স্থাপনা শিল্পের দিকপাল

ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

স্থাপনা শিল্পের দিকপাল

আলতাফ হোসেন ২:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৯

print
স্থাপনা শিল্পের দিকপাল

শিল্প বিকাশে সফল উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম দিকপাল আবদুল মোনেম। বিনয়ী ও পরিশ্রমী এই মানুষটি মেধা ও সততা দিয়ে দেশের বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন সুনামের সঙ্গে। অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’সহ নানা সম্মাননা। প্রতিবেদন তৈরি করেছেন সিনিয়র প্রতিবেদক আলতাফ হোসেন

আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে সফল উদ্যোক্তার প্রতীক। বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই চলেছেন।

অত্যন্ত পরিশ্রমী, দক্ষ ও দূরদর্শী এই উদ্যোক্তা যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তার জীবনের প্রায় পুরোটাই ব্যয় করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসিমুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যবসায় দিয়ে অসম্ভব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ‘রাষ্ট্রপতি শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৯৫৬ সালে এএমএল কনস্ট্রাকশন দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর একে একে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন শিল্প কারখানা। সফল ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়েছে কোম্পানিটি।

বর্তমানে আবদুল মোনেম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মোনেম তার সুযোগ্য দুই সন্তানকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন যোগ্য নেতৃত্ব। এএসএম মইনউদ্দিন মোনেম এবং অন্যজন মহিউদ্দিন মোনেম প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্মাণ খাতে দীর্ঘ ছয় দশকের অভিজ্ঞতা আব্দুল মোনেম লিমিটেডের। ‘টাচিং লাইভস, বিল্ডিং ক্যাপাবিলিটিস’ স্লোগান নিয়ে দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সফলভাবে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড। ক্রমেই ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ঈগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লিমিটেড এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কোক ঈগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার।

আবদুল মোনেম লিমিটেড
প্রায় ১৫ হাজার কর্মশক্তি
অভিজ্ঞ পেশাদারের সমন্বয়ে টিম গঠন
নির্মাণ শিল্পে সর্বাধিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার
অটো-ইট, বিটুমিন ইমালসন এবং অ্যাসফল্ট রেডি-মিক্স কংক্রিটের নিজস্ব উৎপাদন
দেশের কৌশলগত অবস্থানগুলোতে বিপুল পরিমাণ জমি
এক নম্বর আইসক্রিম ব্র্যান্ড-ঈগলু, কোকা-কোলার মতো নামি গ্লোবাল ব্র্যান্ডের বোতলজাত কোমল পানীয়
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে পণ্য ও সেবা সরবরাহের ক্ষমতা


শিক্ষা ও সেবায় অনন্য
ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেশ ও সমাজের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছে। আবদুল মোনেম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় অবদানসহ অনাথ আশ্রম চালাচ্ছে যথাযথ সহানুভূতি ও যত্নের সঙ্গে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজেশ্বরে ৫২ একর জমি দান করেছেন। এখানে বিনামূল্যে শিক্ষার জন্য স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অনাথ আশ্রমসহ পানির জন্য একটি বড় পুকুর রয়েছে। এছাড়া জাতীয় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, গরমের সময় বিনামূল্যে পানীয় জল সরবরাহ, দরিদ্র ও অভাবী গর্ভবতী মায়েদের বিনামূল্যে ভিটামিন সরবরাহ, নিরাপদ পরিবেশের জন্য গাছ লাগাতে উৎসাহিতকরণসহ শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


আউটসোর্সিংয়ে চমক
আবদুল মোনেম লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মহিউদ্দিন মোনেম। এ ছাড়া বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং কোম্পানি সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি জাতীয়ভাবেও স্বীকৃতির পুরস্কার পেয়েছেন মহিউদ্দিন মোনেম। হাইটেক শিল্পে অবদানের জন্য তিনি এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, তথ্যপ্রযুক্তি ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে অবদানের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফিতে স্বর্ণপদক ও বিগত কয়েক বছর সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবেও পুরস্কৃত হয়েছেন। মহিউদ্দিন মোনেম বাংলাদেশে চেক সরকারের সম্মানসূচক দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরে তিনি সরকারের মনোনীত সিআইপি।
মোনেমের পথচলা শুরু হয় উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি (বোস্টন) থেকে ১৯৯১ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট অনুষদে মাস্টার্স ডিগ্রিও লাভ করেন। দেশে ফিরে পারিবারিক ব্যবসাতেই মন দেন তিনি। তার নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা দিয়ে পারিবারিক ব্যবসার আরও বিস্তৃতি ঘটান।

