অবৈধ বিদেশি ফেরত পাঠানো

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অবৈধ বিদেশি ফেরত পাঠানো

প্রবাসীদের কথাও ভাবতে হবে

সম্পাদকীয় ৯:০০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৮, ২০১৯

print
অবৈধ বিদেশি ফেরত পাঠানো

আমাদের দেশে অনেক বিদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছে সেটি নতুন কোনো খবর নয়। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন অপকর্মে বিদেশিদের জড়িয়ে পড়ার যে সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে, তা সরকারকে ভাবিয়ে তুলেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত যেমন জরুরি ছিল, ঠিক তেমনি প্রবাসে অবৈধভাবে যেসব বাংলাদেশি রয়েছেন তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে অবৈধভাবে বাস করা ১১ হাজার বিদেশিকে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকের পর জানানো হয়, বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে ব্যবসা করছে। অনেকে অপরাধের সঙ্গে জড়াচ্ছে। এদের অনেকে জেলে রয়েছে, যাদের সাজার মেয়াদও শেষ হয়েছে।

এ ছাড়া ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অবৈধভাবে এ দেশে অবস্থান করছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক রয়েছে, যাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই বিদেশিদের মধ্যে আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, তানজেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছে। অবৈধ নাগরিকদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের টাকা দিয়েই তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থান করা বিদেশি নাগরিকদের অনেকের পাসপোর্টসহ কোনো কাগজপত্রই বৈধ নেই। এরপরও তারা গোপনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারকে কোনো ভ্যাট বা কর দেন না তারা। অথচ এ দেশের নাগরিকের চেয়েও তারা বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ তারা নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন।

এদিকে সৌদি আরব থেকে আরও ৯৬ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছেন। গত বুধবার সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে এই মাসে পাঁচ দিনে মোট ৪২১ জন ফিরলেন। ফেরত আসা অধিকাংশ কর্মীর অভিযোগ, বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের জোর করে ধরে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আবার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাস তাদের পাশে যথাযথভাবে ভাবে দাঁড়াচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে বিদেশে কর্মরত আমাদের প্রবাসীদের কথা বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার জন্য সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কোনো বিকল্প নেই বলে আমরা মনে করি।