নজরানা

ঢাকা, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

নজরানা

মুহা. তাজুল ইসলাম ১:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৯

print
নজরানা

মফিজ সাহেব একজন সরকারি কর্মকর্তা। শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল করলেও সেটি তার কোনও কাজেই আসেনি। চাকরিটা পেতে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল। সেই দুই লাখ টাকা উঠাতে কত কোটি টাকা ঘুষ খেয়েছেন হিসাব নেই। কিন্তু সেই দুই লাখের আফসোস শেষ হয় না। কাজ ভেদে রেট তার ভিন্ন, টাকা নেওয়া হয় চার্ট অনুসারে। কারও জন্য কম বেশি নেই। এ যেমন পাঁচ লাখ টাকার ফাইলের জন্য ৫০ হাজার টাকা, ১০ লাখ টাকার ফাইল পাস করার জন্য এক লাখ টাকা। মাত্র দশ পার্সেন্ট, ফ্ল্যাট রেট।

এলাকার মানুষের জন্য তার আবার বিশেষ ছাড় আছে, রেটের উপর সর্বোচ্চ বিশ পার্সেন্ট থেকে ৫০ পার্সেন্ট পর্যন্ত ডিসকাউন্ট তিনি দেন। যাদের প্রজেক্টের টাকা উঠেনি, তাদের জন্য রয়েছে বাকির ব্যবস্থা, কেউ চাইলে আবার কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে পারেন, মানবতা বলে একটা বিষয় আছে। বাকি টাকা আবার প্রতিবছর বৈশাখ মাসে হালখাতা করে সংগ্রহ করেন। যদিও অনেকের কাছে তিনি এখনও বাকির টাকা পান, ঘুষের টাকা পর্যন্ত এসব লোক মেরে দিয়েছে। এ জন্য মফিজ সাহেবের মনে বড় আফসোস, পৃথিবীতে মানুষকে বিশ্বাস করা দায়।

আজ অফিসে মাসুদ সাহেব একটি কাজ নিয়ে এসেছেন। অফিসে ঢুকে বললেন, ‘এখন তো ঈদ না। এ সময়ে সালামি নেন যে!’
মফিজ সাহেব বললেন ‘দেখুন, ঈদ মানে খুশি, কাজ ফাইল পাশও খুশি। খুশি মানেই সালামি।’
‘তাহলে আপনি রেট নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে?’
‘যাতে মানুষ কত সালামি দেবে তা বারবার জিজ্ঞাসা না করে!’
‘আমি একটা কাজের সুপারিশ করতে এসেছি। শুনেছি আপনি সালামি পেলে সব কাজ করে দেন! কোনো মানুষকে ফেরান না।’
‘কথা সত্য। সালামি দিলে কাউকেই না বলতে পারি না। সেটা যে কাজই হোক। আপনি চাইলে কিস্তিতে বা বাকিতেও দিতে পারেন। আমি আবার চেক নিই না, ঝামেলা আছে।’
‘ঠিক আছে, নগদ ক্যাশই দেব। কোনো বাকি হবে না। কাজটি হবে তো?’ ‘অবশ্যই হবে। দুই রকম কথা বলি না, পছন্দও করি না। মনে করেন কাজটি হয়ে গেছে।’
‘শুনলাম আপনাকে সালামি দিলে ভাঙা রাস্তা ঠিক রাস্তা বলে দেন, মাটিকেও ইট বলে মেনে নেন, বাঁশকে রড করে দেন। কাউকেই নাকি আপনি এখন পর্যন্ত ফেরাননি। আসলে আমার ছেলের সঙ্গে আপনার মেয়ের সম্পর্ক, আপনি নাকি এটা মেনে নিচ্ছেন না। তাই যা দিয়ে কাজ হয়, সেই সালামি নিয়েই এসেছি! সালামিটা নিয়ে বিয়ের তারিখ ঠিক করে ফেলুন!’