সেই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে মাত্র ছয়জন কর্মী নিয়ে সার্ভিসইঞ্জিনবিপিও কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালে যখন কেউ বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিংয়ের কথা ভাবতেও পারেননি, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পার্টনারের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সেবাধর্মী কিছু কাজ করেন। পাইলট প্রকল্পটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতকে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করা ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি তরুণদের ওপর আস্থা রাখেন। প্রায় ৬০ জন তরুণকে ট্রেনিং দিয়ে কাজটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করেন। ওই প্রকল্পের কাজের মান, উৎপাদন দক্ষতা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনা দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটি তাদের সঙ্গে স্থায়ীভাবে কাজ করতে সম্মত হয়।

মাত্র ছয়জন নিয়ে শুরু করা প্রতিষ্ঠানের কর্মী সংখ্যা এখন পাঁচ শতাধিক। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও যুক্তরাজ্যের কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং কোম্পানি সার্ভিসইঞ্জিনের দেশের বাইরেও বিভিন্ন স্থানে সেবাকেন্দ্র রয়েছে। তারা বিভিন্ন দেশে ব্যাক অফিস প্রসেসিং, ডিজিটাল অ্যাডভারটাইসিং অপারেশন, ওয়েব এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডেটা এগ্রিগেশন, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স এবং ফিনান্সিয়াল রিস্ক কমপ্লায়েন্স সেক্টরে সেবা প্রদান করে থাকে।

 

অর্থনৈতিক জোনে ভিন্ন শিল্প
আবদুল মোনেম লিমিটেডের যাত্রা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে স্থাপন হয়েছে আলাদা শিল্প ইউনিট। এর মধ্যে ১৯৮২ সালে আইসক্রিম ও বেভারেজ, ২০০০ সালে ম্যাঙ্গো পাম্প প্রসেসিং, ২০০৪ সালে ঈগলু ফুডস, ড্যানিস বাংলা ইমালশন, সিকিউরিটি ও ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ঈগলু ডেইরি প্রোডাক্টস, ২০০৭ সালে সুগার রিফাইনারি ও এম এনার্জি, ২০০৮ সালে নোভাস ফার্মাসিউটিক্যালস, ২০১০ সালে এএম অ্যাসফল্ট অ্যান্ড রেডিমিক্স, ২০১২ সালে এএম অটো ব্রিকস, ২০১৪ সালে এএম ব্র্যান্ড অয়েল কোম্পানি।

এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৃহৎ কমসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে হয়েছে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরবাউশিয়ায় ‘আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল’। এর পাশাপাশি আব্দুল মোনেম লিমিটেড অর্থনৈতিক সেবা, প্রযুক্তি খাতে আউটসোর্সিং, কর্মশক্তি সরবরাহকারী হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। গ্রাহকদের জন্য উন্নত পণ্য তৈরিতে ও তাদের সেবাদানে এএমএল-এ ১৫ হাজার দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলসভাবে কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আইসক্রিমের পাশাপাশি দুগ্ধজাত ও খাদ্যপণ্যে বাজারের চাহিদা পূরণে যাত্রা শুরু করে ঈগলু ডেইরি ও ঈগলু ফুডস লিমিটেড। দৈনিক ৫ হাজার লিটার থেকে শুরু করে বর্তমানে ঈগলু ডেইরি লিমিটেড প্রতিদিন ১৪ হাজার লিটার দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করছে। দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে রয়েছে গুঁড়া দুধ, ইউএইচটি, এফসিএমপি, ঘি ও বাটার। শ্যামপুর ও নারায়ণগঞ্জে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ছাড়াও বাঘাবাড়ি ও সিরাজগঞ্জে রয়েছে মিল্ক কালেকশন সেন্টার। এএমএলের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ঈগলু ফুডস লিমিটেড হিমায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিতরণ করে আসছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাবার ও স্ন্যাক্সও তৈরি করে এএমএল।

ড্যানিশ বাংলা ইমালশন লিমিটেড (ডিবিইএল) আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও ডেনমার্কের ইএনএইচ ইঞ্জিনিয়ারিং এ/এস-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। সড়ক ও বিমান ঘাঁটি পথ নির্মাণে স্বয়ংক্রিয় ও অত্যাধুনিক উপায়ে বিটুমিন ইমালসন উৎপাদন করে ডিবিইএল। ডিবিইএল প্রতি বছর ২ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা যোগ করছে দেশের অর্থনীতিতে।

