স্টাইল

ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২০ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

স্টাইল

বিশ্বজিৎ রায় ১:৫১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২০

print
স্টাইল

রায়হান সাহেব ছেলের মতিগতি কিছু বুঝছেন না। কখন যে কী করছে তার কোনো ঠিক নেই।

মাত্র কলেজে উঠেছে। অমনি আবদার ধরল, তাকে নতুন সাইকেল কিনে দিতে হবে। পুরনোটা নাকি আর ভালো লাগছে না।
‘নতুন সাইকেল! দাম কত?’ জানতে চাইলেন তিনি।
‘বিশ হাজার।’
দাম শুনে ভিরমি খাওয়ার জোগাড় রায়হানের।
সাইকেল পেয়ে বেশ খুশি হল রাহুল।
কয়েকদিন ধুন্ধুমার সাইকেল চালাল।
তারপর সাইকেল পড়ে থাকল গ্যারেজে।
‘সাইকেল কি খারাপ হয়েছে?’
‘না, বাবা।’
‘তাহলে! কলেজে কীভাবে যাচ্ছিস?’
‘বিপুলের সাইকেলে চড়ে।’
‘তোর নিজের সাইকেলটা কী দোষ করল?’
‘বাবা আমার সাইকেলটা রেঞ্জার। একজনের বেশি চড়া যায় না। তাই বন্ধুর সাইকেলে চড়ে কলেজ যাচ্ছি।’
কয়েকদিন আবার বায়না ধরেছিল রাহুল।
‘বাবা, আমার কয়েকটা জ্যাকেট আর সোয়েটার লাগবে।’
মা মরা ছেলেটার জন্য সবাই কিছু না কিছু করে। কয়েকদিন আগেই ওর খালা বেশ কয়েকটা সোয়েটার পাঠিয়েছেন ঢাকা থেকে।
‘তোর খালা যে সোয়েটার দিল!’
‘হারিয়ে ফেলেছি।’ নির্বিকারভাবে বলল রাহুল।
‘কীভাবে?’
‘সোয়েটার খুলে রেখে ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলাম। খেলা শেষে সোয়েটার না নিয়েই বাসায় ফিরেছি।’
মা মারা যাওয়ার পর ছেলেটা একটু কেমন যেন হয়ে গেছে।
আজ কলেজে যায়নি। বারবার বেসিনের আয়নায় নিজের মুখ ঘুরিয়ে দেখছে।
কী দেখছে। অবাক হলেন রায়হান। জিজ্ঞেস করতে গিয়েও থেমে গেলেন তিনি। চুপচাপ লক্ষ করতে লাগলেন।
একটু পরই চোখের নিচের চামড়া টেনে দুই চোখের ভেতর দেখার চেষ্টা করল রাহুল।
সর্বনাশ! ছেলে নেশাটেশা করছে না তো! ভাবলেন বাবা।
একটু পরই চোখ বড় বড় করে আয়নায় দেখতে লাগল রাহুল।
‘কী হয়েছে, বাবা? অসুখ-বিসুখ হয়নি তো। আমাকে খুলে বল। আজকাল করোনা ভাইরাসে মানুষ পর্যন্ত মরছে। অসুখ হলে লুকিয়ে রাখতে নেই বাবা।’
‘কেন তোমার মনে হচ্ছে আমার অসুখ হয়েছে?’
‘তুই যেভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিজের চোখ আয়নার কাছে নিয়ে গিয়ে দেখছিস- অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।’
‘ওহ্ হো! বাবা, তুমি ভুল বুঝছ।’
‘ভুল!’
‘কৈশিক নল কী জিনিস জানো বাবা?’
‘সেটা আবার কী?’
‘কেশ মানে হলো চুল। আর চুলের মত সূক্ষ্ম ছিদ্রযুক্ত নলকে কৈশিক নল বলে।’
‘এটা আমি জেনে কী করব?’
‘আমাদের ফিজিক্স টিচার বলেছেন, আমাদের চোখে অতি সূক্ষ্ম অনেকগুলো কৈশিক নল রয়েছে। আমি সেগুলোই দেখছিলাম, বুঝলে!’