ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ | ২২ ফাল্গুন ১৪৩০

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

শ্রমিকের অধিকার আদায়ে ইসলাম

মো. নুরুল আমিন
🕐 ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২৩

শ্রমিকের অধিকার আদায়ে ইসলাম

শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিশেষভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস। এটি বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের ন্যায্য অধিকার পাওয়ার স্বীকৃতির দিন।

১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে অধিকার আদায়ে সংগ্রামরত শ্রমিক হত্যার দায়ে এই রক্তাক্ত ইতিহাসের সূচনা হয়। এরই প্রতিবাদে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সে শ্রমিক সম্মেলনে শিকাগোর রক্তঝরা দিনটিকে 'মে দিবস' হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। সে আলোকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি ব্যাপক আয়োজন ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে পালন করা হয়। সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে এভাবে দিবস পালনের মাধ্যমে দিন শেষে কী শ্রমজীবী মানুষরা তাদের ন্যায্য অধিকার ও পারিশ্রমিক ফিরে পাবে? তাদের জন্য উন্নত ও উপযোগী কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা হবে? শ্রমিক মালিক সুসম্পর্ক ও সহানুভূতি কী কোনো অংশে বৃদ্ধি পাবে? শ্রমিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে? তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এরকম হাজারো প্রশ্ন জাগে। এছাড়াও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাবে শ্রমিকদের জীবন যাত্রা যে বিশাল চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা যে বেতন পাচ্ছে তা দিয়ে তাদের সাংসারিক ব্যয়ের সাথে যে সামঞ্জস্য করতে পারছে না, তা কি আমরা ভেবেছি। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করলে অনেক শ্রমিক কাজ হারাচ্ছেন। আবার অনিরাপদ কর্মস্থলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে যেয়ে কত যে শ্রমিক প্রতিবছর দুর্ঘটনায় হতাহত হচ্ছে অথবা মৃত্যুবরণ করছে তার কোনো হিস্যা নেই। এতে একদিকে ধীরে ধীরে শ্রম বাজার নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে কাজের প্রতি শ্রমিকদের অনাগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বাড়ছে বেকারত্ব। এখন সময় এসেছে এসব নিয়ে চিন্তা করার এবং ব্যবস্থা নেওয়ার। আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে শ্রমিকদের ভূমিকা অপরিসীম। সুতরাং এটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সকলে সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে তারা আমাদের মতই মানুষ তাদেরও পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বেচেঁ থাকার অধিকার আছে। ইসলাম শ্রমের মর্যাদা দিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষদের সম্মানের আসনে বসিয়েছে। কারণ তারা ছাড়া আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন একেবারেই অচল। শ্রমের প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনের সূরা জুমার ১০ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন- 'অত:পর যখন সালাত শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনের বুকে ছড়িয়ে পড়ো এবং রিজিক অন্বেষণ করো।' (সূরা জুমা, আয়াত-১০) শ্রমিকের পারিশ্রমিক ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে সবসময় সোচ্চার ছিলেন বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)। এ বিষয় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, ' শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকানোর আগে তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।' ( মিশকাত, পৃ-২৫৮) শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য এবং তাদের ন্যায্যতা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গ রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন: 'তোমাদের অধীন ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তায়ালা যে ভাইকে তোমার অধীন করে দিয়েছেন তাকে তাই খেতে দাও, যা তুমি নিজে খাও। তাকে তাই পরিধান করতে দাও যা তুমি নিজে পরিধান করো।' (বুখারি) শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার বিষয়ে ইসলামের এই নির্দেশনাসমূহ সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক বৈষম্য কমে যাবে। মালিক শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে। শ্রমজীবী মানুষরা একটি সুন্দর, নির্ভরযোগ্য ও প্রত্যাশিত কাজের পরিবেশ পাবে। তবেই উন্নত, সমৃদ্ধ ও শ্রম বৈষম্যমুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মিত হবে।

 

মো. নুরুল আমিন

অধ্যক্ষ

প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ, রায়পুর, লক্ষীপুর।

 
Electronic Paper