মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোন হন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোন হন

সম্পাদকীয় ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২০

print
মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোন হন

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে মাদকই যথেষ্ট। তরুণ সমাজকে সহজেই বিপথগামী করছে এই মাদক। মাদকের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের সব ক্ষেত্রে। সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিলেও রোধ করা যায়নি মাদকের করাল থাবা। গত রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আজিম আহমেদ জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে ইয়াবা ব্যবসা মূলত বন্ধ করা যাচ্ছে না।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ব্যবসা গড়ে উঠেছে। সেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে। পুরো দেশে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি ঘটানোর পেছনে রোহিঙ্গাদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণে ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার বন্ধ করা যাচ্ছে না। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক।

রোববার সকালে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয় কক্সবাজার র‌্যাব-১৫  কার্যালয়ে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গতকাল খোলা কাগজে। র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও তাদের সঠিক তথ্য পারে অনেকাংশে মাদক নির্মূল করতে।

যদি গণমাধ্যমকর্মীরা সঠিক তথ্য প্রদান করে আমাদের সহায়তা করে আমরা অনেক এগিয়ে যাব মাদক নির্মূলে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মাদকমুক্ত করার বিষয়ে জেলা পুলিশের ঘোষণায় ঐক্যমত পোষণ করে সবসময় মাদক নির্মূলে কাজ করছে র‌্যাব। আগামীতে সবার সঙ্গে সহযোগিতা করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন র‌্যাব কর্তৃপক্ষ। এই বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে ১০,৮৩,৭১৯ পিস।

বর্তমানে কক্সবাজারসহ পুরো বাংলাদেশ করোনা আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যস্ত সময় পার করছে ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু মাদক কারবারি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের মাদক ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সারা দেশে বিভিন্ন মাধ্যমে মরণ নেশা ইয়াবা পাচারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। দেশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে মাদক নির্মূলে গণমাধ্যমসহ সবাইকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান র‌্যাব-১৫  অধিনায়ক।

তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতির আলোকে গত ১৬ মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৫ এর অভিযান সব সময় ছিল এবং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। ইয়াবা ব্যবসা যে পরিমাণ কমার কথা, সে পরিমাণ আদৌ কমেনি। বরং পাইকারি এবং খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃতি বাড়ছে। এতে নতুন প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইয়াবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবা পাচার বাড়ছে এবং বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন সেক্টরের এতে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের কারণেও ইয়াবা ব্যবসা কমছে না বলে র‌্যাব অধিনায়ক আজিম আহমেদ মন্তব্য করেন। মতবিনিময় সভায় আগত সাংবাদিকরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার বন্ধ করা, মিয়ানমারের সিম ব্যবহার বন্ধ করা, মাদকের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষকতাকারী জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের তালিকা প্রকাশ প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হতে হবে, নেপথ্যের গডফাদারদের স্বরূপ উন্মোচন করাও সময়ের দাবি। সরকার সঠিক পন্থায় অগ্রসর হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।