১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারিত প্রচারপত্র

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারিত প্রচারপত্র

বিশেষ আয়োজন ডেস্ক ১:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৮, ২০১৯

print
১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারিত প্রচারপত্র

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের কথা ছিল। তার আগমন উপলক্ষে জাতীয় ছাত্রলীগ নিম্ন লিখিত প্রচারপত্রটি ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করে। প্রচারপত্রটির হুবহু ভাষ্য তুলে দেওয়া হলো-

জাতির জনক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন উপলক্ষে আমাদের শপথ-

অর্জিত শিক্ষা দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করব স্বাগত বঙ্গবন্ধু, জয়তু বঙ্গবন্ধু

ছাত্রছাত্রী ভাই ও বোনেরা,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য চ্যান্সেলর, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগামী ১৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন উপলক্ষে আমাদের মাঝে আসিতেছেন। আমাদের প্রাণপ্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক পরিদর্শনকে ছাত্রসমাজের পক্ষ হইতে আমরা স্বাগত জানাইতেছি।

সংগ্রামী ছাত্রছাত্রী ভাই ও বোনেরা,
একটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর পরিদর্শন ঘটিতেছে। স্বাধীনতা অর্জনের মধ্য দিয়া আমাদের দেশে প্রগতির পথে যে বিপ্লবী ধারার সূচনা হয়, গত তিন বছরে দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও সমাজবিরোধী শক্তিসমূহের ষড়যন্ত্র ও অন্তর্ঘাতমূলক কার্যকলাপের ফলে সেই ধারা ব্যাহত হয়। চোরাকারবারি, মজুদদার, দুর্নীতিবাজদের ঘৃণ্য কারসাজি ও চরম মুনাফা লালসার ফলে জনগণের জীবনে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা নামিয়া আসে। ঔপনিবেশিক আমল থেকে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো এবং পূর্বতন ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এ বাধাসমূহ অপসারিত করা সম্ভব হইতেছিল না। অন্যদিকে শ্রমিক কৃষক বুদ্ধিজীবী ছাত্রজনতার মিলিত কর্মোদ্যোগের মাধ্যমে দেশকে গড়ে তোলার পথেও প্রচলিত ব্যবস্থা অন্তরায় হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। বিপ্লবের অগ্রগতির পথের এই বাধাসমূহ অপসারিত করিবার জন্য বঙ্গবন্ধু দেশের মধ্যে কতকগুলি মৌলিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত করিয়াছেন। শোষিতের গণতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে বুর্জোয়া পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা বাতিল, সমস্ত দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে একটি মাত্র ফোরামে সংগঠিত করিবার জন্য বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন, সমগ্র ছাত্রসমাজকে একটি সংগঠনের পতাকাতলে সংগঠিত হইবার জন্য জাতীয় ছাত্রলীগসহ জাতীয় দলের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনসমূহ ঘোষণা, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি ব্যবস্থাগুলি গত কয়েক মাসে গৃহীত হইয়াছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পুরনো প্রতিক্রিয়াশীল সমাজ ব্যবস্থা ভাঙিয়া নতুন সমাজ নির্মাণের সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি বাকশাল চেয়ারম্যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দিয়াছেন এবং সমাজতন্ত্র ও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করিয়াছেন। আজ নতুন উদ্যমে সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম শুরু হইয়াছে। বঙ্গবন্ধু এই পটভূমিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসিতেছেন।

ছাত্রছাত্রী ভাই ও বোনেরা,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই দেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র, গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বহু সফল সংগ্রামের পথপ্রদর্শক। অতীতের ন্যায় বিপ্লবী ভূমিকা নিয়া ছাত্রসমাজের সামনে আজ নতুন সমাজ নির্মাণের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখিবার কর্তব্য উপস্থিত হইয়াছে। দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের মাধমে শোষিতের গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র নির্মাণের জন্য, যে নতুন ধারার ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হইয়াছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী ছাত্রসমাজ সেই ধারাকে আরও অগ্রসর করিয়া নিয়া যাইবে বলিয়া আমরা দৃঢ় আস্থা পোষণ করি। ছাত্রসমাজ সাফল্যের সঙ্গে এই কাজ করিতে সক্ষম বলিয়া বঙ্গবন্ধু বারবার তাহার আশাবাদ ব্যক্ত করিয়াছেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে তাই আসুন আমরা শপথ গ্রহণ করি নিষ্ঠার সঙ্গে জ্ঞানার্জন, আত্মশিক্ষা, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মগঠন, বিপ্লবী শৃঙ্খলা ও দক্ষতা অর্জন করিয়া দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সমাজতন্ত্র নির্মাণের সৈনিক হিসেবে নিজেদের গড়িয়া তুলি। মাতৃভূমির মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অগণিত শহীদের নামে আমাদের শপথ হোক-শহীদের স্বপ্নসাধ বাস্তবায়ন, অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ ও মেহনতী জনতার মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করিবার জন্য আমাদের তারুণ্য, শ্রম ও জীবনের শ্রেষ্ঠতম সময়গুলি নিয়োজিত করবই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ভাই ও বোনদের কাছে আমাদের আবেদন, আসুন বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য চ্যান্সেলর, আমাদের সমাজ বিপ্লবের সংগ্রামের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই।

১২ আগস্ট ’৭৫
জাতীয় ছাত্রলীগ