বৈশাখে স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

বৈশাখে স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা

বিনোদন প্রতিবেদক ২:৪৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

print
বৈশাখে স্বপ্নদলের চিত্রাঙ্গদা

‘বর্ষ আসুক বর্ষ যাক, থিয়েটার চিরসাথী থাক’- স্লোগান ধারণ করে বাংলা নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত প্রযোজনা ‘চিত্রাঙ্গদা’র দুটি বিশেষ মঞ্চায়নের আয়োজন করেছে। পহেলা বৈশাখ রোববার বিকাল ৫টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এ প্রদর্শনী দুটি অনুষ্ঠিত হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরায়ত সৃষ্টি ‘চিত্রাঙ্গদা’-র গবেষণাগার নাট্যরীতিতে নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।

রবীন্দ্রনাথ মহাভারতের চিত্রাঙ্গদা-উপাখ্যান অবলম্বনে ১৮৯২-এ কাব্যনাট্যরূপে এবং ১৯৩৬-এ নৃত্যনাট্যরূপে ‘চিত্রাঙ্গদা’ রচনা করেন। স্বপ্নদলের ‘চিত্রাঙ্গদা’ প্রযোজনাটি নির্মিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের কাব্যনাট্য পাণ্ডুলিপিটি অবলম্বনে।

এর নাট্য কাহিনীতে উপস্থাপিত হয় মহাবীর অর্জুন সত্যপালনের জন্য একযুগ ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করে মণিপুর বনে এসেছেন। মণিপুর-রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, অর্জুনের প্রেমে উদ্বেলিত হলেও অর্জুন রূপহীন চিত্রাঙ্গদাকে প্রত্যাখ্যান করেন। অপমানিত চিত্রাঙ্গদা প্রেমের দেবতা মদন এবং যৌবনের দেবতা বসন্তের সহায়তায় এক বছরের জন্য অপরূপ সুন্দরীতে রূপান্তরিত হন।

এবারে অর্জুন যথারীতি চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। কিন্তু অর্জুনকে লাভ করেও চিত্রাঙ্গদার অন্তর দ্বন্দ্বে ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে অর্জুন প্রকৃতপক্ষে কাকে ভালোবাসেন, চিত্রাঙ্গদার বাহ্যিক রূপ নাকি তার প্রকৃত অস্তিত্বকে? এভাবে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে যেন এ কালেরই নর-নারীর মনোদৈহিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মানাবস্থানের প্রেরণারূপে উপস্থাপিত হয়।

‘চিত্রাঙ্গদা’র বিভিন্ন চরিত্রে মঞ্চে উঠবেন সোনালী, জুয়েনা, শিশির, শ্যামল, রানা, সামাদ, হ্যাপী, সুমাইয়া, আঁচল, ঊষা, অর্ক, সম্রাট, আলী, বিপুল, অনিন্দ্য, নিসর্গ, অমর, মাসুদ, সুকুমার, বিমল প্রমুখ। এ পর্যন্ত ‘চিত্রাঙ্গদা’র ৭৪টি সফল মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের পহেলা বৈশাখে নাটকটির ৭৫ ও ৭৬তম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।