আলোকিত মানুষের মডেল

ঢাকা, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২০ | ২১ শ্রাবণ ১৪২৭

আলোকিত মানুষের মডেল

আলতাফ হোসেন ৩:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯

print
আলোকিত মানুষের মডেল

আলোকিত মানুষের মডেল ও উন্নয়নের রূপকার থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা। বিনয়ী, পরিশ্রমী, শিক্ষানুরাগী ও মানবতার মূর্ত প্রতীক এই মানুষটি মেধা ও সততা দিয়ে গড়ে তুলেছেন বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন নানা সম্মাননা। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সিনিয়র প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

আবদুল কাদির মোল্লা। থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি সফল শিল্পপতি ও দানবীর। একজন আলোকিত মানুষের মডেল ও উন্নয়নের রূপকার। মানবতার মূর্ত প্রতীক, শিক্ষানুরাগী নরসিংদীবাসীর গর্ব, অহংকার। নরসিংদীকে আদর্শিক ও নৈতিক জেলা, শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত করার লক্ষ্যে ‘মানুষ মানুষের জন্য, সেবাই আমাদের অঙ্গীকার’ এই মিশন এবং ভিশন নিয়ে গড়ে তোলেন পিতার নামে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হতে আয়ের ২৫ শতাংশ ব্যায় করেন মানবকল্যাণে। দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার ভিশন নিয়ে ১৯৯৫ সালে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন পাঁচকান্দি ডিগ্রী কলেজ। ২০০৬ সালে নরসিংদী শহরে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের নামে আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। পরপর তিনবার দেশের মধ্যে ২য় স্থান। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠা করেন স্ত্রীর নামে এনকেএম হাই স্কুল এন্ড হোমস ও আব্দুল কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এই প্রতিষ্ঠান চারটি মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন কর্তৃক সরাসরিভাবে পরিচালিত।

এছাড়াও নরসিংদী জেলার ১৫১ টি স্কুল, ৫৭টি কলেজে অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। অনেক স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাতেও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ৮৫টা এতিমখানা উনার অনুদানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ৩১৫টা স্কুলে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন এর এফডিআর রয়েছে, যা থেকে খন্ডকালীন শিক্ষকদের বেতনসহ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করা হয়। যার অর্থায়নে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর ১ম ছাত্রহল (নির্মাণাধীন), ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথসহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে থার্মেক্স গ্রুপের দেয়া বাস আছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদ উদ্ভোধন করেন সম্প্রতি। এফডিসিতেও মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। নরসিংদীর জেলায় গড়ে তোলেন অসংখ্য মসজিদ। এর মধ্যে অন্যতম বেলাব বাজার জামে মসজিদ। এতে ১২ হাজার মানুষ একসাথে নামাজ পড়তে পারেন। তার মতে, প্রতিবন্ধকতা ছাড়া কোনো কাজই নেই। শুধু ব্যবসা জীবন না, সাধারণ জীবনেও অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে। তবে সৎ ইচ্ছা, সৎ চিন্তা ও সৎ শ্রম থাকতে হবে। আপনার চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি, দর্শন, সততা, ধৈর্য ও সাহস যদি ঠিক থাকে, তাহলে কোনো কাজকেই বাধা দিয়ে থামানো যাবে না।

তিনি বলেন, ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা নয়, মানবকল্যাণও। দানের মধ্য দিয়ে যে আত্মতৃপ্তি লাভ করা যায়, তা আর কোনোটার মধ্যেই নেই। তাই নিজের আত্মতৃপ্তি, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়ে বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এক সময় সুবিধাবঞ্চিত ছিলাম। তাই সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো কী ধরনের কষ্ট পায়, কী কী বিষয় তাকে পীড়া দেয়, আঘাত দেয়, সে অনুভূতি আমি বুঝি। তবে আমি সুবিধাবঞ্চিত ছিলাম বিধায় এ ধরনের কাজ করছি এটা ভুল। একটা উপলব্ধি থেকে, নিজের একটা দায়িত্ববোধ থেকে কাজগুলো করছি। তা ছাড়া মানুষ হিসেবে এটা আমার সামাজিক দায়বদ্ধতা, ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। আমি যদি কারও জন্য কিছু করতে পারি তাহলে দীর্ঘমেয়াদি আত্মতৃপ্তি থাকবে। পক্ষান্তরে মানুষও উপকৃত হলো।

