হেলায় ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

হেলায় ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ ৩:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

print
হেলায় ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

হাওর বেষ্টিত সুনামগরেঞ্জর দিরাই উপজেলার জগদল ২০ শয্যা হাসপাতাল দায়িত্বশীলদের অবহেলা আর উদাসীনতার সাক্ষী। উদ্বোধনের সাত বছর পরও চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি। নিয়োগ করা হয়নি জনবল। রক্ষণাবেক্ষণেরও ব্যবস্থা নেই। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় হাসপাতালের ভেতরে আগাছা ও জঙ্গলে ভরে গেছে। দেখভালের কেউ না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবী ও অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

বিএনপি সরকারের আমলে নির্মিত হাসপাতালটি নষ্ট হতে চলেছে জনপ্রতিনিধি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাবে। এতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ। উদ্বোধনের এতো বছর পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের একটি বড় উন্নয়ন বাঁচিয়ে রাখতে হাসপাতালটিতে সেবা চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জগদল ইউনিয়নের বাসিন্দা তৎকালীন সময়ের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহামানের উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০০৬ সালে হাসপাতালটি নির্মাণকাজ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় হুইফ অ্যাডভোেকট ফজলুল হক আসপিয়া। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি নির্মাণকাজ শেষ করা হলেও স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকে হাসপাতাল চালু হওয়ার বিষয়টি। হাসপাতালে কোনো লোকবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ কিংবা সুযোগ সুবিদা ছাড়াই ২০১৩ সালে নামকাওয়াস্তে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। উদ্বোধনের সাত বছর পর এক দিনের জন্যে চালু হয়নি চিকিৎসা সেবা।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান বলেন, সরকার অনেক টাকা ব্যয় করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য হাসপাতাল নির্মাণ করে দিল। অথচ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সরকারি সম্পদটি নষ্ট হতে চলেছে। হাসপাতালটি ২০১৩ সালে নামকাওয়াস্তে উদ্বোধন হলেও কোনো সেবা চালু হয়নি। অবহেলা আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে হাসপাতালটি। এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, আমি নিয়োগের পর পরই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিটি পাঠিয়েছি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেন গুপ্তা বলেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থা থাকায় হাসপাতালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসপাতালটি হস্তান্তর করেনি। আমরা চেষ্ট চালাচ্ছি হাসপাতালের উন্নয়ন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হাসপাতালটি বুঝে নিতে। হাসপাতালে ডাক্তার নিয়োগসহ যাবতীয় সেবা চালু করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই হাসপাতালটি চালু করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।