সামাজিক মুনাফার কথা ভেবেছি

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

সামাজিক মুনাফার কথা ভেবেছি

জাফর আহমদ ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৭, ২০২১

print
সামাজিক মুনাফার কথা ভেবেছি

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক একমাত্র ব্যাংক, যার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো স্ক্যামের খবর নেই। বিশ্বব্যাংক, জাইকা, এডিপি পদ্মা সেতু থেকে সরে গেলে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক; ব্যাংকটি এখনো ডলার সরবরাহ করে চলেছে। সারা দেশে বঙ্গবন্ধু কর্নার করে বঙ্গবন্ধুচর্চার একটি পথ সৃষ্টি হয়। কাজটি প্রথম শুরু করেছিল অগ্রণী ব্যাংক। এখনো চলমান। এ সবের অনেক কিছুই নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। নানা বিষয়ে কথা হয় খোলা কাগজের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাফর আহমদ। 

শতাব্দীর মহাবিপর্যয় কোভিড-১৯ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগের ফলে বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশ অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ানোর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক খাতের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সরকারি ব্যাংক হিসেবে এই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কী অভিজ্ঞতা হলো?

করোনার অভিঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৮টি খাতে এক লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। যাতে অর্থনীতিতে স্পন্দন ফিরে আসে। এক বছর নয় পুরো তিন বছরের জন্য রিভল্প করতে হবে। এর ফলে করোনার অভিঘাতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করলেও প্রণোদনার কারণে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করেছে। এটা প্রায় জিডিপির প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। এটা এশিয়ার মধ্যে শীর্ষতম দেশ। প্রথমেই বলতে হয়, করোনার মধ্যে রপ্তানিমুখী শ্রমিকদের জন্য মজুরি দেওয়ার জন্য সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেয়। এ অর্থ সরাসরি শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হলো। সরকার শ্রমিকদের মজুরির টাকা দেওয়ার মানে মজুরির টাকা দেওয়া হয়নি, এর মাধ্যমে তিনি বার্তাও দেন প্রণোদনা দেওয়া হলো প্রণোদনা স্বচ্ছতা ও সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংক শ্রমিকদের মজুরির পাশাপাশি শিল্পের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৯০০ কোটি টাকা দিয়েছি। এ সব টাকার শতভাগ আমরা দিতে পেরেছি। সিএসএমই-এর জন্য ছিল সাড়ে ৮০০ কোটি টাকা। আমরা এ টাকার প্রায় ৮০ শতাংশ বিতরণ সম্পন্ন করেছি। বাকি টাকা দিয়ে দেব। চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত সময় আছে, এই সময়ের মধ্যে আমরা বরাদ্দ সম্পন্ন করতে পারব। শুধু তাই না, যারা হতদরিদ্র তাদের জন্য এনজিওর মাধ্যমে আমাদের একটি স্কিম আছে সেগুলোও আমরা শতভাগ বিতরণ করেছি। এ প্রণোদনা বিতরণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ আছে। কিন্তু আমরা সক্ষমতার সঙ্গে সেগুলোও সময়মতো করতে পেরেছি। বরং আরও বেশি করেছি। যারা একেবার ছিন্নমূল, অতিদরিদ্র এ সব মানুষকে এই ঋণ দিতে পেরেছি।