প্রচারবিমুখ কাজে বিশ্বাসী আব্দুল কাদির মোল্লা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই কাজ করেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে শনিবার দিন তিনি চিকিৎসা সেবা, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতাকে সহায়তা, বেকার যুবকদের অল্প পুঁজি দিয়ে ব্যবসায় সহায়তা, রিকশা-ভ্যান দিয়ে সহায়তা, বিধবা নারীদের সেলাই মেশিন, আবাসন ব্যবস্থা, টিউবওয়েল ইত্যাদি দিয়ে সহায়তা করে থাকেন।

একনজরে আবদুল কাদির মোল্লা
আব্দুল কাদির মোল্লা নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার পাঁচকান্দী গ্রামে ১৯৬১ সালের ৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। থার্মেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান, দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী। একে একে প্রতিষ্ঠা করেছেন ১২টি প্রতিষ্ঠান। যাতে কাজ করছেন প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার অনুদানে চলছে অন্তত একশ’রও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ মাত্র ১৬০ টাকার অভাবে সেই তিনিই একদিন অংশ নিতে পারেননি এইচএসসি পরীক্ষায়। সেই কষ্ট তাকে এখনো তাড়া করে ফেরে।

জীবনে প্রথম ধাক্কাটা খান ১৯৭৪ সালে অষ্টম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় বাবা আবদুল মজিদ মোল্লার মৃত্যুতে। সে সময় টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় বাবার মৃত্যু এখনো বিমর্ষ করে তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় কাদির মোল্লাকে। তাই বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুস্থ মানুষদের সেবা করে সেই কষ্ট কিছুটা হলেও ভুলে থাকতে চান। দিনমজুর বাবার বড় ছেলে কাদির মোল্লা অনেক চড়াই উতরাই পার করে এসেছেন আজকের অবস্থানে। টিউশনি আর সপ্তাহে দুদিন মাথায় কাপড়ের বোঝা বহন করে পাস করেছেন এসএসসি। টাকার অভাবে পৌঁছাতে পারেননি উচ্চ শিক্ষার দরজায়। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৬০ টাকার মধ্যে ২০০ টাকা ধার করে জোগাতে পারলেও বাকি টাকা না থাকায় পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি। সেই কষ্ট বুকে চেপে সিদ্ধান্ত নিলেন ঢাকায় এসে রিকশা চালাবেন। চড়ে বসলেন ‘ভাই ভাই’ পরিবহনের বাসে। ভাড়া না থাকায় নরসিংদীর ইটাখোলায় নামিয়ে দিলেন কন্ডাক্টর। সেখানে ময়মনসিংহ থেকে আসা কামলাদের কাছে অনুরোধ করে পাট ও আউশ ক্ষেতে চার দিন কাজ করলেন। সেই মজুরির ৪ টাকাই তার জীবনের প্রথম পুঁজি।

এবার ঢাকার উদ্দেশে চাপলেন ট্রেনে। তাতেও বিপত্তি। ভুল ট্রেনে উঠে নামলেন মদনগঞ্জে। তবে এই ভুল ট্রেনই জীবনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মনে করেন এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। সকালে ট্রেন থেকে নেমেই পত্রিকার পাতায় চোখ পড়লো ‘মেরিন টেকনোলজি’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি। মাসে ১০ টাকা স্টাইপেন, ফ্রি ছাত্রাবাস আর তিন বছরের কোর্স শেষে চাকরির নিশ্চয়তা। খুব বেশি না ভেবেই ভর্তি হলেন। এখানেও লড়াই করতে হয়েছে তাকে। সোনাকান্দায় ১৪ বাচ্চা পড়িয়ে খেয়েছেন এক বেলা। তিন বছরের কোর্সের ২ বছর শেষ করতেই সিঙ্গাপুরে চাকরির ডাক পড়লো। পাঁচ বছর চাকরি শেষে দেশে ফিরে চাকরি নিলেন তিতাস গ্যাসে। মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে ঘন ঘন বদলি তাকে বিরক্ত করলো। দায়ী করলেন রাজনীতি না করাকে। এবার সিদ্ধান্ত নিলেন চাকরি ছেড়ে ব্যবসা করবেন। সেই শুরু, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো এক ভাইয়ের, আর অনেক আগেই অসুখে মারা গেছেন বোনটিও। মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী, তিন মেয়ে, ইঞ্জিনিয়ার দুই মেয়ে জামাই ও নাতি-নাতনীদের নিয়ে জীবনের বাকি সময়টা কাটাতে চান নরসিংদীর নিজ বাসা ‘পড়ন্ত বেলা’য়। বড় ব্যবসা আর পরিবারকে সময় দিতে নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করেন তিনি। সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে যান নিজ বাসায় প্রতিষ্ঠিত ব্যায়ামাগারে। প্রায় এক ঘণ্টা ব্যায়াম করে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বেরিয়ে পড়েন কারখানার উদ্দেশে।

আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের সাফল্য
নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ ঢাকা বোর্ডে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। ২০১৮ মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। এ বছর কলেজ থেকে ৩৩৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে সবাই পাস করেছেন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩০৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া ১৪০ জনের মধ্যে ১২৯ জন, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ১২৬ জনের মধ্যে ১২২ জন ও মানবিক বিভাগের ৬৮ জনের মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এবারই প্রথম মফস্বলের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেধাতালিকায় সেরা তিনের মধ্যে স্থান করে নিল।

কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত চারবার শত ভাগ পাসসহ ২০০৯ সালে ঢাকা বোর্ডে পঞ্চম ও সারা দেশে ষষ্ঠ, ২০১০ সালে জেলার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০১১ সালে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় সপ্তম ও শত ভাগ পাসে চতুর্থ স্থান দখল করে। ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে এবারও শত ভাগ পাসসহ ঢাকা বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নেয় গ্রামের এই কলেজ।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল কাদির মোল্লা কলেজের সাফল্যে উচ্ছাস বলেন, নরসিংদীতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের অঙ্গীকার নিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজ স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, সার্থক হয়েছে আমার জীবন। এ সাফল্য সামনে এগিয়ে চলতে আরও অনুপ্রাণিত করবে। আমরা প্রমাণ করতে পেরেছি, মফস্বলের খেটে খাওয়া মানুষের সন্তানেরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলেও তাদের পক্ষে ভালো ফল করা সম্ভব। প্রচেষ্টার এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ সাফল্য আমার একার নয়, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো নরসিংদীবাসীর। এ সাফল্য পুরো মফস্বল এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

কলেজের অধ্যক্ষ মশিউর রহমান মৃধা বলেন, এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে অবদান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা স্যারের। ওনার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পেরেছি।

এ সাফল্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। দেশের সব কলেজের শিক্ষকেরা যদি সৎ ইচ্ছা ও আন্তরিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করেন, তাহলে সাফল্য অর্জন করা মোটেও কঠিন কিছু না।

থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল কাদির মোল্লা ২০০৬ সালে নরসিংদীতে নিজ নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ৪২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে কলেজটি পরিচালিত হচ্ছে।

ঢাকা বোর্ডের মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন। তাই নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের এ উল্লাস।

এফডিসিতে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ
চলচ্চিত্রপাড়ায় চাকরিরত বিভিন্ন সেক্টরের নামাজি কর্মচারীদের সুবিধার্থে এফডিসিতে দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদের অনুমোদন পাস করেছেন দানবীর আবদুল কাদির মোল্লা। থারমেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লা এ অনুমোদন পাস হয়। তার ঘনিষ্ঠজন চিত্রনায়ক সনি রহমান মসজিদ নির্মাণের তত্ত্বাবধানে আছেন।

