‘সমাজে নারীর অবদান’

ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

‘সমাজে নারীর অবদান’

রোকেয়া ডেস্ক
🕐 ৬:২১ অপরাহ্ণ, মে ১১, ২০২২

‘সমাজে নারীর অবদান’

বর্তমান বিশ্বে নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে বহু আন্তর্জাতিক সংগঠন। কর্মক্ষেত্রের সকল জায়গায় নারীদের সরব পদচারণা এখন চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ৫০ বছর বা ১০০ বছর আগের চিত্র ছিল ভিন্ন। নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা ছিল শত শত। সেই সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন এমন নারীদের নাম জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়, যারা আজকের নারীদের অনুপ্রেরণা যোগান। ইতিহাসে শীর্ষ পাঁচজন নারীকে নিয়ে প্রতিবেদন সাজিয়েছেন আতিকুর রহমান কাযিন

নারীর ইতিহাস হল এমন এক ধরনের শিক্ষা যেখানে নারীরা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে ভূমিকা রেখেছেন। লিপিবদ্ধ ইতিহাসে নারীর অধিকার আদায়ের ইতিহাস, একক এবং দলগতভাবে ইতিহাসে নারীদের গুরুত্ব পর্যালোচনা। এবং তাদের উপর ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রভাব এই শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। নারীর ইতিহাস শিক্ষায় দেখা যায় অনেক রেকর্ড পাওয়া যায় না বা তাদের অবদান এবং তাদের উপর ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রভাব উপেক্ষা করা হয়। ফলে নারীর ইতিহাসে অনেক ক্ষেত্রেই সংশোধনের প্রয়োজনীতা দেখা যায়।

জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পথিকৃৎ
জেন অ্যাডামস ৬ সেপ্টেম্বর ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি প্রথম মার্কিন নারী যিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন। তার পুরো নাম লরা জেন অ্যাডামস। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে তাকে নিকোলাস মারি বাটলারের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তিনি একজন সমাজ সংগঠক, অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবী ও লেখক। জনকল্যাণ, নারীবাদী প্রচারণা এবং বৈশ্বিকতার জন্য তিনি বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জ্জন করেছিলেন। আধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনকল্যাণূলক কর্মকাণ্ডের তিনি পথিকৃৎ। সমাজকল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা এবং প্রথম মহাযুদ্ধোত্তর কালে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনবদ্য অবদানের জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

প্রাথমিক জীবন
তরুণী জেন অ্যাডামস, কক্স, শিকাগোর একটি অচেনা স্টুডিও পোর্ট্রেট জেন এডামসের জন্ম সেডারভিল, ইলিনিওসের এক সমৃদ্ধশালী সুখী পরিবারে। তিনি ছিলেন পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ৮ম সন্তান। জেনের বয়স যখন মাত্র ২ বছর, তখন তার মা সারা অ্যাডামস গর্ভাবস্থায় যক্ষারোগে মারা যায়। জেনের পিতা জন এইচ অ্যাডামস ছিলেন “দ্যা সেকন্ড ন্যাশনাল ব্যাংক অব ফ্রিপোর্ট” এর প্রেসিডেন্ট, ১৮৫৪ থেকে ১৮৭০ পর্যন্ত ইলিনইস স্টেট সিনেটর। এছাড়াও তিনি ছিলেন আব্রাহান লিঙ্কন সমর্থিত রিপাবলিকান পার্টির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জেনের বয়স যখন ৮বছর, তখন তার পিতা জন এইচ অ্যাডামস আবার বিয়ে করেন।

শিক্ষাজীবন
জেনের বাবা তাকে উচ্চ শিক্ষা অর্জনে উৎসাহিত করতেন। জেন পড়ালেখা করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। রকফোর্ড কলেজ থেকে স্নাতক পাশের পর তিনি মাত্র ৭ মাস ফিলাডেলফিয়ার “উইমেন’স মেডিকেল কলেজ অব ফিলাডেলফিয়া” তে পড়ালেখা করেন এবং এর কিছুদিন পরই পড়ালেখা বর্জন করেন। এর কিছুদিন পর তার পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে ৫০,০০০ ইউ এস ডলার পান।

ইউরোপ ভ্রমণ
১৮৮৫ সালে তিনি ২ বছরের জন্য তার সৎ মায়ের সাথে ইউরোপ যান। ঘরে ফেরার পর তিনি বেশ একঘেয়ে হয়ে উঠেন, বিয়ের ব্যাপারে বেশ অনীহা দেখান এবং তৎকালীন সমসাময়িক মহিলারা জীবনে যা আশা করত তার চেয়ে বেশি কিছু তিনি চাইতেন। মেরুদণ্ডের বেশ জটিল এক চিকিৎসা শেষে ১৮৮৭ সালে তিনি পুনরায় ইউরোপে তার ২য় ভ্রমণে যান, এবার তার সফরসঙ্গী ছিলেন তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ও শিক্ষক ‘এলেন স্টার’।

হুল হাউজ
১৮৮৯ সালে তিনি তার কলেজ সহপাঠী ‘এলেন স্টার’ শিকাগোতে সম্মিলিতভাবে গড়ে তুলেন ‘হুল হাউজ’, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সর্বপ্রথম। হাউজটির নামকরণ করা হয় ‘চার্লস হুল’ এর নামানুসারে, যিনি দালানটি বানিয়েছিলেন ১৮৫৬ সালে। এবং এই হুল হাউজটি বানাতে গিয়ে জেন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৫০,০০০ ইউ এস ডলার এর পুরোটাই খরচ করেন। ‘হুল হাউজ’ এর স্পন্সর হয়েছিলেন ‘হেলেন কালভারন’, যিনি একজন বিত্তবান রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী ছিলেন। ১ম বিশ্বযুদ্ধে তার খোলাখুলি শান্তিবাদী মন্তব্য এবং যখন নৈরাজ্যবাদ ও সমাজতন্ত্র সবচাইতে আতঙ্কগ্রস্থ করে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্রকে, তখন তার ‘ডিফেন্স অব ইমিগ্র্যান্টস সিভিল রাইটস’ এর কারণে জেন সবচাইতে সমালোচনার সম্মুখীন হন। কিন্তু তা জেনকে ‘হুল হাউস’ কার্যক্রমকে সামনের দিকে এগিয়ে চলার আপ্রাণ চেষ্টাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। ১৯১২ সালে থিয়োডোর রুজভেল্টের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইন এ তিনি যোগদান করেন ব্যাপকভাবে এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বক্তব্যও দেন।

শান্তি আন্দোলন
জেন ‘উইমেন’স ইন্টারন্যাশনাল লীগ ফর পীস এন্ড ফ্রীডমের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, যার দায়িত্ব পালনের স্বার্থে তিনি ১ম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এবং তার পরবর্তীকালে ইউরোপ এবং এশিয়া ভ্রমণে যেতে বাধ্য হন। জেন এ শান্তিবাদের উপর একটি ভাষণ দেন যা পত্র-পত্রিকা এবং মিডিয়া ভুলভাবে উপস্থাপন করে; এবং তাকে দেশদ্রোহী হিসেবে অভিহিত করে। এটা ছিল তার জীবনের সবচাইতে কঠিন সময়। পরবর্তীতে, তিনি বিভিন্ন শ্রেণীর কূটনীতিকদের সাথে মিলিত হন ও তাদের সাথে সাক্ষাতের মাধ্যমেই তার সময় অতিবাহিত করতে থাকেন এবং শান্তি রক্ষায় নারী আন্দোলনের ভূমিকা টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তার এই চেষ্টার স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৩১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী হিসেবে তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন।

 

 
Electronic Paper