আমাদের যে দায়িত্ব ছিল, আমানতের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যে দায়িত্ব ছিল- সেগুলো আমরা সঠিকভাবে পালন করতে পেরেছি। প্রথমের দিকে আমরা যখন ত্রাণ দিতে গেলাম, করোনার বিপর্যয়ের মধ্যেই পিপিই পরে ত্রাণ বিতরণ শুরু করলাম। যেদিন প্রথম প্রণোদনা ঘোষণা করা হয় সেদিনেই আমরা এটা বিতরণ করতে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী সেদিন ভার্চুয়ালি আমাদের দেখলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, আমি যে প্রণোদনা দিচ্ছি আমার আশা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো কার্যকর করবে। প্রধানমন্ত্রীর কথাতে আমরা আরও উৎসাহিত হই। এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে সরকারপ্রধানের ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিই। তাদের বলেছিলাম, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে বেশি আশা করে তাই যে কোনোভাবেই হোক সরকারের এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের কথাতে সেদিন সহকর্মীরা উৎসাহিত হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে নেমে পড়েছিলেন। করোনার প্রথম ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়, স্থবিরতা সৃষ্টি হয়- সবাই মিলে আমরা মিটিগেট করতে পেরেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং তার টিম কাজগুলো খুবই প্রজ্ঞার সঙ্গে, মমতার সঙ্গে এবং দ্রুততার সঙ্গে করেছে। প্রণোদনা বিতরণ করতে আমরা যখন কোনো প্রতিবন্ধকতায় পড়েছি, কীভাবে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ নিয়ে সেটা করেছি। ফলে প্রণোদনা বিতরণের কাজগুলো সহজ হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চের দিকে করোনা যখন চেপে বসল, জীবন রক্ষার জন্য আরও বেশি ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা হলো, কলকারখানা বন্ধ হলো, অনিশ্চয়তায় পড়ল মানুষের জীবন ও জীবিকা। থেমে গেল আমদানি-রপ্তানি। অর্থনীতিতে ধস নামে। দেশ ভীতিকর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। করোনার বৈশ্বিক মহামারীর খবর পরিস্থিতিকে আরও ভয়ঙ্কর করে দেয়। সামনে কী আছে মানুষ চিন্তাও করতে পারছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী এক সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকা থেকে লকডাউন তুলে নিলেন, কারখানা খুলে দিলেন। এতে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছিলো। বলা হয়েছিল, লকডাউন শিথিল করার মাধ্যমে, কারখানা খুলে দেওয়ার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো। আর্থিক খাতের একজন শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

সে সময় কিছু সংবাদপত্র, সুশীল সমাজের মানুষ সরকারের সেই সময়ে পদক্ষেপের প্রচ- সমালোচনা করেছিল। এ সব সুশীল সমাজের মানুষের অন্তরে সুশীলতা আছে কিনা জানি না। তারা একটি ফোবিয়াতে ভুগেছেন, কী হয় কী হয়! করোনার মধ্যে কারখানা খুলে দেওয়া হলো কিন্তু কোনো শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে-এমন খবর পাওয়া যায়নি। আমাদের কিছু ব্যাংকার আক্রান্ত হয়েছেন, কিছু ব্যাংকার আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু বিশ^ব্যাংক, কিছু কিছু বিশ^সংস্থা, কিছু ছিদ্র অন্বেষণকারী- যাদের কাজই ছিদ্র অনুসন্ধান করা তারা যে মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন তা বাস্তবে হয়নি। তাদের সমালোচনা প্রজেকশনের মুখে ছাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন তার যে সাহসিকতা, সময়মতো এবং সঠিকভাবে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন। সে সময় সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে কারখানা খুলে না দিলে, ক্রমান্বয়ে উৎপাদন-বিপণন ব্যবস্থা চালু না করলে, পর্যায়ক্রমে লকডাউন শিথিল না করা হলে মানুষ করোনার কারণে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হত আয়-রোজগার-উৎপাদন না থাকার কারণে।

যখন কোভিডের ভ্যাকসিন আসা শুরু হলো, তখন তাকে বলা হলো আপনি নেবেন কিনা? উনি সাহসের সঙ্গে একবাক্যে বললেন আমি নেব এবং ১২০ মিলিয়ন ডলার অ্যাডভান্সও তিনি দিতে সম্মতি দিয়ে দিলেন। আজকে দেখুন, সেদিন যদি অগ্রিম না দেওয়া হতো তাহলে কিন্তু আজকে যে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তা দেওয়া হতো না। আজকে ১২০টি দেশের মানুষ ভ্যাকসিন চোখে দেখেনি। তারা জানে না কবে তারা ভ্যাকসিন দেখবে। আর আমাদের সাহসী প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতে টিকা পাচ্ছে, টিকা নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ১২০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে অর্ধেক পেমেন্ট নেওয়া হয়ে গেছে। বাকি পেমেন্ট আমরা অগ্রণী ব্যাংক পরিশোধ করতে পারব। জীবনে একবারই ভালো কিছু করার সুযোগ আসে আমরা সেটা করতে পারছি। এভাবে সরকারের সঙ্গে জনগণের সঙ্গে আমরা আছি।

আপনারা তো পদ্মা সেতুতেও ডলার-সাহস দিয়েছিলেন?

আমাদের নীরবে, নিভৃতে কাজ করতে হয়। অগ্রণী ব্যাংক যা করেছে তা একটি বিপ্লব। পদ্মা সেতুতে তারা বিশ^ব্যাংক ১.২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ পর্যন্ত দিল না, দুর্নীতির অভিযোগ আনল। একই পথে হাঁটল জাইকা ও এডিবি। এখানে দুর্নীতির ব্যাপারে আছে বলে তারা অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়াল। তারা বাঙালিকে দাবিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন করতে চেয়েছিল। কিন্তু ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ এ কথা যিনি বলেছিলেন সেই বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনা সেদিন বাবার ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ উচ্চারণের সত্যতা কাজ করে প্রমাণ করেছেন। বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি পণ করেছিলেন, নিজস্ব টাকায় পদ্মা সেতু করা সক্ষমতা আমাদের আছে, আমরা করে দেখিয়ে দেব। আমরা পদ্মা সেতু করে প্রমাণ করব আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। উনি সেটা করে দেখিয়ে দিচ্ছেন। অগ্রণী ব্যাংক থেকে তার সহযাত্রী হতে পেরেছি বলে আমরা গর্বিত। পদ্মা সেতু করার সময় আমরা বলেছিলাম পদ্মা সেতু নির্মাণে ফরেন কারেন্সি দেব। দিচ্ছি। এ পর্যন্ত আমরা ১.৩ বিলিয়ন ডলার পদ্মা সেতুতে দিয়েছি। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি এমইইউ ছিল পদ্ম সেতুর জন্য যত ডলার লাগে বাংলাদেশ আমাদের দেবে, আমরা এক ডলার নেওয়ার জন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্ত হইনি। রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত ডলার সংগ্রহ করেছিলাম। পদ্মা সেতুতে ওই ডলার সরবরাহ করছি। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ১.৩ বিলিয়ন ডলার দিয়েছি এবং ২০২২ সাল পর্যন্ত সেতুর কাজ চলবে, যত ডলার লাগে আমরা দেব। যেখানে বিশ^ব্যাংক আমাদের ঋণ দিল না, সেখানে আমরা দেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক নীরবে নিভৃতে সেই কাজটি করে যাচ্ছি।

রাষ্ট্রায়ত্ত অন্যান্য ব্যাংকের বিরুদ্ধে স্ক্যাম বলেন, দুর্নীতি বলেন বা সুশাসনের অভাব বলেন- অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে আসেনি। এই যে সরকারের বড় বড় প্রকল্পের পেছনে আর্থিক খুঁটি হিসেবে কাজ করছে- বড় অনিয়মের অভিযোগ না আসাতে যে শক্তি সৃষ্টি হয়েছে সেই শক্তি কি বড় বড় কাজ করার সাহস জুগিয়েছে?

আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্ব যেখানে আছে, তার প্রেরণাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। উনি আমাদের আমাদের এক্সটেনশন দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয় এবং আমাদের মধ্যে ভালো বন্ডিং আছে। আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের অন্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ আছে। আমরা তার কথাই চিন্তা করি। আমরা মনে করি আমাদের প্রতি তার বেশি এক্সপ্রেক্টেশন আছে। আমরা এমন কাজ করব না যাতে তিনি কষ্ট পান। যখনই জাতির জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করা ডাক আসে আমরা সেগুলো করতে লেগে যাই। এই হাওরে বন্যা হলো, কৃষককে পুনর্বাসনের জন্য আমরা সেখানে গিয়ে ৫০ শতাংশ রিবেট দিয়ে ঋণ দেওয়া শুরু করলাম। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীও গেলেন, দেখলাম। পরে অন্যান্য ব্যাংকও ৫০ শতাংশ সুদ রিবেট দিয়ে ঋণ দেওয়ার কাজে এগিয়ে গেল। আমরাই প্রথম মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে পিপিপি-এর ভিত্তিতে কাজ করলাম। আমরা যদি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কাজটি না করতাম তাহলে রাজধানী থেকে দক্ষিণ-পূর্বের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে, তা ব্যাহত হতো। যেখানেই ভালো আছে, সরকারের ভিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্যোগ আছে সেখানেই অগ্রণী ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। এক্ষেত্রে আমরা ব্যাংকের লাভের চেয়ে সামাজিক মুনাফার কথা বেশি ভেবেছি।

