মোকাররম হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
🕐 ৫:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০২৪

মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সাফল্য

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে মাচা পদ্ধ‌তিতে তরমুজ চাষ শুরু হয়েছে। এতে এক‌দিকে যেমন ফসল আবর্তনের মাধ্যমে জ‌মির উর্বরতা বৃ‌দ্ধি পাচ্ছে অন্য‌দিকে প‌রিবহন খরচ কম হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ফসলের চাহিদাও বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন তরমুজ চাষে।

 

সরেজ‌মিনে উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল হামিদ নামের এক কৃষক মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার ৮ জন কৃষক এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের প্রদর্শনী করেছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো এবছর উপজেলায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকার ৮জন কৃষক ২০ শতক করে জমিতে এই প্রদর্শনী করেছেন। এ চাষে কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বিক পরামর্শ প্রদান করছে কৃষি অধিদপ্তর।

এছাড়াও ফসল পরিচর্যার জন্য প্রতিটি কৃষককে তিন হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। প্রদর্শনী ছাড়াও নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন অনেক কৃষক।

ভিমলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ও হামিদুল হক জানান, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সার্বিক সহায়তা এবং পরামর্শে আমরা তরমুজ চাষ করেছি, ফলনও ভালো হয়েছে। তরমুজ গুলো বড় হতে শুরু করেছে, আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এগুলো বাজারজাত করতে পারবো।

কৃষকরা বলেন, তরমুজ চাষে খুব একটা ঝামেলা নেই, প্রথমে মাটি তৈরী করে বীজ বপন করতে হয়। চারা গজালেই বাঁশ দিয়ে মাচা করে একটু পরিচর্যা করতে হয়। এর পর পুরো মাচায় ধীরে ধীরে গাছের বান (লতায়) ছেয়ে যায় এবং ফল আসতে শুরু করে। ফল গুলো একটু বড় হলে সেগুলেতে মশা‌রি নেট বেঁধে দিতে হয়। গাছ লাগানোর তিন মাসের মাথায় তরমুজ বাজারজাত করা যায়। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই তরমুজ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তারাও আগামীতে তরমুজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-১ মৌসুমে প্রথমবার এবছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় ১ দশমিক ৬ একর জমিতে মাচা পদ্ধতিতে তৃপ্তি, অনুভব ও ব্লাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ প্রদর্শনী করা হয়েছে। কৃষকদের বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশকসহ সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে ভিমলপুর মাঠে তরমুজ প্রদর্শনী পরিদর্শ করেন দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের জেলা প্রশিক্ষক জাফর ইকবাল, প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক রাকিবুজ্জামান, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষি‌বিদ রুম্মান আক্তার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর রহমান। পরে সেখানে তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় কৃষকদের তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

 
Electronic Paper