সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই

মাহমুদ আহমদ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

print
সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম নেই

দেশ-বিদেশে সর্বত্র জঙ্গিদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে মসজিদে নামাজ আদায়কালে সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় অর্ধশত নিহত হয়েছেন এবং আহত হন অনেকেই। দেখা যায়, যেখানেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা হতো তার দায় এসে পড়ে মুসলমানদের ওপর কিন্তু এবার এই নির্মম কর্মকাণ্ডটি পরিচালিত হয়েছে অন্য ধর্মের একজন মানুষের দ্বারা। তবে আমরা মনে করি, এমন ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো মুসলিম করুক বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যেই করুক না কেন তার পরিচয় সন্ত্রাসী। কেননা কোনো ধর্মেই এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের শিক্ষা পাওয়া যায় না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যাদের উপাস্যরূপে ডাকে তোমরা তাদের গালমন্দ করো না। নতুবা তারা শত্রুতাবশত না জেনে আল্লাহকেই গালমন্দ করবে।’ (সুরা আন আম : ১০৮)। এ আয়াতে শুধু প্রতিমা পূজারিদের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নির্দেশ দান করা হয়নি বরং সব জাতি এবং সম্প্রদায়ের মাঝে বন্ধুত্ব এবং সৌহার্দ্য স্থাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

ইসলাম এমন এক শান্তির ধর্ম, যার প্রতিটি শিক্ষায় রয়েছে কেবল শান্তি আর শান্তি। ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে কারও ওপর আক্রমণ, গালিগালাজ করা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার শিক্ষা ইসলামে নেই। একজন মুসলমানের কী বৈশিষ্ট্য হওয়া চাই সে বিষয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম।’ একজন প্রকৃত মুসলমানের দ্বারা অন্য কেউ কষ্ট পাবে এটা হতে পারে না। কারণ ইসলাম ধর্মের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্ব হলো, ইসলাম প্রত্যেক মানুষকে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে। ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে যারা অন্যের ওপর চড়াও হয় তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুসারী তো নাই বরং অন্য কোনো ধর্মেরই অনুসারী হতে পারে না।

মাহমুদ আহমদ, ঢাকা।