অগ্রণী ব্যাংক আজ ১৪টি পাওয়ার প্রজেক্টে আছে। কোনোরকম ব্যাঘাত ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। আজকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। কৃষি ক্ষেত্রে বলেন, নারী উদ্যোক্তা বলেন, বিদেশে লোক পাঠানো বলেন, বিদেশ থেকে প্রবাসীদের আয় দেশে আনার ব্যাপারে বলেন- সব ক্ষেত্রে আমরা কাজ করছি; রেমিট্যান্সে আমরা নাম্বার ওয়ান। মোট রেমিট্যান্সে আমাদের ভূমিকা ছিল ৯ শতাংশ। সেটা এখন বেড়ে ১৩ শতাংশ হয়ে গেছে। গত বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আমরা প্রথম এজেন্ট ব্যাংক আছি, অনলাইনে আমরা প্রথম ছিলাম; আমরা অফসোর ব্যাংকিং প্রথম করেছি; এক্সপোর্ট-ইমপোর্টেও সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা প্রথম, রেমিট্যান্সে প্রথম। এভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নীতি-নৈতিকতা, একাগ্রতা, জবাবদিহি, সুশাসন পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কাজ করে। আল্লাহর রহমতে আমাদের বড় ধরনের স্ক্যাম্প নেই। আমাদের একজন প্রাজ্ঞ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে। বোর্ডের মেম্বাররাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, তারা ভূমিকা রাখছেন অগ্রণী ব্যাংককে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। আমাদের সিনিয়র যে ম্যানেজমেন্ট আছে তারা অত্যন্ত ভালো কাজ করছেন। আমাদের ১৩ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যে যেখানে আছেন সততা, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই কোভিডের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে, শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা একটি অ্যাপ চালু করেছি সিঙ্গাপুর থেকে টাকা আনার জন্য। গত বছর ১৭ মার্চে এটা উদ্বোধন করলাম। অগ্রণী রেমিট্যান্স অ্যাপস। কোভিড-১৯-এর কারণে স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সময় ওখানকার প্রবাসীরা এই অ্যাপসের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সুবিধা পায়। আমাদের এই অ্যাপস সিঙ্গার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অ্যাওয়ার্ড পায়। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উৎসাহে আমরা সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সঙ্গে আরও ১ শতাংশ প্রণোদনা বাড়িয়ে দিয়েছি। এর ফলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে আরও বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করে। এই যে ৪৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হয়েছে আমাদের এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রয়েছে। আমরা শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও আমরা সুনাম অর্জন করি। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল। সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এই যে উত্তরণ, এই যে উন্নয়ন, এই যে গ্র্যাজুয়েশন- জাতির পিতার যোগ্য উত্তরসূরির নেতৃত্বে এই সফলতা এবং তার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তার প্রমাণ আজকের এই উন্নয়নশীল দেশ। অর্থনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করছি। জাতির পিতাই এই অগ্রণী ব্যাংকের নাম দিয়েছিলেন। হাবিব ব্যাংক এবং কমার্স ব্যাংক মিলে ব্যাংকটি হয় এবং উনি অগ্রণী ব্যাংকের নামকরণ করেছিলেন। আমাদের মনে হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক অগ্রগামী থাকবে। আমরা সেই ব্যাংকের কর্মী হিসেবে জাতির জনকের সেই ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করছি।

আপনারাই প্রথম বঙ্গবন্ধু কর্নার করছিলেন। তারপর সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছে, সেখানে বঙ্গবন্ধু চর্চার একটি পথ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কর্নার ধারণাটি কীভাবে পেলেন?

