সংগীতের বিরামহীন বাতিওয়ালা

ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ১২ আশ্বিন ১৪২৮

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

সংগীতের বিরামহীন বাতিওয়ালা

লিটন ঘোষ জয়
🕐 ২:১১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

সংগীতের বিরামহীন বাতিওয়ালা

বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সংগীত জগতে ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনের অগণিত ভক্ত ও শিক্ষার্থী ছড়িয়ে আছে। অসংখ্য গুণী শিষ্য ও সংগীতশিল্পী সৃষ্টি করেছেন তিনি। ভারতীয় সংগীতশিল্পী ইলা বসুু, শিপ্রা দাস, বাংলাদেশের সংগীত সাধক ও গবেষক ড. সনজিদা খাতুন, সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান, ওস্তাদ বেদার উদ্দিন আহমেদ, সংগীতশিল্পী মিলিয়া আলী ও লতিফা চৌধুরী প্রমুখসহ বিভিন্ন খ্যাতিমান শিল্পীর নাম তার শিষ্য তালিকায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। সংগীতজ্ঞ, সংগীতগ্রন্থ প্রণেতা ও উচ্চাঙ্গ কণ্ঠশিল্পী ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনের প্রতি জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা রেখে তাকে নিয়ে লিখেছেন লিটন ঘোষ জয়-

ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিন

ছদ্মনামে যিনি আজও আলমপিয়া পরিচয় বহন করেন। যদিও তিনি সংগীত মনীষী হিসেবে বাংলাদেশের এক সুপ্রতিষ্ঠিত নাম ও প্রতিষ্ঠান। তবুও আরেকটু কাছের করে তুলতে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের জন্য বলতে হয়, বর্তমান আর্ক ব্যান্ডের সঙ্গেও তার একটি পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে।
তবে তার আগে বলে নিই, বন্দেশ এর বাংলা অর্থ হলো, গানের বাণী, ইংরেজিতে যাকে বলে লিরিক। হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত বিশেষত ‘খেয়াল’ গানের বাণীকেই বন্দেশ বলা হয়। “আলমপিয়া বিনা দরশ নাহি জিয়া ...।” মালকোষ রাগের এই বন্দেশ অংশটি বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত। এমনই আরও বহু বন্দেশে ‘আলমপিয়া’ ছদ্মনামে চিরজীবী হয়ে আছেন এই বন্দেশ নির্মাতা। অনেকের ধারণা আলমপিয়া হয়তো দিল্লি বা লক্ষনৌ এর কোনো সংগীত সাধক। এর মূল কারণ হলো তিনি হিন্দিতে বন্দেশ লিখতেন। বাংলায় লিখলে হয়তো এই বিভ্রান্তি ছড়াত না। অবশ্য তিনি যখন বন্দেশ তৈরি করেছেন, সে সময় বাংলা বন্দেশ বাঙালি হিন্দুস্তানি খেয়াল সাধকদের কাছে বড়ই নিন্দনীয় ছিল। আধুনিক যুগের উষাকালে ভারতের পন্ডিত বিষ্ণু নারায়ণ ভাতখন্ডে (১৮৮০-১৯৩৬ খ্রি.) সমগ্র উত্তর ভারতীয় সংগীতের শিক্ষা পদ্ধতিতে নবদিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।


সংগীত শিক্ষা জীবন

ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিন ১৯০১ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন বৃহত্তর যশোর জেলা, বর্তমান মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সেই ম্যাট্রিক পাস করার পর পারিবারিক বন্ধন ছেড়ে শুধু সংগীত শেখার টানে তিনি ছুটে যান কলকাতায়। প্রখ্যাত সংগীত সাধক নুলো গোপাল বাবুর প্রধান শিষ্য রাসবিহারী মল্লিকের কাছে টানা বারো বছর ধ্রুপদ ও খেয়ালের তালিম নেন। অতঃপর প্রখ্যাত সংগীতবিদ গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী পরিচালিত সংগীতকলা ভবনে ভর্তি হয়ে উচ্চাঙ্গ সংগীতে সার্টিফিকেট লাভ করেন। পরবর্তীতে আর্থিক সংকটের জন্য কলকাতায় সংগীত শিক্ষাজীবন বাধা পায়। তবু সেসব সংকট মোচনের জন্য কলকাতার ‘ওয়েলম্যান স্টোরে’ সাতাশ টাকা বেতনে সেল্সম্যানের কাজ শুরু করেন তিনি। তবে কিছুকাল পরেই তিনি তার বাবার ডাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। যৌবনে মুনশী রইস উদ্দিন প্রথমে কুষ্টিয়া মিলে চাকরি করেন। সংগীত শিক্ষা প্রসারের জন্য ঐ সময় তিনি কুষ্টিয়ায় সংগীত বিদ্যালয় স্থাপন করেন। পরে মাগুরা, নড়াইল ও খুলনাতেও সংগীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এরপরেও তিনি আবার কলকাতায় ছুটে যান সংগীতে উচ্চ শিক্ষার তালিমের তাগিদে। সেবার তিনি তৎকালীন কলকাতার বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ পন্ডিত গিরিজা শংকর চক্রবর্তী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত সংগীত কলা ভবনে ভর্তি হন। পন্ডিত গিরিজা শঙ্করের ভাগ্নে শ্রী যামিনী গাংগুলীর (ডক্টর অব মিউজিক) কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন। পাশাপাশি পন্ডিত গিরিজা শংকরের কাছেও তালিম নেন। কঠোর শ্রম আর নিষ্ঠাভরা সাধনার জন্য কিছুদিনের মধ্যেই সেখানে খ্যাতি অর্জন করেন। সেই খ্যাতিরই রেশ ধরে ১৯৩৮ সালে প্রথম কলকাতা বেতারে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ আসে। সেবার তিনি ছদ্মনাম আর. মুনশী (রবিন মুনশী) পরিচয়ে বেতারে গান পরিবেশন করেন। দীর্ঘদিন তালিমের পরে ১৯৪২ সালে তিনি সংগীত কলাভবন থেকে সম্মানসূচক সার্টিফিকেট লাভ করেন। এরপরেই লাক্ষনৌর সংগীতবিশারদ শরজিৎ কাঞ্জিলালের কাছেও কিছুকাল তালিম নিয়েছেন।

সংগীতে অবদান

কর্মজীবন থেকেই তার ব্রত হয়ে দাঁড়ায় শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষার প্রচার ও প্রসার। সংগীতে উৎসাহ সৃষ্টি করা, শিক্ষার্থী বৃদ্ধিকরণ এবং নতুন নতুন রাগসুর সৃষ্টি করা ইত্যাদি। দেশ বিভাগের পূর্বে সংগীতশিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি সংগীতের বহু বিষয়ে পাঠ্যবই রচনা করেন। ১৯৪০ সালে তিনি ‘সরল সঙ্গীতসার’ ও ‘সঙ্গীত শিক্ষা পদ্ধতি’ এই দুইটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ঢাকা বেতারে শিল্পী হিসেবে যোগদান করেন এবং নারায়ণগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তারই উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে ‘প্রবেশিকা সংগীত বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি তার অধ্যক্ষ পদে ব্রত হন।
১৯৫৫ সাল থেকে তিনি ঢাকার বুলবুল ললিতকলা একাডেমির সহ-অধ্যক্ষ এবং ১৯৬৪ সালে অধ্যক্ষের পদ অলঙ্কৃত করেন। সেখানে আমৃত্যু তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। এই কাজেরই পাশাপাশি সংগীত শিক্ষা প্রসারের জন্য তিনি বিভিন্ন স্থানে সংগীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও করেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রসার, সংগীত সম্পর্কে জনগণের উৎসাহ সৃষ্টি এবং নতুন নতুন ছাত্র তৈরি করা ছিল রইস উদ্দিনের জীবনের লক্ষ্য। বিভাগোত্তর পূর্ব বাংলায় সংগীত বিষয় শিক্ষাপাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত হলে তিনি সংগীত বিষয়ে অনেক পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন। গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি তিনি বহু নতুন রাগরাগিণীও সৃষ্টি করেন। এভাবে তিনি সংগীতের প্রসার ও উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৬০ সালে বিদ্যালয়ে সংগীতশিক্ষার জন্যে তার ‘প্রবেশিকা সংগীত শিক্ষা পদ্ধতি’ বইটি টেক্সট বুক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ও প্রকাশিত হয়। বর্তমানেও এই বইটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় বইয়ের মধ্যে একটি। কাকতালীয় বিষয় হলো, কবি গোলাম মোস্তফা ছিলেন মুন্সি রইস উদ্দিনের স্কুল শিক্ষক। পরবর্তীকালে ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিন কবি গোলাম মোস্তফার সংগীত শিক্ষক হয়েছিলেন। এই উপমহাদেশের বহু খ্যাতনামা ও দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দীনের কাছে সংগীত শিখেছেন।

সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ

সংগীত শিক্ষক হিসেবে তিনি বহুল জনপ্রিয় হয়েছিলেন তার শেখানোর কৌশল ও সংগীত শিক্ষা পদ্ধতির জন্য। রাষ্ট্রীয়ভাবেও তার খ্যাতির কমতি ছিল না। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন পদকপ্রাপ্ত এই সংগীতমুনির যে সকল গ্রন্থ রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে তার কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো :
১. ছোটদের সা-রে-গা-মা
২. অভিনব শত রাগ
৩. সংগীত পরিচয় (৭ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক)
৪. গীত লহরী (৯ম ও ১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক)
৫. প্রবেশিকা সংগীত শিক্ষা পদ্ধতি (৯ম, ১০ম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক)
৬. রাগ লহরী।
জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের সংগীত পাঠ্যপুস্তকের জন্য তার মতো এত পরিমাণ বই সে সময় কেউ প্রণয়ন করেনি। এখনো তার বইগুলো সংগীত শেখার জন্য খুবই সমাদৃত। ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনের আরও একটি শ্রেষ্ঠ পরিচয় হলো অভিনব রাগ রূপকার হিসেবে। গ্রন্থের পাশাপাশি তিনি নতুন রাগরাগিণী সৃষ্টি ও বন্দেশ রচনা করেন। ‘পদ্মাবতী’ নামে একটি রাগ সৃষ্টি করে তিনি বাংলার সংগীত জগতে রাগ রূপকারের পদে অধিষ্ঠিত হন। অভিনব শতরাগসহ শাস্ত্রীয় সংগীতের (লক্ষণগীত, ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরী) প্রায় সব ধারারই প্রায় সহস্র বন্দেশ রচনা করেছেন। আর এসব বন্দেশ রচনার ক্ষেত্রে তিনি আলমপিয়া ছদ্মনামটি ব্যবহার করেছেন। আলমপিয়া ছদ্মনামে মোট ৩৫৭ টি রাগভিত্তিক গান সৃষ্টি করেছেন। তার গবেষণামূলক সঙ্গীতগ্রন্থ অভিনব শতরাগ রচনার জন্য তিনি ‘আদমজী পুরস্কার’ লাভ করেন।

