অবিরত সংসারযুদ্ধ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

অবিরত সংসারযুদ্ধ

আলম তালুকদার ২:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

print
অবিরত সংসারযুদ্ধ

সং+সার=সংসার। মানে কী? এর সোজা সরল মানে হলো, যত সঙ, ঢঙ ও রঙ ততই সার, মানে মজা বা আনন্দ। এটা হলো স্বাভাবিক দর্শন। যদি উল্টা হয় মানে মজা বা আনন্দ না হয়ে যদি নিরানন্দ হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে তা সাময়িক! আর দুনিয়া যেহেতু দুই নিয়া চলে সেহেতু আমরা স্বামী-স্ত্রী, ভালো-মন্দ, বাবা-মা, ভাই-বোন খুব বেশিদিন দূরে রাখতে পারি না। চিরকালের দ্বন্দ্ব! আর স্বামী-স্ত্রী তো কথাই নেই। এদের জন্যই দ্বন্দ্ব সমাসের নাম সার্থক হয়েছে। স্বামীরা এবং স্ত্রীরা এমন এক প্রাণী, তারা সময়ের ব্যাপ্ত পরিসরে আসামি হয়ে যায় আর স্ত্রীরা ইস্তিরি হয়ে যায়!

স্বামী-স্ত্রী নিয়ে এত গল্প এত মিথ আর জোকস তা কহতব্য নয়। অনেকের মতে পুরুষরাই সব জোকসের পয়দাকারক! প্রচলিত প্রায় সব জোকসই স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বানানো হয়েছে! এই যে একটা আইসা গেল। এক ধনীর দুলাল একই গ্রামের গরিবের কন্যাকে বিবাহ করেছে। যোগ্যতা হলো, মেয়েটি সুন্দরী ও কর্মঠ। তো সে স্বপ্নেও ভাবেনি এমন ধনীর ঘরে বিয়ে হবে, তাও প্রভাবশালী ধনী। বর বাসর রাতে কনেকে জিজ্ঞেস করল, ‘খুশি তো! কেমন লাগছে?’ মেয়েটি লেখাপড়া করেনি। অনুভূতি তার ভাষায় প্রকাশ করে বলল, ‘আপনে আমার বাপের কাম করচুন’!

এই রে, আরেকটা আইছে। এইবার শহরের বিয়ে। বাসর রাত। নতুন বউ জামাইকে বলছে, ‘আমাকে কেমন দেখাচ্ছে?’

বর হাছা-মিছায় এমন সব বিশেষণ প্রয়োগ করল, তাতে বিশ^সুন্দরী ফেলটুস! প্রশংসা শুনে নববধূ এমন কান্না শুরু করে দিল, জামাই খুব বিব্রত হয়ে তবদা মাইরা খাড়াইয়া গেল! অনেকক্ষণ পরে কনে বলল, ‘আমার মধ্যে যে এত গুণ, এত রূপ, এটা যদি আগে বুঝতে পারতাম তাহলে কি তোমাকে বিয়ে করি!’ মনে হয় জমেনি। এবার তাহলে অভিজ্ঞ সংসারে যাই। একরাতে স্বামীকে স্ত্রী বলছে, ‘তুমি আমাকে কেমন ভালোবাস?’

‘জানপ্রাণ দিয়া ভালোবাসি।’
‘আমি মরলে তুমি কানবা?’

‘অবশ্যি! কান্নাকাটি করে বুক ভাসাইয়া দিমু। তুমি আমার জানপাখি উইড়া যাবা- কানমু না? এতটা পাষাণ ভাবতে পারলা?’
এবার স্ত্রী বলল, ‘আমি মইরা গেলে তুমি কেমন কইরা কানবা সেটা তো আমি দেখবার পারমু না। এখন একটু কাইন্দা দেখাবা?’
বেরসিক স্বামী রসকষহীনভাবে বলে, ‘তাইলে তুমি মইরা দেখাও!’

কী বুজতাছেন! সংসার জীবন বড়ই কেরিকেচার। একটু থামলাম আবার আরেকটা আইছে!

পাশাপাশি দুই পরিবারের বাসা। এক পবিরারের কর্তা সকাল ৮টায় অফিসে যায়, ফিরে আসে রাত ১০টা-১১টায়। এই নিয়ে তুমুল বিবাদ। স্ত্রী তাকে বলে, ‘তুমি একটা স্বামী বটে। সুখ পাইলাম না। নিজের ইচ্ছা মতোন চালাইলা। আরে দেখো ওই যে প্রতিবেশী ভাইকে। সে সকাল ৮টায় যায়, ঠিক ৬টায় বাসায় ফিরে আসে।’

তার জানার ইচ্ছা হলো ওই আদর্শ স্বামীর প্রকৃত অবস্থাটা আসলে কেমন। একদিন সকাল সকাল ফিরে পাশের বাসায় কান পাতল। তখন বাসায় তুমুল চলিতেছে। স্ত্রী স্বামীকে বলছে, ‘তুমি একটা পুরুষ না ভেড়া? ৬টায় বাসায় এসে খালি হুকুম, এটা দাও ওটা দাও। রান্নাঘরে গিয়ে আমাকে জ্বালাতন করো। নিরিবিলি একাকী কোনো কাজ আমি করতে পারি না। সবসময় পিছে ঘুরঘুর করতে থাকো! পুরুষ হচ্ছে ওই পাশের বাসার ভাই। দেখো, সে সকাল ৮টায় বের হয় ১০টার আগে ফেরে না!’

সব শুনে পাশের বাসার পুরুষটি মনে মনে বলে, ‘লে হালুয়া! শালা কোনদিকে যামুরে মামু’?

একবার এক লেখক একটি বই লিখলেন। বইটির নাম ‘হাউ টু কন্ট্রোল ইউর লাইফ’। কিন্তু ছাপা হলো, ‘হাউ টু কন্ট্রোল ইউর ওয়াইফ’! শুধু এলের জায়গায় ডব্লিউ ছাপা হওয়াতে বইটি বেস্টসেলার হয়েছিল! এখন বোঝেন ওয়াইফ শব্দটির দাম কত!

আপনি বিবাহ করলেন বা বসলেন তো। এবার আপনারা বিছানায় যাবেন, তারপর? বিছানা থেকে একসময় বি বিশেষ কারণে উবে যাবে, তারপর ছানারা পোনারা আসবে। জগত হাসবে, আপনারাও হাসবেন। তাই না? তবে সব কাজেই পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগলেও অফিসিয়ালি বিয়ের জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট দরকার নেই!

বিস্ময়কর বটে। এখন রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়! জীবনের সঙ্গে থাকে মৃত্যু, মৃত্যুর আগে থাকে যুদ্ধ। এটাই মানুষের নিয়তি। সংসার সুখে থাকে পরস্পর সমন্বয়ের কারণে। স্বামীদের সহ্যশক্তি থাকতে হবে এবং ভুলে যাবেন, ক্ষমা করে দেবেন, দেখবেন কী শান্তি! আহা, কত শান্তি! কথাটি স্ত্রীদেরও মনে রাখা উচিত। এটা লিখলাম কারণ, বউ কখনো আমার অখাদ্য লেখা ভুলেও পাঠ করে না! হা হা হা। এটাও আমার একটা আনন্দ বটেক!