ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বাংলাদেশ সারা বিশ্বের নিকট অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

মো. খসরু চৌধুরী সিআইপি
🕐 ১:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৩

বাংলাদেশ সারা বিশ্বের নিকট অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত

ক্ষুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের নিকট সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃক্ষরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে শেখ হাসিনার বিশ্বাসযোগ্য ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যতিক্রমীভাবে দুর্দান্ত সফলতা অর্জন করেছে। ফলস্বরূপ, বিভিন্ন খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। শত বাধা বিপত্তিকে পাশ কাটিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বুকে দেশকে পরিচিত করেছেন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি দেশের একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না, একজন মানুষও দরিদ্র থাকবে না, একজন মানুষও অসহায় থাকবে না। শেখ হাসিনার মতো জনবান্ধব প্রধানমন্ত্রী অতীতে কখনো আসেনি। তিনি যেভাবে গরিবের কষ্ট বোঝেন, দুঃখীর দুঃখ বোঝেন, অসহায়ের ব্যথা বোঝেন, এ রকম না হলে তিনি রাষ্ট্রনায়ক হতে পারতেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা প্রমাণ করেছেন। দেশরতœ শেখ হাসিনা দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি অসহায় মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এক কথায় বলা চলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী, বিচক্ষণ ও সফল রাষ্ট্রনায়ক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে প্রতিটি সেক্টরেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া ও খুলে গেছে অযুত সম্ভাবনার দ্বার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অবস্থা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ইত্যাদি সামাজিক খাতে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এ অগ্রগতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ‘ঈর্ষণীয়’ বলে বর্ণনা করেন।

শেখ হাসিনার সরকারের ১৪ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদের্শী নেতৃত্বে সকল দিক থেকেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী দিক নির্দেশনা ও শিক্ষামন্ত্রীর উপযুক্ত নেতৃত্বে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। বছরের প্রথম দিনেই বিনামূল্যে সকল পাঠ্যবই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আগে মেয়েরা পড়াশুনায় অনগ্রসর ছিল, এখন উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রণোদনার কারণে মেয়েদের শিক্ষিত করার ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতনতা বেড়েছে এবং মেয়েরাও শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল শহর থেকে গ্রামে সবাই পাচ্ছে। ঘরে বসে দেশে-বিদেশে তথ্য বিনিময়সহ। অনলাইনে প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ইন্টারনেটের কারণে বিশ্ব একেবারেই হাতের মুঠোয়। এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সত্যিই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হবে।

দেশপ্রেমী প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের কষ্ঠার্জিত উপার্জন দেশে পাঠাচ্ছে। বাড়ছে রেমিটেন্স, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ হচ্ছে সুনিশ্চিত। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে। একসময় বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত ছিল। বলা হতো অনুন্নত দেশ, তারপর বলা হতো উন্নয়নকামী দেশ। নিম্ন বা গরিব দেশ থেকে এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে যে স্বপ্ন দেশের মানুষকে দেখিয়ে ছিলেন, আজকে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ লাভ করেছে। শেখ হাসিনা সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদসহ চতুর্থবার দেশ পরিচালনা করছে। দেশবাসী আজ এর সুফল পাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি, একাত্তরের ঘাতক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা, সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি ও সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সফল উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশ জয়, সাবমেরিন যুগে বাংলাদেশের প্রবেশ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় দুই হাজার ২২৭ মার্কিন ডলারে উন্নীত, মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন থেকে রিজার্ভ ৪৮.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত, দারিদ্র্যের হার হ্রাস, মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত, ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত ও প্রায় শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা, যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, সাক্ষরতার হার ৭৫.৬০ শতাংশে উন্নীত করা, বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া, মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা ও স্বীকৃতি দান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি/বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, নারীনীতি প্রণয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ, ফোরজি মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার চালুসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে কালোত্তীর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

ইতোমধ্যে দেশের ৯টি জেলার ২১১টি উপজেলায় সম্পূর্ণরূপে ভূমিহীন-গৃহহীনদের পুনর্বাসিত করা সম্ভব হয়েছে। এটি বিশ্বকে তাক লাগানোর মতো একটি বিস্ময়কর ঘটনা অবশ্যই। বিনামূল্যে নামজারিসহ দুই শতক জমিতে পরিকল্পিত বাসগৃহ পেয়ে ছিন্নমূল গৃহহীন পরিবারগুলো আনন্দে আত্মহারা। এর পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় পুনর্বাসিত হয়েছে আরও দুই লাখ ১৬ হাজার ৭০৪টি পরিবার। পরিবারপ্রতি পাঁচজন হিসেবে এই কার্যক্রমে এ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ জন।

বাকি ২১ হাজার ৪০টি পরিবার চিহ্নিত করে তাদের পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশে কোনো মানুষ ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না- অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে গৃহশুমারি করে সরকার অবগত হয় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার মানুষ তখন ছিলেন ভূমিহীন-গৃহহীন অথবা যাদের জমি আছে ঘর নেই। সেই তালিকা অনুযায়ী সুবিধাবঞ্চিতদের চিহ্নিত করে ঘর দেওয়া হচ্ছে পর্যায়ক্রমে।

শেখ হাসিনার গত তিন মেয়াদে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, তা নজিরবিহীন। শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এক বিস্ময় বিশ্ববাসীর কাছে। বর্তমানে বিদেশিরাও বাংলাদেশের সাফল্যের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

লেখক: পরিচালক, বিজিএমইএ; শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ; চেয়ারম্যান, নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাউন্ডেশন।

 
Electronic Paper