সঠিক ভূমিকা রাখুক জাতিসংঘ

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

সঠিক ভূমিকা রাখুক জাতিসংঘ

সম্পাদকীয় ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

print
সঠিক ভূমিকা রাখুক জাতিসংঘ

সারা বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ সংস্থার কাছে কোটি মানুষের প্রত্যাশাও তাই বেশি। প্রত্যাশার জায়গায় জাতিসংঘ কতটুকু কী করতে পারছে সে বিষয়েও আলোচনা হয় প্রায়ই। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত’ রোডম্যাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জাতিসংঘকে শতবর্ষ ও এর বেশি সময়ে সঠিক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, ইউএনজিএ-৭৫-কে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুস্পষ্টভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত। গত মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন দাবি জানান।

জাতিসংঘকে দুর্বল করে- এমন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন না দেওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘকে দুর্বল করে- এমন কোনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়। আমরা এটা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে পেয়েছি। এজন্য তাদের কাছে আমরা ঋণী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদেরও জাতিসংঘকে একটি সত্যিকার অর্থে সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক কার্যকরী সংস্থায় পরিণত করতে হবে। আমরা এমন অনেক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেছি, যা আমাদের মানবসভ্যতার নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেছে। ইউএনজিএ-৭৫ এ ধরনের আরেকটি মুহূর্ত আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মহামারী আমাদের ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনকে আরও কঠিন করে দিয়েছে।

চলমান মহামারীসহ বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ ধরনের সংকট মোকাবিলার অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। মহামারী দেখিয়ে দিয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জাতিসংঘকে এখন বেশি প্রয়োজন। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অনেক উপকৃত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছে ঋণী। বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এখন আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য রয়েছে। বিশ্বের সংঘাত-প্রবণ দেশগুলোর শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৫০ শান্তিরক্ষী সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সঙ্গে একই সময়ে হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, জাতিসংঘ ভবিষ্যতে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। এটা জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিকতার ওপর বাংলাদেশের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রমাণ। অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য জাতিসংঘের সব কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ধারণকৃত ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের কাছে যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তা যেন সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষেরই চাওয়া। আমরাও প্রত্যাশা করি, জাতিসংঘ সঠিক ভূমিকা পালন করবে। তাতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্তির পথ যেমন সুগম হবে তেমনি প্রতিষ্ঠিত হবে সাম্যবাদী পৃথিবীও।