প্রতি বছর দেশে প্রায় ১.২ মিলিয়ন মেট্রিক টন চিনির প্রয়োজন। এ চিনির বেশির ভাগই উৎপাদন করছে আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেড (এএমএসআরএল)।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে পরিবেশবান্ধব ইট তৈরি করতে এএমএলের রয়েছে এএম অটো ব্রিকস লিমিটেড। মেঘনা ঘাট, ছোট রায়পাড়া, গজারিয়া ও মুন্সীগঞ্জে এএম অটো ব্রিকসের প্লান্ট অবস্থিত। মেঘনা নদীর তীরে ১.৭৩ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এএম এনার্জি লিমিটেড। এছাড়া আব্দুল মোনেম লিমিটেডের আরেকটি ব্যবসায়িক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান নোভাস ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।


লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের হাতছানি
আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম মইনউদ্দিন মোনেম একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। সহজ শর্তে ব্যাংক লোন প্রদান করার ব্যবস্থা করছেন। সেই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন। এছাড়াও ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করেছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সুবিধা আমরা যেমনটা চেয়েছি বর্তমান সরকার নতুন পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে শতভাগ সুবিধা ভোগ করছি এবং এই খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৯টি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশ আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার যোগ্য আসন পেতে যাচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে বজায় রাখতে হলে কর্মসংস্থানের কোনো বিকল্প নেই।

লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে হোন্ডা বাংলাদেশ লিমিটেড (বিএইচএল) নামে যৌথ উদ্যোগে কোম্পানি খুলে কারখানা করেছে হোন্ডা করপোরেশন। এ কারখানায় বছরে এক লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করেছে হোন্ডা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

মাইনউদ্দিন মোনেম বলেন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভাড়া বিবেচনা করেই এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভাড়া ঠিক হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসে। এই অঞ্চলকে ‘আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নারী উদ্যোক্তা এবং পাট-সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এই অঞ্চল আগামী ৫ বছরে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান করবে বলে আশা করা যায়।

তরুণরাই আমাদের সত্যিকারের নায়ক
আউটসোর্সিং সেবায় বিশ্ববাজারে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমাদের তরুণরা যথেষ্ট ভালো করছে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও অনেক ভালো। রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও শিক্ষিত তারুণ্যনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে আউটসোর্সিং ইন্ডাস্ট্রি। এজন্য সরকারকে কিছু প্রণোদনা দিতে হবে। বিভিন্ন শিল্পে সরকার যেভাবে প্রণোদনা দিয়ে থাকে, তারুণ্যের মেধার মূল্যায়ন করতে সেভাবে এ ক্ষেত্রেও প্রণোদনা দেওয়া উচিত। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি তরুণদের কাজের উন্নত মান ও নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করার যে ইতিবাচক ইমেজ রয়েছে সেটি সম্প্রসারিত করতে সরকারকে আরও আন্তরিক হওয়া উচিত। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে ভিশন নিয়ে সরকার কাজ করছে সেখানে আউটসোর্সিংয়ে নগদ রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হলে বহু উদ্যোক্তা এ কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত হবে। ভবিষ্যতে এ খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। এ খাতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এমনকি পোশাক শিল্প খাতকেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কাজের খোঁজে নামছেন। আউটসোর্সিংয়ে আসা তরুণদের সৃজনশীলতা প্রশংসনীয়। তারা শিক্ষিত ও দক্ষ। আউটসোর্সিংয়ের মতো কাজে তাদের সুযোগ করে দিতে সরকারের প্রণোদনা বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণরাই আমাদের সত্যিকারের নায়ক। তারাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি তরুণরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে। আউটসোর্সিংয়ে তাদের সাফল্যের কথা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।

ওয়ার্ল্ড গ্রেটেস্ট লিডার অ্যাওয়ার্ড ও রপ্তানিতে টানা ষষ্ঠবার স্বর্ণপদক
এশিয়া ওয়ান ম্যাগাজিনের বিচারে ২০১৮-১৯ সালে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নেতার তালিকায় সার্ভিসইঞ্জিন লিমিটেড এর চেয়ারম্যান এ.এস.এম. মহিউদ্দিন মোনেম। রাজনীতি, ধর্ম থেকে কর্পোরেটসহ সমাজের বিভিন্ন অংশে অবদানের জন্য একশ জন নিয়ে করা এই তালিকায় তিনি শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হন।

এছাড়া সার্ভিস ইঞ্জিন দেশের কম্পিউটার সফটওয়্যার খাতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় রপ্তানিতে টানা ষষ্ঠবার স্বর্ণপদক পান তিনি।