সৌজন্য কপি নয়, বই কেনার অভ্যাস করুন

ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

পাঠকের চিঠি

সৌজন্য কপি নয়, বই কেনার অভ্যাস করুন

সোহেল দ্বিরেফ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

print
সৌজন্য কপি নয়, বই কেনার অভ্যাস করুন

আমরা জানি- গল্প, কবিতা বা উপন্যাস টাইপের বইগুলোর কোনো সৌজন্য কপি হয় না, সৌজন্য কপি হয় লেকচার, পাঞ্জেরী, জননী, ওরাকল, কনফিডেন্স ইত্যাদি গাইডের।

বইমেলা এলেই যেন শব্দটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারণ হয়। বিশেষ করে নবীন লেখকদের ক্ষেত্রে! আপনি নিজের টাকা দিয়ে যখন বই কিনবেন অবশ্যই একটা ভালো বই কিনবেন। সেটা যেকোনো লেখকের হতে পারে। একজন লেখকের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো তার মানে তার বই কিনতে হবে এটা একেবারে ভিত্তিহীন কথা।

আমার মতো যারা নতুন লেখক আছেন তাদেরও সবসময় বলি, আর কিছু করেন না করেন অন্তত বই কাউকে ফ্রি দেবেন না। সে যতই কাছের মানুষ হোক না কেন! বইপড়ুয়ারা কখনো সৌজন্য কপি চায় না। সৌজন্য কপি চায় অতি আবেগিরা! তারা বড়জোর একবার উল্টেপাল্টে দেখবে তারপর নাক উঁচু করে টেবিলে ফেলে রাখবে! সময় যাবে বইয়ের ওপর ময়লার আস্তরণ পড়বে।

তারা বই পড়বেও না, মতামত দেবে না। বড়জোর বলবে, বইয়ের বাইন্ডিং নরমাল, শব্দগুলো ঠাসাঠাসি করা, নামটা অন্যরকম হতে পারত অথবা প্রচ্ছদ অমুককে দিয়ে করালে আরও গর্জিয়াস হতো ইত্যাদি!

হঠাৎ করে সময়ের পরিক্রমায় উক্ত বইয়ের লেখক শুভাকাঙ্ক্ষীর টেবিলে তার বইয়ের এলোমেলো অবস্থা দেখলে কষ্টে বুকটা ছিঁড়ে যাবে! এ জন্য বলি, বই বিক্রি না হলেও নিজের কাছে রাখুন। অন্তত আপনার সন্তান আপনার কাছে নিরাপদে থাকবে।

সৌজন্য কপিকে না বলুন। প্রিয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা কখনো জিজ্ঞেস করবেন না, বই কেমন চলছে, কত কপি বিক্রি হয়েছে বা বই করতে কত টাকা খরচ হয়েছে। সত্যিই এটা একটা অসৌজন্যমূলক আচরণ!

আপনি লেখকের প্রিয় কেউ হলে লেখক অবশ্যই আপনার ঠিকানায় বই পৌঁছে দেবেন। বলে কয়ে অন্যকিছু হওয়া গেলেও অন্তত কারও প্রিয় হওয়া যায় না। বই হোক সব সময়ের বন্ধু।

সোহেল দ্বিরেফ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর