ফাঁকা ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা

ঢাকা, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফাঁকা ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

print
ফাঁকা ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চুরি-ছিনতাইসহ যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, ডিবি, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর থাকবে। ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল থাকবে। ঈদের জামাতেও থাকছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। পুলিশ ও র‌্যাবের পোশাকধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্যরাও তৎপর থাকবেন।

পুরোনগরী থাকবে গোয়েন্দা নজরদারিতে। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠীর হুমকি নেই বলেও জানা গিয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদেরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। কূটনৈতিক এলাকা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে থাকবে বিশেষ নজরদারি। তাছাড়া নগরজুড়ে থাকছে চেকপোস্টসহ বিশেষ টহল টিম। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সব সময়ই ফাঁকা ঢাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

তাছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়ি এবং ফ্ল্যাট মালিক সমিতিকে নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কিছু সতর্কমূলক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যারা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ উদযাপন করছে তারা মহানগরে ফিরে আসা পর্যন্ত এই নিরাপত্তা বজায় থাকবে।

পাশাপাশি নগরীর নিরাপত্তায় এলাকাভিত্তিক বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করে যাবে। পুলিশের পাশাপাশি কাজ করবে র‌্যাব। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক ও আইন ও গণমাধ্যম শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল ইমরানুল হাসান বলেন, র‌্যাবের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদের দিনেও বিশেষ নিরাপত্তায় থাকবে ঢাকায়। টহল, চেক পোস্ট ও পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে না পারে তার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনসহ অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের প্রতি বিশেষ নজরদারি থাকবে।

রাজধানীর ঈদ জামাতে ৫ স্তর নিরাপত্তা

ঈদুল আজহার জামাতকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল শনিবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে সবচেয়ে বড় জামাত জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। এসব ঈদ জামাতকে ঘিরে সুদৃঢ়-সমন্বিত এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় ঈদগাহ ও বায়তুল মোকাররমে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঈদের জামাতে মুসল্লিরা কেবল জায়নামাজ এবং বৃষ্টি হলে ছাতা সঙ্গে নিয়ে ঈদগাহে আসতে পারবেন জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের জামাতে ব্যাগ, ছুরি, চাকু, দেশলাইসহ কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ আনা যাবে না। শুধু জায়নামাজ ও বৃষ্টি হলে ছাতা আনা যাবে। এর বাইরে কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে আসা যাবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মুসল্লিদের জায়নামাজ ও ছাতা তল্লাশির জন্য দেখতে চাইলে তা দেখাতে হবে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঈদ জামাতে প্রবেশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, দোয়েল চত্বর, মৎস্যভবন মোড়সহ কয়েকটি বেরিকেড থাকবে। এসব রাস্তা দিয়ে ঈদগাহের দিকে পায়ে হেঁটে আসতে হবে। বেরিকেডের ভেতরে সবাইকে তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদগাহে ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে আরও ৪/৫ দিন আগে থেকেই মহানগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

যেখানে-সেখানে কোরবানি না করার অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার জন্য নগরবাসীকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। নির্ধারিত জায়গায় কোরবানি দিলে সিটি করপোরেশন দ্রুত ময়লা সরিয়ে নিতে পারবে। কোরবানির বর্জ্য থেকে যেন ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বৃদ্ধি না পায় সে জন্য নগরবাসীকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।