বন্ধ হোক দুর্বৃত্তপনা ও জালিয়াতি

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

বন্ধ হোক দুর্বৃত্তপনা ও জালিয়াতি

সম্পাদকীয় ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২০

print
বন্ধ হোক দুর্বৃত্তপনা ও জালিয়াতি

জালিয়াত চক্র বরাবরই সক্রিয় ছিল। বর্তমানে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল প্রতারণাও। সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জীবন বিষিয়ে তুলছে এরা। গতকাল খোলা কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে জালিয়াত চক্রের জাল বিছিয়ে পড়েছে। এক হাজার, পাঁচশ’ টাকার জাল নোট বিভিন্ন এটিএম বুথেও ঢুকে পড়েছে। নকল স্ট্যাম্প ও ডাক টিকিটের ফাঁদে পড়েছেন অনেকে। জালিয়াত চক্রের এসব কর্মকা-ে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। জাল নোট বহন, প্রচলন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে দেশে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন না থাকায় বিভিন্ন সময় ধরা পড়েও পার পেয়ে যান জাল-জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। ফলে থামছে না অসাধুদের কারবার। যদিও এ বিষয়ে নতুন আইন আসছে বলে জানা যায়।

এরই মধ্যে গত শনিবার পুলিশের জালে আটকা পড়েছে জালিয়াত চক্রের চার সদস্য। রাজধানী ঢাকা ও আশুলিয়া থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগ তাদের গ্রেফতার করেছে। নকল স্ট্যাম্প, ডাক টিকিটি, কোর্ট ফি বানিয়ে জেলায় জেলায় সরবরাহ করত তারা। আসলের মধ্যে চালিয়ে দিত নকল সব স্ট্যাম্প-টিকিট। গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াত চক্রের কাছ থেকে ১৮ কোটি টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, ডাকটিকিট, কোর্ট ফি ছাড়াও স্ট্যাম্প তৈরিতে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার, বৈদ্যুতিক সেলাই মেশিন ও একটি সাধারণ সেলাই মেশিনও জব্দ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন ধরে জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।

জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে দেশে প্রথমবারের মতো একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ আইন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে অপরাধীদের কঠিন শাস্তির পাশাপাশি গ্রাহক হয়রানি বন্ধে রাখা হচ্ছে বেশ কিছু বিধান। কোনো গ্রাহক অজান্তে জাল নোট বহন করলে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা যাবে না। দেওয়া যাবে না শাস্তি। আর অপরাধীদের ক্ষেত্রে জাল নোট যার কাছে যত বেশি থাকবে তত বেশি শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। সূত্র জানায়, জাল নোট বহন, প্রচলন ও বিস্তারের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে দেশে বর্তমানে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফৌজদারি দ-বিধি ১৮৬০ ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর আওতায় বর্তমানে জাল নোটের মামলা ও বিচার সম্পন্ন হয়।

জাল নোটসহ যাদের ধরা হয় তাদের অনেকেই সাধারণ মানুষ। আইনি ঝামেলায় পড়ে হয়রানি হতে হয়। এছাড়া সাক্ষীর অভাবে বিচারও বিলম্বিত হয়। এসব কারণে নতুন আইন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে আইনের খসড়া তৈরি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে মতামত দেওয়ার জন্য। আইনের খসড়াটি আরও সময়োপযোগী করতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে একটি বৈঠকও হয়েছে। জাল-জালিয়াতি বন্ধে বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা বেড়েছে। এ তৎপরতা চলমান থাকুক। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারলেই জনজীবনে ফিরবে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ।