ডেঙ্গুর আরও অবনতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

ডেঙ্গুর আরও অবনতি

জরুরি পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়-১ ৯:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০২, ২০১৯

print
ডেঙ্গুর আরও অবনতি

ডেঙ্গু জ্বর ক্রমাগতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। এমন পরিস্থিতিতেও সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধই থেকে যাচ্ছে। দায়িত্বশীলরা অনেকেই কথা বলছেন কিন্তু কাজ হচ্ছে সে তুলনায় খুবই কম। তাই ডেঙ্গুরোধে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে এখনই।

পত্রিকায় প্রকাশ, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যত দিন গড়াচ্ছে ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৪ জন বলা হলেও পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়েছে। মহামারী আকারে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটায় মানুষের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির এ রকম ভয়াবহ অবনতির পরও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিধনে এখনো কোনো অ্যাকশন-প্ল্যান করতে পারেনি দুই সিটি করপোরেশন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর আর বিশেষজ্ঞরা যখন সতর্ক করছে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে এখনই উদ্যোগ যদি না নেওয়া হয় তবে চলতি আগস্ট ও সামনের সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

জরুরি এ আপৎকালীন অবস্থা বিবেচনা করে যখন দ্রুত বিদেশ থেকে কার্যকর ওষুধ নিয়ে আসা প্রয়োজন সেখানে সিটি করপোরেশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঠেলাঠেলি বাড়ছে। কার কী দায়িত্ব ও ভূমিকা তা হাইকোর্ট থেকে মধ্যস্থতা করে দিতে হচ্ছে। এদিকে গত কয়েক দিনে অব্যাহতভাবে ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালগুলোকে।

নতুন করে ঢাকার তিন হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য। চিকিৎসক, নার্সদেরও রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠছে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে। অধিকাংশ জায়গায় ডাক্তার ও নার্সদের ডেঙ্গু চিকিৎসার প্রশিক্ষণ না থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে রোগীদের। সামনের ঈদের ছুটিতে আরও ব্যাপকভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভয়াবহ এ পরিস্থিতিতে সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ-হতাশা-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। কিন্তু পরিস্থিতি মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের গড়িমসি, অপরিকল্পিত ও অগোছালো কর্মকাণ্ড মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে চলছে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ডেঙ্গু সংকট নিরসনের জন্য সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। তাতে নতুন করে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তরের মেয়র কলকাতা থেকে বিশেষজ্ঞ আনার যে কথা বলেছেন সেটিকে স্বাগত জানালেও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘসূত্রতার শঙ্কা করছেন তারা। এমন দোদুল্যমান অবস্থার ফলে সৃষ্ট নৈরাজ্যের অবসান চাই আমরা। কোনো প্রাণ অবহেলায় ঝরে যাক, সেটি কাম্য নয়। তাই ডেঙ্গু রোধ করে জনগণের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে, আমরা সে প্রত্যাশাই করি।