ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪ | ৩ আষাঢ় ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি শ্রমিকলীগ নেতার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
🕐 ৩:০২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২৩

কুষ্টিয়ায় সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি শ্রমিকলীগ নেতার

কুষ্টিয়া জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খান ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বিউটির প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাংবাদিক এ. জে. সুজন ও তার পরিবার। ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিক সুজনকে এই হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরী করেছে সাংবাদিক সুজন। সে জাতীয় দৈনিক আমার সময় ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার রির্পোটার।

অভিযোগে জানা গেছে, শহরের মিলপাড়া আদর্শ কলেজ মোড়ে পৌরসভা ও মোহিনী মিলের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে শ্রমিক লীগের ব্যক্তিগত অফিস বানিয়েছে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খান। অফিসের সাথেই রয়েছে সাংবাদিক সুজনের বসত ঘর। শ্রমিক লীগের অফিসের চালের উপর পড়া বৃষ্টির পানি গড়িয়ে পরে সুজনের বসত ঘরের ভেতরে। বৃষ্টি মৌসুমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে পরিবারটি বার বার আমজাদ খান ও তার স্ত্রীর কাছে সমাধানের জন্য ধর্না দিলেও তারা বিষয়টি সমাধান না করে বারবার ফিরিয়ে দেয়।

গতকাল শনিবার (১৮ মার্চ) ভুক্তভোগীরা ফের সমাধান চাইলে আমজাদ আলী খানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বিউটি ওই গৃহিনীকে মোবাইলে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং আমজাদ আলী খান তুই তুকারী করে। এসময় সাংবাদিক এ. জে. সুজন আমাজদ খান ও তার স্ত্রীকে গালাগালি করতে নিষেধ করলে তারা সুজনকে হুমকী দিয়ে বলে তুই কে, তুই নাকি সাংবাদিক, তুই কিসের সাংবাদিক, তোর কি অবস্থা করবো তুই জানিস না, তোকে নদীতে ভাসিয়ে দেব।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ও তাদের অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে আমজাদ আলী খান ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা বিউটির বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি করেছেন সাংবাদিক সুজন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, বেশ কয়েক বছর আগে পৌরসভার জায়গা ও মোহিনী মিলের সীমানার প্রাচীর ভেঙ্গে ওই অফিস অবৈধ ভাবে গড়ে তোলে। যা এখন শ্রমিক লীগের অফিস বলে প্রচার করে আমজাদ আলী খান।

এই ব্যাপারে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ওই অফিসের সাথে শ্রমিক লীগের কোন সম্পর্ক নেই। ওটা আমজাদ খানের দখল করা নিজের অফিস। শ্রমিক লীগের একটাই অফিস, সেটা হলো পার্টি অফিসে। ওখানেই আমরা বসি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, আমজাদ আলী খান জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন। তাছাড়া দখল করা ব্যক্তিগত অফিসকে তিনি জেলা শ্রমিক লীগের অফিস বলে ব্যবহার করে আসছেন। এতেও জেলা শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি অবৈধ ওই অফিস ভেঙ্গে মোহিনী মিলের যায়গা মুক্ত করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

 
Electronic Paper