পিতার হাতে সন্তান খুন

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পিতার হাতে সন্তান খুন

অসহায় মানবতার কান্না

সম্পাদকীয় ৯:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
পিতার হাতে সন্তান খুন

মানুষ কতটা নিকৃষ্ট হতে পারে তার নির্মম উদাহরণ যেন শেষই হচ্ছে না। বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যা করার শোক কাটতে না কাটতেই সামনে এলো শিশু তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা। যা আমাদের নির্বাক অনুভূতিতে বিস্মিত করছে। বিশেষ করে ঘুমন্ত শিশুকে গভীর রাতে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে বাবার কোলেই হত্যার ঘটনা বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে ভয়ের কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। কেননা পৃথিবীতে শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হচ্ছে মা ও বাবা। আর সেই বাবা যখন ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তখন বিশ^াসের জায়গা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকতে পারে না।

খোলা কাগজে প্রকাশ, সুনামগঞ্জের শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনাটি এতই নিষ্ঠুর, নির্মম, বর্বর, রোমহর্ষক, জঘন্য ও অমানবিক ছিল ভাবলেও ভয়ে মানুষের শরীরে শিহরণ শুরু হয়। হত্যার পর শিশুর লাশটি যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয় তা দেখার শক্তি হয়তো অনেকেরই নেই। শিশুটির বয়স সাড়ে পাঁচ কিংবা ৬ বছর। দুই কান কাটা। পেটে ঢোকানো দুটি ছুরি। পুরুষাঙ্গ কাটা। পরনে হাফ প্যান্ট। শরীরে জড়ানো একটি টি-শার্ট। এমন অবস্থায় কদমগাছের ডালে ঝুলছিল নিথর ছোট্ট দেহটি। ছবিটি দেখলেই বোঝা যায় কী নির্মমতা হয়েছে শিশুটির সঙ্গে। শিশুটির ওপর চালানো নির্মম, নিষ্ঠুর ও জঘন্য ঘটনার খবর মিডিয়ার সুবাদে সাধারণ মানুষ জানতে পারার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেন।

আমাদের দেশে শিশুহত্যার ঘটনা এটাই যে প্রথম তা নয়। এর আগেও সিলেটে শিশু সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা, খুলনায় শিশু রাকিবকে হত্যা, বরগুনার তালতলী উপজেলায় রবিউল নামে এক শিশুকে মাছ চুরির অভিযোগে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় বাক্সের ভেতর এক শিশুর শরীরে ছ্যাঁকা ও জখমের চিহ্নসংবলিত লাশ, চাঁদপুরে ভ-পীরের কবলে পড়ে মা তার চার বছরের শিশুকন্যাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। তা ছাড়া পত্রিকার পাতা খুললে কিংবা টেলিভিশনে চোখ রাখলে এরকম অসংখ্য শিশু হত্যার ঘটনা দেখা যায়। আর অনেক ঘটনা থাকে পর্দার অন্তরালে, ধামাচাপা পড়ে ক্ষমতা আর অর্থের দাপটে।

এসব ঘটনায় দেশবাসী আজ শঙ্কিত, আতঙ্কিত এবং স্তম্ভিত। মানুষ হয়েও এভাবে মানুষ হত্যা ও নির্মমতার ঘটনায় আজ মানবতা কাঁদছে। এসব কি নৈতিক অবক্ষয়ের ফল কিনা তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য এই শিশুটিকে পরিবারের লোকজনই হত্যা করেছেন। আমরা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় মর্মাহত এবং এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে শিশু তুহিনের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।