সনি জানান, মসজিদ নির্মাণের জন্য এফিডিসি বা সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। কাদির মোল্লার অর্থায়নেই আগামী মাসে এর কাজ শুরু হবে।

জায়েদ খান বলেন, আবদুল কাদির মোল্লা রাজি হবার পর আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে বর্তমান মসজিদটি ভাঙার কাজ শুরু করি। এতদিন একটা অস্বস্তি কাজ করছিল। শঙ্কা ছিল ভাঙার কাজ শুরু করেছি, নতুনটা হবে তো? এবার মসজিদের কাজ শুরু করার অনুমতি পাওয়া গেছে। ভালো লাগছে।

এফডিসির এমডি আমির হোসেন বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কেউ কিছু দান করতে চাইলে সেখানেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। নির্দিষ্ট মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করে সেখান থেকে অনুমতি নিতে হয়। এসব কারণেই কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

এর আগে কাদির মোল্লা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শতাধিক মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন।

নরসিংদী এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত পনেরোটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কম করে হলেও পঁচিশ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছেন তিনি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বহু কর্মকান্ডে তার আর্থিক অনুদানের কথা এলাবাসির মুখে মুখে। এ শিল্পোদ্যাক্তার উল্লেখযোগ্য অবদানের মধ্যে অন্যতম ‘নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা কলেজ’।

ঢাকা কলেজকে পাঁচটি বাস
ঢাকা কলেজের দীর্ঘদিন যাবৎ চলমান পরিবহন সংকট সমাধান করার জন্য শিক্ষার্থীদের চারটি বাস ও শিক্ষকদের একটি মাইক্রোবাস প্রদান করার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষানুরাগী দানবীর আব্দুল কাদির মোল্লা।

ঢাকা কলেজের শহীদ নজিবুদ্দিন খান খুররম অডিটোরিয়ামে আপন আলোয় মানব জীবনের সংগ্রাম ও সাফল্য শীর্ষক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন।

অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে থার্মেক্স গ্রুপ
১৯৯৮ সালের আগে ঠিকাদারি দিয়ে শুরু। একই বছর নরসিংদীতে মাত্র ৫২০ জন কর্মী নিয়ে তৈরি পোশাক কারখানা প্রতিষ্ঠা। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বস্ত্র খাতের আরও প্রতিষ্ঠান। এখন থার্মেক্স গ্রুপের ১৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর সবই শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা। থার্মেক্স গ্রুপ প্রতিবছর এক হাজার ২০০ কোটি টাকার তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৬ হাজার ৭৫৩ জন কর্মী রয়েছেন। আমাদের নিট ও ওভেন দুই ধরনের পোশাক কারখানা রয়েছে। আর এ দুই খাতের পুরোপুরি কম্পোজিট কারখানা, যা এ দেশে খুব কমই রয়েছে। দুই যুগ ধরে সামাজিক দায়িত্ব বিশেষ করে শিা খাতের প্রসারে কাজ করছে।

তিনি বলেন সর্বোচ্চ করদাতা হওয়ার আগে নিজের ব্যবসাবাণিজ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্মাননা পাওয়ার পর এখন সেই কষ্ট আর আনন্দ একাকার হয়ে গেছে।

আমি ২৬ বছর ধরে কর দিচ্ছি। ভাবতে ভালো লাগে, জাতির জন্য কিছু করতে পারছি। এ ধরনের সম্মাননা পাওয়ার পর দেশের জন্য আরও কিছু করার উৎসাহ বেড়েছে। দেশ ও জনগণকে ভালো রাখাই রাষ্ট্রের কাজ। সামর্থ্যবান নাগরিক হিসেবে আয়ের কিছুটা অংশ সরকারকে দেওয়া উচিত।

আর সেই টাকা জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করে সরকার। তাই সামর্থ্যবানদের কর দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। উপার্জনের অর্থ শুধু নিজের নয়, সমাজ ও জাতির কল্যাণের জন্য। তাই নিজের উপার্জিত অর্থ কুগিত করা কিংবা এককভাবে ভোগ করার বিষয় নয়।