২০১০ সাল থেকে আমরা বঙ্গবন্ধু কর্নার শুরু করেছিলাম। আজকে সারা দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপজেলায়, বিভিন্ন ব্যাংক দেশে এবং বিদেশে বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। আমরা আজ থেকে ১০ বছর আগে ২০১০ সালেই বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছি। এই যে পাইনিওয়ার অ্যাকটিভিটিজ তা জাতির পিতার অগ্রণী ব্যাংকের নাম দেওয়ার যে স্পিরিট ছিল আমরা সেই অভীষ্টে পৌঁছানোর লক্ষ্যে, উনার যে এক্সপ্রেক্টেশন ছিল আমরা তাই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

আপনি বলছেন ব্যাংকের মুনাফার চেয়ে সামাজিক মুনাফার বেশি মনোযোগ থাকে। সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে আপনারা কাজ করছেন। এদিকে মনোযোগ না দিয়ে যদি ব্যাংকের মুনাফার দিকে দৃষ্টি দিতেন তাহলে ব্যাংকের মুনাফা বাড়ত। এর জন্য আগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত আপনাদের জন্য ৭৫ ভাগ সংরক্ষিত ছিল। পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। এরপর আপনারা সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনলেন আবার সরকারি বা সামাজিক উন্নয়নমুখী কাজে অর্থায়ন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে আপনারা আমানত হারিয়েছেন। এতে কি ব্যাংক পরিচালনা করতে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না?

ঠিক কথা বলেছেন, এটা আমাদের কথা। আমরা সরকারি এতগুলো কাজ করে থাকি তার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতের একটি পোরসন বেশি ছিল তার অংশ বেসরকারি ব্যাংকে দিয়ে দিল। তারপরও মনে করি আমাদের প্রতি জনগণের যে আস্থা, বিশ^াসÑ সেটা কিন্তু সঙ্গে রয়েছে। আমাদের যে ডিপোজিট গ্রোথ তা কিন্তু অনেক বেড়েছে। স্বাধীনতার পর আমাদের আমানত ছিল ৯৭ কোটি টাকা। জনতার ছিল ১১০ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর এতগুলো বছরে আমরা কিন্তু এটা ভাঙতে পারিনি। এবারই প্রথম আমাদের ৯৫ হাজার কোটি টাকা আমানত হয়েছে। উনাদের ৮০-৮৫ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ৫-৭ হাজার কোটি টাকা আমাদের বেশি হয়েছে। ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল আমাদের ব্যালেন্স সিট এক লাখ হাজার কোটি টাকা করব। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আমরা এক লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা করেছি। আপনারা যদি লক্ষ্য করেন দেখবেন দেশের প্রথম ব্যাংক ইসলামী এবং সোনালী ব্যাংকের অবস্থান। তারপরই আমাদের অবস্থান।

ডিপোজিট হয়তো কমার কথা ছিল। কমেছেও হয়তো। কিন্তু জনগণের আস্থা আমাদের কমেনি। আমানত থেকে শুরু করে আমাদের অন্যান্য সূচকের অবস্থা ভালো। পাশাপাশি সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিট হওয়ার ফলে আমাদের ইনকাম কমেছে কিন্তু প্রভিডিটি কমেনি। আমি যখন ব্যাংকে জয়েন্ট করি তখন ননপারফর্মিং লোন-এনপিএল (খেলাপি ঋণ) এর হার ছিল ২৯ শতাংশ, বর্তমানে খেলাপি ঋণের হার সাড়ে ১১-তে নামিয়ে আনতে পেরেছি। অগ্রণী ব্যাংককে অগ্রগামী দেখার যে স্বপ্ন আমরা সেটা করছি। শুধু সিঙ্গেল ডিজিট নয়, আমরা আজকে একটি প্রোডাক্ট লঞ্চ করেছি এআরএল- অগ্রণী রিবেট লোন স্কিমের আন্ডারে। যারা ভালো কাস্টমার তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রোডাক্ট লঞ্চ করেছি। মাত্র ৭ শতাংশ সুদ হারে এটা দেব। আপনার মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করব যারা ভালো কাস্টমার, স্বনামধন্য তারা আমাদের নতুন কাস্টমার হিসেবে ঋণটি নিন। আপনারা বেনিফিটেড হবেন, দেশও বেনিফিটেড হবে।

টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আমরা যে সব দেশে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করি সে সব দেশে অবস্থা খারাপ এবং রপ্তানিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টিকা দেওয়া শুরু হওয়ার পর ব্যাংকের দিক থেকে এর পরিবর্তন দেখছেন কিনা?

টিকা দেওয়ার পর পরিবর্তনের কথা ছিল। সেটা এসেছে। যারা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তাদের মধ্যে কিছুটা সাহস এসেছে। মানসিক প্রশান্তি এসেছে। এই প্রশান্তি যত তাড়াতাড়ি আসবে তত অর্থনীতিতে সাউন্ড হবে। আপনারা দেখেছেন তুলার দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। প্রতি পাউন্ড ৭০ সেন্ট ছিল, সেটা কিন্তু বেড়ে এক ডলার হয়ে গেছে। ইউরোপ আমেরিকায় যে সব স্টোরগুলো আছে সেগুলো কিন্তু এখন খালি। যখন নর্মাল আসবে তখন তারা যে টান দেবে, তখন তারা যে রিকোয়ারমেন্ট দিবে, দেশে যেসব গার্মেন্ট কারখানা আছে তারা কাজ করে শেষ করতে পারবে না।

টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। দেশে-বিদেশে এর ইতিবাচক প্রভাব শুরু হয়েছে। এখন রপ্তানিতেও টান পড়বে। করোনার অভিঘাত পরবর্তী অর্থনীতিতে যে চাহিদা তৈরি হবে, ওই চাহিদা সামাল দিতে অর্থনীতিতে কর্মযজ্ঞ বেড়ে যাবে। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংক খাত কতটা প্রস্তুত আছে বলে মনে করছেন?

কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি যতই পরিবর্তন হোক, কোভিড পূর্ববর্তী অবস্থার মতো হবে না। কোভিড-১৯ থেকে মানুষ শিক্ষা নেবে। করোনা পরবর্তীকালে মানুষ কিছু সঞ্চয় করবে। কোভিডের মধ্যে মানুষ লাক্সারি আইটেমগুলো কিনছে না। কোভিড পরবর্তীও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তারা বেশি আইটেম রাখবে। ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করবে। স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেবে। বা ইকো-ফ্রেন্ডলি এগুলোকে তারা গুরুত্ব দেবে। ইউরোপ বলেন বা আমেরিকা বলেন তাদের স্টোরগুলো খালি আছে। টিকা দেওয়ার ফলে করোনার চাপ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বাইরে বের হবে। তখন কিন্তু বাজারে যথেষ্ট চাহিদা সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে মানুষ বেসিক আইটেমগুলো বেশি বেশি কিনবে। আর বেসিক আইটেমগুলোর টান পড়বে।

