উৎকোচে সাজানো হয় আত্মীয়স্বজন!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

উৎকোচে সাজানো হয় আত্মীয়স্বজন!

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

print
উৎকোচে সাজানো হয় আত্মীয়স্বজন!

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আউটডোরে গুণগতমানের সেবা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন সারা দেশ থেকে হাজারো মানুষ ভিড় জমান।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। সহ্য করতে হয় নিদারুণ কষ্ট। কিন্তু সুচিকিৎসার আশায় তারা তা মনে নিচ্ছেন। তবে বিএসএমএমইউয়ের একশ্রেণির কর্মচারী ৫০ থেকে ১০০ টাকা উৎকোচ নিয়ে সাধারণ রোগীদের সুযোগ করে দেওয়ায় অন্যদের পড়তে হয় দুর্ভোগে।

গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, আউটডোরের ১ নম্বর ভবনের প্রবেশপথ থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে রোগী ও তাদের সঙ্গে অভিভাবক-স্বজনদের ভিড়।

রোগীরা জানান, মাত্র ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু বিভাগ ও সাব স্পেশালিটি বিভাগের ডাক্তার দেখিয়ে উন্নত চিকিৎসা লাভের সুযোগ পেতে তারা এখানে ছুটে আসেন। বিএসএমএমইউ আউটডোরে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে ১০ হাজার রোগীর আগমন ঘটে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ডাক্তার-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা খুবই ব্যস্ত সময় কাটান। জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

তবে একাধিক রোগী জানান, বিএসএমএমইউ আউটডোরে রোগীদের জন্য সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা বিএসএমএমইউ কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য রাখা পৃথক কাউন্টার। টিকিট সংগ্রহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, টাকা জমা দেওয়া কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ডেলিভারি নেওয়ার জন্য বিভিন্ন কাউন্টারে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার আছে। প্রতি তিনজনে একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার-পরিজনের টিকিট দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, বিএসএমএমইউয়ের একশ্রেণির কর্মচারী ৫০ থেকে ১০০ টাকা উৎকোচ নিয়ে সাধারণ রোগীদের আত্মীয় বানান। ফলে ওই কাউন্টারে ভিড় লেগেই থাকে। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বজনদের তর্ক-বিতর্ক এমনকি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।