স্বপ্নের সেন্টমার্টিন

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

স্বপ্নের সেন্টমার্টিন

ওয়াসিফ রিয়াদ ১:২৮ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

print
স্বপ্নের সেন্টমার্টিন

ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা- খুব কাছ থেকে সাগরের ঢেউ দেখব। সাগর তীরে উপচে পড়া বড় বড় ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে দেব। যত দিন যাচ্ছিল সাগরের প্রতি প্রবল এ আকর্ষণ যেন কুরে কুরে খাচ্ছিল। এসব জল্পনা-কল্পনা বাস্তবে রূপ নিলো ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট ফেস্ট-২০১৯’ এর একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে।

এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের এক হওয়ার সুযোগ হয়। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি (রুরু) থেকে ১১ জন সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয় এবং সমাপনী অনুষ্ঠিত হয় কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।

এই অনুষ্ঠানকে উপলক্ষ করেই আমাদের সমুদ্র ভ্রমণের সূচনা ঘটে। অনুষ্ঠান শেষে লাবণি পয়েন্টে গিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করি। প্রথমবারের মতো কাছ থেকে সমুদ্র দেখার সে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সেদিন মধ্যরাত পর্যন্ত সৈমুদ্র সৈকতে কাটিয়েছিলাম। শীতল বাতাস আর সমুদ্রের গর্জন অন্যরকম অনুভূতির সঞ্চার করেছিল। সমুদ্রতীরে আছড়ে পড়া ভয়ংকর ঢেউয়ের গর্জনে বুক কেঁপে উঠলেও যেন নেশার মতো কাছে টানে প্রতিনিয়ত।

কক্সবাজারের সৌন্দর্য উপভোগ শেষে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিল সেন্টমার্টিন। তাই ‘মেরিন ড্রাইভ’ ধরে টেকনাফ যাওয়ার জন্য আগের রাতেই ‘চাঁদের গাড়ি’ ভাড়া করে রাখলাম। হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে রওনা দিলাম দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার জার্নি শেষে আমরা টেকনাফ পৌঁছলাম।

লঞ্চ ছাড়তেই কোথা থেকে যেন শত শত গাঙচিল জাহাজের পিছু নেওয়া শুরু করল। এমন অপরূপ দৃশ্য দেখার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ কল্পনা করতে পারবে বলে মনে হয় না। পরে নাফ নদী এবং বঙ্গোপসাগরের সন্ধিক্ষণে আসার পর পাখিগুলো থেমে যায়।

দীর্ঘ ৩ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করার পর আমরা এসে পৌঁছলাম কাক্সিক্ষত সেই সেন্টমার্টিন দ্বীপে। সমুদ্রের মাঝে ভেসে ওঠা ছোট্ট এই দ্বীপে কয়েক হাজার মানুষের স্থায়ী বসবাস। প্রতিদিন হাজারও পর্যটক এখানে আসে এবং তাদের দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করছে এখানকার স্থায়ী বাসিন্দারা। পুরো বিকাল ঘুরলাম সমুদ্রের তীরে। অনেক দিনের আশা ছিল সমুদ্রতীরে বসে চাঁদ দেখার। অবিশ্বাস্য হলেও সেদিন রাতেই সুপার মুন উঠেছিল। লঞ্চঘাটে বসে আমরা চাঁদ এবং সমুদ্র উপভোগ করছিলাম আর পাশাপাশি চলছিল গলা ছেড়ে গান।

চাঁদ-সমুদ্রের গভীর মিতালির এ রকম একটা রাত না কাটালে বুঝতেই পারতাম না- জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে। আমাদের পরবর্র্তী পরিকল্পনা ছিল ছেঁড়াদ্বীপে যাওয়া। সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন অংশটিই ছেঁড়াদ্বীপ নামে পরিচিত। পরদিন সকালে লাইফ বোটে করে আমরা ছেঁড়াদ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিলাম। প্রায় ৩০ মিনিট সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পৌঁছাই সেখানে।