সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কারখানা খোলা রাখবো না: সিদ্দিকুর রহমান

ঢাকা, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৪ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কারখানা খোলা রাখবো না: সিদ্দিকুর রহমান

জাফর আহমদ
🕐 ৬:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২১

সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কারখানা খোলা রাখবো না: সিদ্দিকুর রহমান

দেশের তৈরি পোশাক শিল্প খোলা রাখা নিয়ে সরকারের সাথে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সহ রপ্তানিমুখি শিল্পোদ্যোক্তাদের আলোচনা চলছে। সরকারের ঘোষণা করোনা সারা দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে, প্রতিদিনই পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এ অবস্থায় সর্বাত্মক লকডাউনের কোন বিকল্প নেই। সে জন্যই ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কঠোর লকডাউন।

উদ্যোক্তাদের দাবি, গত এক বছরের অধিক সময়ে করোনার মধ্যে তৈরি পোশাকের যে ক্ষতি হয়েছে তার অনেকটাই সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। করোনার টিকা আবিস্কারের ফলে তৈরি পোশাকের মার্কেট দেশগুলোতে চাহিদা বেড়েছে। এতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ক্ষতও অনেকটা সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এখন লকডাউনে কারখানা বন্ধ রাখলে পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তা আবার ব্যহত হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় বিজিএমইএ এর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সাথে। সাক্ষাতকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ।

জাফর আহমদ: ২৩ জুলাই শুক্রবার সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের অনেক কারখানা ২৮ জুলাই বা তার আগেই খুলবে; শ্রমিকদের এমনটাই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক কারখানা ফোনে জানানোর কথা বলেছে-আপনি বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি হিসাবে বিষয়টিকে কিভাবে নিচ্ছন?
সিদ্দিকুর রহমান: আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবো না। সরকার যদি তৈরি পোশাক কারখানা লখডাউনের আওতামুক্ত রাখে তাহলে আমরা কারখানা চালাবো। আর যদি লকাউনের মধ্যে রাখে তাহলে আমরা কারখানা চালাবো না। কোন মালিকই মনে হয় না বলছে যে আমরা ২৫/২৬ তারিখের পর কারখানা চালাবে।

জাফর আহমদ: তৈরি পোশাক শিল্পের বেশ কিছু এলাকায় খবর পাওয়া গেছে, মিরপুর, গাজীপুর, এমন কি আশুলিয়ায় বেশ কিছু কারখানা আছে সেগুলো ২৭ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। ২৮ জুলাই খুলবে--
সিদ্দিকুর রহমান: না, না । সেটা হতে পারে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ছুটি দিচ্ছে। সরকার কি করবে তারপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত জানাবে।
আমরা তো ছুটি এভাবেই দেবো, তাই না? তারপর সরকার কি সিদ্ধান্ত নেয় তার উপর নির্ভর করছে।

জাফর আহমদ : সরকার যদি ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিদ্ধান্তে অটল থাকে, বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তৈরি পোশাকের যে কার্যাদেশ আছে, যেগুলো লকডাউনের সময় বা তার অব্যাবহতি পরে শিপমেন্ট করতে হবে। সেগুলোর সমস্যা হবে। নতুন নতুন কার্যাদেশ আসার যে সম্ভাবনা আছে তৈরি পোশাক শিল্প লকডাউনের আওতাভুক্ত হলে এগুলো সামাল দেবেন কিভাবে ? ক্ষতি কেমন হবে?
সিদ্দিকুর রহমান: ক্ষতি কেমন হবে বলা যাবে না। তবে একটি জিনিষ আমাদরে এখানে অর্ডার আসছিল এবং গত এক বছরে আমরা আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলাম; আমরা চেষ্টা করছিলাম যেটা ঘুরে দাঁড়িয়েছি, ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলাম-এই অবস্থার মধ্যে আর একটি বাঁধার সম্মুখিন হবো। এরপর যে কি হবে, কতদিন লকডাউন থাকবে কেউ বলতে পারছে না। তবে এর জন্য শুধু আমাদের ক্ষতি হবে তা নয়, ক্ষতি হবে আমাদের দেশের। আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ কেউ মাস্ক পরবে না, স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, তার জন্য পুরো দেশ লকডাউন দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ রাখলে তো আমরা উপকৃত হবো না। অর্থনীতি তখন সাফার করবে। অথনীতি সাফার করলে তো কোন জাতির জন্য মঙ্গরজনক নয়। আমি মনে করি অন্ততপক্ষে রপ্তানমুখি শিল্পকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হোক। কারণ আমি একটা খুব ডিসিপ্লিন ওয়ার্কফোর্স (গার্মেন্টস শ্রমিক) নিয়ে কোজ করছি। এই ডিসিপ্লিন ওয়ার্কফার্স এই ধরণের দুই সপ্তাহব্যাপি ছুটি পেলে এই ডিসিপ্লিনটা নষ্ট হয়ে যাবে। এটা করা আমাদের খুবই ওয়াইজ হবে না। তারপরও ফাইনালি সিদ্ধান্ত সরকারের। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তার সাথে এক মত।

জাফর আহমদ : এটা কি বোঝা যাচ্ছে সরকার কারখানা খোলা রাখার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত আসতে পারে? যেমন ধরুন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার শ্রমিকদের টিকা দেওয়া শুরু করলো- এর মধ্য দিয়ে সরকার এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে না! ২৮ জুলাই থেকে খুলে গেলো ২৫/২৬ তারিখের দিকে এমন ঘোষণা আসতে পারে?সিদ্দিকুর রহমান : সেটা এখন বলা যাবে না।

জাফর আহমদ: গত বছরের বেশি সময় ধরে লকডাউনের মধ্যেই শ্রমিকরা কাজ করছে। আপনাদের দাবি এ সময়ে আক্রান্ত হয়নি। তাহলে এবার আক্রান্ত হবে-এমন হতে পারে?
সিদ্দিকুর রহমান: আগে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু গ্রামে গ্রামে এখন ডেলটা ভেরিয়েন্ট আক্রান্ত করছে। শ্রমিকরা ছুটিতে গ্রামে যাবে। শ্রমিকরা কারখানায় একটি ইনভারমেন্টে কাজ করে। শ্রমিকরা একসাথে কারখানায় আসছে, এক সাথে বাসায় যাচ্ছে, খাচ্ছে। আবার একসাথে থাকছে। তারা কিন্তু বাইরে কোথাও যেতে পারছে না। এর ফলে আক্রান্ত হচ্ছে না। এ জন্য বলছিলাম একটি ডিসিপ্লিন ওয়ার্কফোসকে ইনডিসিপ্লিন করে দেওয়া ঠিক হবে না। এখন তারা গ্রামে যাবে বেশিদিন থাকলে বেশি সময় ধরে বেশি জায়গায় ঘোরা-ফেরা করবে এবং তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। পরবর্তিতে ঢাকাতে এলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই জন্য আমরা বলছিলাম রপ্তানি খাতকে এই লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার জন্য। এখনো আমরা সেই অনুরোধ জানাচ্ছি। এখন পর্যন্ত এই খাতে কোন ইনফেকশন ছিল না।

গ্রামে যদি অল্প সময়ের জন্য যায়, দুই/এক দিনের জন্য যায়-সেটা এক জিনিষ। শ্রমিকরা যদি শটটাইম ছুটিতে থাকতো তাহলে কষ্ট করে হলেও চলে আসতো। এখন তো লম্বা টাইম পাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকরা বাইরে যাবেই এবং আক্রান্ত হবে। #

 
Electronic Paper