মশা প্রতিরোধ!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মশা প্রতিরোধ!

গোলাম মোর্তুজা ১:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

print
মশা প্রতিরোধ!

সমস্যা যখন প্রকটে, অর্থকড়ি পকেটে কর্তারা চলেন তখন শকটে! আহা রে দেশ! সব্বনেশে সমস্যার হয় না শেষ। হরদমপুরের খ্যাপাবুল একজন শান্ত কিসিমের বিষম লোক। বাস্তবতা নিয়ে আছে তার বিস্তর শোক। বিয়েও করেছে দেরিতে, বেশ ভালোই চেহারা-সুরতে। হঠাৎ কোথা থেকে বা কাউকে বৌ সাজিয়ে, শব্দহীন ঢাকে-ঢোলে-বোলে-জয়ে নিল বাবার আলয়ে। এতে বাবা-মা বেজায় খুশি, বৌমার নামও যে হাসি। বিয়ের খরচা প্রচুর, সবটা বাঁচিয়ে দিয়েছে খ্যাপাবুল। বাবা তাই হেসে আকুল-ব্যাকুল।

একদিন বর্ষা এলো ধেয়ে, আকাশ বয়ে-বেয়ে। খবর হলো ডেঙ্গু আসছে, চিকুনগুনিয়া এসেছে। হেমোরেজিক জ্বরেও মারা গেছে কতেক, সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে শতেক। এসব কিছু হচ্ছে এডিস মশার দুষ্টচক্রে, কর্তাব্যক্তিদের ভুষ্টিনাশে। মশা মারতে কামান হাতে, অলিতে-গলিতে বেকুব সংস্থাগুলো ছেয়ে দিয়েছে সব ধোঁয়াতে-ধোঁয়াটে। খ্যাপাবুল ভাবে, এলাম এ কোন দুনিয়াই, মরে যায় মানুষ চিকুনগুনিয়ায়। ও বাজারে যাওয়ার সময় স্ত্রী মনকে বলল, ‘বাইরে যাচ্ছি, মশারি আনছি। নইলে যে মশা রক্ত খাবে, জ্বরে ভোগাবে।’

স্ত্রী মন মশা নিধন এ্যারোসল স্প্রে করল। অসহ্য মশা পীড়ন। খ্যাপাবুল হাতে নিল এ্যারোসল, স্প্রে করল অনর্গল। স্বামীকে থামতে ও থামাতে স্ত্রী বলল, ‘এ কী করছ! মশা মারবার এ্যারোসল গায়ে মারছ?’ খ্যাপাবুল মিহি ও মোটা সুরে বলল বেসুরে, ‘মশা যেন কামড়াতে না পারে, আর ভুল করে কামড়ালেও যাবে ভেসে অকূলে।’ খ্যাপাবুল কথা আর না বাড়িয়ে, চলল বাজারে নির্র্ভয়ে। দু’ঘণ্টা পরে ফিরল ঘরে, হাতে মশারি করে। স্ত্রী মন খুলে দেখল আর তা তুলেও রাখল। মশারি টাঙানো সেই-সে রাতে, খ্যাপাবুল টাঙায় নিজ হাতে এঁটে-সেঁটে।

একটি মশারি টাঙানো শেষে আরেকটি টাঙায় মশার রেশে-রেশে। স্ত্রী মন ভাবছে এখন, ‘এ কী করলে, মশারি যে দুটি টাঙালে? মানুষ দেখলে কী বলবে, লজ্জা লাগবে, খোলো এখনি তবে।’ খ্যাপাবুল হয়ে যাচ্ছে বুঝি আবুল। স্ত্রীর কথাতে চমকে ভড়কে গেলেও স্ত্রীর চেয়ে বেশি বুদ্ধি ও বিচক্ষণতা দেখানোর মানসে বলল সহাসে, ‘ঠিকই করেছি, মশার কামড়ে মরবে নাকি? দেশের খবরাখবর রাখোনি সে কী! ডেঙ্গু আর চিকুনগুনিয়াই দেশ হয়ে গেল সয়লাব। দেশের কথা ভেবে আমার কী লাভ, নিজের জীবন বাঁচানো ফরজ কাজ। নিজেদের সুবিধে, ভালো থাকবার সাধে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে, দুটি মশারিই টাঙালাম সিধে।’