অভিভাবকদের প্রতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

পাঠকের চিঠি

অভিভাবকদের প্রতি

শরীফুল ইসলাম শরীফ ১০:০৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০২০

print
অভিভাবকদের প্রতি

নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা প্রায় সবাই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। নানা রকম উদ্বেগের মধ্যে একটি হলো সন্তানদের পড়াশোনা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগটা একটু বেশি। কেননা এ বয়সী শিক্ষার্থীরা সাধারণত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও সহযোগিতায় পড়াশোনা করে থাকে।

করোনার কারণে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। পড়াশোনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতো সম্মানিত শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ এক প্রকার উৎকণ্ঠা নিয়ে সময় পার করছেন। এখন শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত। তাই সম্মানিত অভিভাবকদের পালন করতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। এখন যেহেতু সবাই একপ্রকার গৃহবন্দি সেহেতু সন্তানদের জন্য পিতামাতাই দিকনির্দেশক, শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে রয়েছে পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত সিলেবাস। শুরুতেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে অভিভাবকরা বিষয়ভিত্তিক কার্যকরী একটি রুটিন করে নিতে পারেন।

এভাবে বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস অনুযায়ী সন্তানদের পাঠদান করতে পারেন, করতে পারেন নিয়মিত তদারকি। তাতে শিক্ষার্থীরা পাঠের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। পঠিত বিষয়গুলো যতটুকু পারা যায় প্রতিদিন যেন তারা লেখে এ ব্যাপারে তাদের তাগিদ দিতে হবে। এ সময়ে সংসদ টেলিভিশনে সরকারি উদ্যোগে আয়োজিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা যেন ঘরে বসেই এই শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এখন যেহেতু ঘরে বসে সহজেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় তাই শ্রেণি-শিক্ষক বা বিষয় শিক্ষকদের সঙ্গে প্রয়োজনে যোগাযোগ করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীরা যাতে অহেতুক সময় নষ্ট না করে, বাইরে বের হতে না পারে, ইন্টারনেটে সময় নষ্ট না করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। দীর্ঘদিন গৃহে অবস্থান করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি পেয়ে বসেছে। তাই বাবা-মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের উচিত হবে তাদের সঙ্গে আন্তরিক ও আনন্দপূর্ণ ব্যবহার করা। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক ছাড়াও অন্যান্য বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়াটাও ভালো কাজ হবে। সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে পারলে তাদের সময়টা ভালো কাটবে। এ সময় তাদের প্রতি কঠোরতা পরিহার করাই ভালো।

শিক্ষকদেরও উচিত হবে, এ সময় নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে হলেও যোগাযোগ রক্ষা করা, খোঁজখবর রাখা। অবশ্য ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকের সুষ্ঠু সমন্বয় ও যোগাযোগের মাধ্যমে শিক্ষা-কার্যক্রম ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে যায়। এই সংকটকালে এ বিষয়টি ভালোভাবে মাথায় রাখতে হবে।

 

 শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা), আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা