ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে এখন চাতাল

ঢাকা, রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে এখন চাতাল

তানজেরুল ইসলাম ও হাসান বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০২০

print
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে এখন চাতাল

গত দুই দশকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন। বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু করার ব্যাপারে বিগত দিনে বিভিন্ন তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল। যদিও সর্বশেষ খবর হলো, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ধান শুকানোর কাজে, চাতালের মতো।

বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে এবং দ্রুত সময়ে ঢাকা গমনে ইচ্ছুক ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের অধিবাসীদের সৈয়দপুর থেকে বিমানে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে যেমন অপচয় হচ্ছে সময় তেমনি বেড়েছে যাতায়াত ব্যয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৪০ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে শিবগঞ্জ-মাদারগঞ্জ এলাকার ৫৫০ একর জমির উপর এই বিমানবন্দরটি স্থাপিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধের বিশেষ কৌশল প্রয়োগের জন্য বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়।

বিমানবন্দটির রানওয়ে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর পশ্চিম প্রান্তে অতীতে ১০টি সাব-রানওয়ে ছিল। এ বিমানবন্দরে কয়েক ডজন যুদ্ধ বিমান লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা ছিল। পাকিস্তান আমলের প্রথম দিকে বিমানবন্দরের সমস্ত জমি ‘আর্মি স্টেট’ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সিভিল এভিয়েশন বিভাগ ১১০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। ওই জমিতে বিমানবন্দরের স্টল ভবন ও রানওয়ে রয়েছে।

আরও জানা গেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল। পরে টানা তিন বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৮০ সালে বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কোটি টাকা ব্যয়ে রানওয়ে মেরামত, টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও বিদ্যুতায়নের কাজসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। বিগত দিনে এয়ার বেঙ্গল ও বোরাকসহ ৬টি বেসরকারি সংস্থা ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রুটে স্টল বিমান সার্ভিস চালু করতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করে। যদিও সেই চুক্তি আর আলোর মুখ দেখেনি।

অপরদিকে, এ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানের টিকিট বুকিং দেওয়ার জন্য ঠাকুরগাঁও জেলায় রয়েছে কয়েকটি বুকিং এজেন্সি।

এজেন্সিগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন যাত্রী বিমানের টিকিট সংগ্রহ করছেন। ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যাবে বলে বুকিং এজেন্সিগুলোর অভিমত।

ঠাকুরগাঁও মাহিন ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলসের পরিচালক মুরাদ হোসেন জানান, গত কয়েক বছরে বিমান যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। টিকিটের চাহিদা বেড়েছে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক রুটের।

এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘আপাতত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করার পরিকল্পনা নেই।’