ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাসির

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাসির

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

print
ফেঁসে যাচ্ছেন মিজান-বাসির

শেষ রক্ষা আর হচ্ছে না। ফেঁসে যাচ্ছেন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাসির। অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে ও নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর আলোচনায় আসেন ডিআইজি মিজান। আর মিজানের সম্পদের অনুসন্ধানে গিয়ে ঘুষ নিয়ে বরখাস্ত হন খন্দকার এনামুল বাসির।

দুজনের এমন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে বিব্রত সরকারও। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে তাদের উদ্দেশে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘ঘুষ দাতা-গ্রহীতা উভয়কেই ধরা হবে। ঘুষ যে দেবে আর যে নেবে উভয়ই অপরাধী; সেটাই ধরে নিতে হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘ডিআইজি মিজান নিশ্চয়ই অপরাধ ঢাকতে ঘুষ দিয়েছেন। তার আগের অপরাধের বিচার চলছে। নতুন করে যদি ঘুষ দেওয়ার মতো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

টিভি উপস্থাপিকা এক তরুণীকে অপহরণ করে নিজের সরকারি ফ্ল্যাটে আটকে বিয়ে করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার-ডিআইজি মিজানুর রহমান। আবার তার ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে জেল খাটিয়ে মামলায়ও ঝুলিয়েছেন। এক নারী রিপোর্টারকে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পরই মূলত আলোচনায় আসেন মিজান। এতে দেশজুড়ে শুরু হয় তোলপাড়। ঘরে একাধিক স্ত্রী বহাল থাকা সত্ত্বেও একের পর এক পরকীয়ায় জড়িয়ে অনেক নারীর সম্ভ্রম নষ্টের অভিযোগ ওঠে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। পুলিশের নিয়োগ-বদলিতেও এক সময় ভূমিকা রাখতেন তিনি। গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও আছে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন ডিআইজি মিজান। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারও ছিলেন তিনি। মিজান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। পরে সেখান থেকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

নতুন কর্মকর্তা খুঁজবে মিজানের অবৈধ সম্পদ
এদিকে দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাসিরকে বরখাস্তের পর পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধানে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ এখন থেকে এ দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল বুধবার সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে এ কথা জানান দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান।

ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এতদিন তদন্ত করেছেন দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি টেলিফোনালাপে দাবি করা হয়েছে, এনামুল বাসির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন ডিআইজি মিজানের কাছ থেকে। এ আলাপন ফাঁসের পর বাসির তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। তবে ডিআইজি মিজান স্বীকার করেন, তিনি অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে এনামুল বাসিরকে বরখাস্ত করে দুদক। যদিও এ বরখাস্তের কারণ ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নয়, দুদকের তথ্য ফাঁস।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, যে কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ আসতে পারে। তার মানে এই নয়, সে অপরাধী। কে অপরাধী সেটা প্রমাণ হবে আদালতে। এনামুল বাসিরের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দুদক। অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

বাসিরকে বরখাস্ত করলেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন এমন প্রশ্নে দুদকপ্রধান বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ এলেই তাকে গ্রেফতারের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে না দুদক। ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে ধীর গতি নিয়ে এক প্রশ্নে ইকবাল মাহমুদ বলেন, অনুসন্ধানটি বস্তুনিষ্ঠ করতে দেরি হচ্ছে। দুদক দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসবে।

গত ২৩ মে ডিআইজি মিজানুর রহমানের সম্পদ অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন এনামুল বাসির। তবে আগের ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদন আমলে নেয়নি দুদক।

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চালায় দুদক। গত মাসে ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। অনুসন্ধান করেন দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাসির। তার বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজান অভিযোগ করেন, দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচতে এনামুল বাসিরকে দুদফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। তাদের মধ্যের অডিও রেকর্ডও প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে।

গণমাধ্যমকে দুষলেন এনামুল বাসির
দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাসির বরখাস্ত হওয়ার জন্য গণমাধ্যমকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করে আমার ক্ষতি করেছে। তারা যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন মনে করছে না। আমার যা ক্ষতি হয়েছে এর সবকিছুর জন্য গণমাধ্যম দায়ী। গতকাল বুধবার দুদক কার্যালয়ে প্রবেশের সময় গণমাধ্যম কর্মীরা কথা বলার চেষ্টা করেন বাসিরের সঙ্গে। এ সময় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমার ক্ষতি করে কুশল ও সালাম বিনিময় অপ্রয়োজনীয়। সাংবাদিকদের এড়াতে সাড়ে ১২টায় দুদকে প্রবেশ করলাম। তবুও তাদের কাছ থেকে ছাড় পেলাম না।