আমরা তো বেসিক আইটেমগুলোই বেশি করি...।

হ্যাঁ, সে জন্যই আমাদের তৈরি পোশাক বলেন বা এই ধরনের আরও যে সব পণ্য করি সেগুলোর বেশি টান পড়বে। ওই পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের প্রস্তুতি থাকতে হবে। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলতে পারি আমরা এ ব্যাপারে প্রস্তুত। আমাদের কিন্তু বিনিয়োগযোগ্য ১১-১২ হাজার কোটি টাকা প্রস্তুত আছে। আমাদের যথেষ্ট ডলার আছে। আমাদের টাকার সমস্যা নেই, ডলারের সমস্যা নেই। ফলে এলসি বলেন বা অন্য যে কোনো ধরনের ঋণের জন্য এলে আমরা তা দিতে পারব। কোনো গ্রাহক ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল চাইলে আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা কিন্তু ইতোমধ্যে বসুন্ধরাসহ বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছি। কোভিডের পর ছোট্টরা কিন্তু টিকে থাকার সংগ্রামে পড়বে। বড়রাই কিন্তু সক্ষমতার সঙ্গে টিকে থাকবে। তারা কস্ট ইফেক্টিভ হবে। কোভিড পরবর্তীকালে সেই বিষয়টি সামনে আসবে। তা হলো কীভাবে কম খরচে মানুষকে বেশি পণ্য ও সেবা দিতে পারবে। এক্ষেত্রে বড়রাই টিকে থাকবে। কস্ট ইফেক্টটিভ হবে। কম দামে পণ্য ও সেবা দিতে পারবে, তারাই টিকে থাকবে। এ জন্য কারখানা সম্প্রসারণে যাবে এলসি খোলা বাড়বে, এক্ষেত্রে চুক্তিতে যাবে। আর ছোটরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

এ সময় আইটিতে একটি রেডিকেল চেঞ্জ আসবে। ফিন টেকনোলজির দিকে চলে যেতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত ধারার ব্যাংকিং থেকে নতুন ধারা ব্যাংকিংয়ে চলে যেতে হবে। আমরা এখন যেমন ভাবি, যে ব্যাংকের যত বেশি শাখা আছে সে ব্যাংক তত বেশি শক্তিশালী, কোভিড পরবর্তীকালে আমাদের সেই পথ থেকে বের হয়ে আসতে হবে। খরচ কমাতে হবে অন্যদিকে প্রযুক্তির সেবা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে ‘ওয়ার্ক ফর হোম’-এ যেতে হবে। যদি ৩০ শতাংশ অ্যামপ্লয়ারের কাজ ঘরে বসে হয় ওই কর্মীর আর অফিসের অ্যারেঞ্জমেন্ট লাগবে না। এর জন্য খরচ বাঁচবে কিন্তু এই কাজ প্রযুক্তির মাধ্যমে করে গ্রাহক সেবা দিতে হবে। এভাবে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ফিন-টেককে নিতে হবে। টেকনোলজির যে অ্যাডভান্সমেন্ট সেটাকেও আমাদের নিতে হবে। এভাবে ব্রাঞ্চ না বাড়িয়ে বাড়াতে হবে ওয়ালেট, ব্রাঞ্চ না বাড়িয়ে বাড়াতে হবে মোবাইল ব্যাংকিং। এখন কাস্টমার বলবে, ব্রাঞ্চে না গিয়ে ঘরে বসে সেবা নেব, কোভিডে আমরা সেলফ ডিসটেন্স মেইনটেন্ড করব। ঘরে বসে অ্যাকাউন্ট করতে চাই, ঘরে বসে লেনদেন করতে চাই। এটা কিন্তু সম্ভব করতে হবে। ওই গ্রাহকের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ব্যাংকারদের এখন থেকে সেই প্রস্তুতি নিতে হবে।

ইজ অব ডুয়িংটাও করে নিতে হবে। কারণ আমাদের বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, চীন বলেন বা অন্য কোনো দেশের কথা বলেন। এটা করতে পারলে বিদেশি বিনিয়োগ হুমড়ি খেয়ে পড়বে। ইজ অব ডুয়িং যদি না হয়। বিদেশিরা বিনিয়োগ করতে এসে যদি লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের শিকার হয় তাহলে তারা বিমুখ হবে। এ বিষয়ে আমাদের এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আশার কথা সরকার এ ব্যাপারে সিরিয়াস। ক’দিন আগে কেবিনেট সচিবের নেতৃত্বে একটি বৈঠকে আমি ছিলাম। কীভাবে এ ধরনের সুযোগ বাড়াতে পারি, আমাদের সামনে ফোর জেনারেশন বিপ্লব হবে সেটা যেন সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি এ ব্যাপারে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপরের দিকে খুব ইতিবাচক। এ সদিচ্ছা গ্রাউন্ড লেবেলে নিয়ে আসতে হবে।