পুরস্কার ও সম্মাননা

সংগীত গবেষক হিসেবে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অভিনব শতরাগ’ ১৯৬৬ সালে ‘দাউদ সাহিত্য পুরস্কার’ ‘আদমজী পুরস্কার’, সংগীত গবেষণার জন্যে এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিরল অবদানের স্বীকৃতিতে ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ সম্মানে তাকে ভূষিত করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ রচিত হওয়ার কিছুকাল পরেই তার মহাপ্রয়াণ ঘটে। কিন্তু দেরিতে হলেও সংগীত শিক্ষা প্রসার ও উন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য তাকে (১৯৮৫-১৯৮৬ সালে) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘একুশে পদক’ (মরণোত্তর) সম্মানে ভূষিত করা হয়। আশিকুজ্জামান টুলু, সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনের কনিষ্ঠ সন্তান।
আশিকুজ্জামান টুলু তার ফেসবুকের একটা পোষ্টিং-এ বাবাকে নিয়ে লিখেছিলেন নিচের অংশটুকু.....
‘আমার বাবা মরহুম ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিন, উনার জন্যেই আমি আসতে পেরেছিলাম এ ধরায়...। আমার বাবার সংগীত শিক্ষা এবং পরবর্তীতে সংগীতের ওপর অনেকগুলো স্কুল কলেজ ও ইউনিভার্সিটি লেভেলের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করতে গিয়ে তার সারাটা জীবন চলে গিয়েছে এবং সংগীতের জন্য জীবন পার করে দেওয়া ছিল তার জন্য সবচাইতে আনন্দের বিষয়। একজন শিল্পীর সার্থকতা এভাবেই রচিত হয় এবং যে কারণে উনার সন্তান হিসাবে আমরা গর্বিত।
উনি যদি কোটি দুয়েক টাকা রেখে যেতেন তাহলে হয়তো এতদিনে তা শেষ হয়ে যেত, কিন্তু যা রেখে গিয়েছেন, সেটা কোনোদিন শেষ হওয়ার না। উনি অন্য জগতের মানুষ ছিলেন, যিনি শুধু সারাজীবন সংগীতের ওপর লিখে গিয়েছেন অনেক কিছু। আমি আমার বাবাকে খুব কম সময়ের জন্যে পেয়েছিলাম।
আমার যতটুকু মনে পড়ে, উনাকে শুধুই লিখতে দেখেছি দিবারাত্রি। উনার লেখাগুলো ছিল শুধুমাত্র রাগরাগিণী এবং সংগীত সংক্রান্ত রচনা।
বাবাকে খুব মিস করি, খুবই অসহায় লাগে উনাকে ছাড়া। সারাক্ষণ উনার পিঠের ওপর চড়ে থাকতাম আর উনি উপুড় হয়ে শুয়ে লিখতেন।
উনার লেখার খাতাগুলো অনেক বড় এবং মোটা ছিল। উনার এরকম অনেক অনেক খাতা ছিল।
আম্মার কাছে শুনেছি যে আব্বা উনাকে বলেছিলেন- “জামানের মা, আমি মরে যাওয়ার পর আমার এই লেখা খাতাগুলো ফেরিওয়ালার কাছে সের দরে বিক্রি করে দিওনা, এগুলোতে অনেক কিছু আছে।”
আম্মা ওগুলো কোনোদিনও বিক্রি করেন নাই, অনেক যত্নে যুগের পর যুগ রেখে দিয়েছিলেন আমাদের মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের বাসার স্টোররুমে।
আম্মা মারা যাওয়ার পর আবিষ্কার হলো যে ওগুলো একেবারে ঘুণে ধরে আর উইপোকা খেয়ে শেষ করে ফেলেছে। আমরা শেষ পর্যন্ত উনার লেখাগুলো সংরক্ষণ করতে পারিনি। আপনারা আমার আব্বার জন্য দোয়া করবেন।’

শেষ জীবন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে অনিয়ম আর শহর ছেড়ে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়ানোর অবর্ণনীয় কষ্টক্লিষ্টতা হেতু ১৯৭২ সালে তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সবকিছুর মায়া ভুলে এই কর্মময় পৃথিবী ছেড়ে ১৯৭৩ সালের ১১ এপ্রিল (১৩৮০ বঙ্গাব্দ, ২৮ চৈত্র) পরপারে চলে যান। সংগীতজ্ঞ, সংগীতগ্রন্থ প্রণেতা ও উচ্চাঙ্গ কণ্ঠশিল্পী, ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে একটি কদম গাছের ছায়ায় তাকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র ও ঋণস্বীকার

আশিকুজ্জামান টুলু, শিল্পী ও সংগীত পরিচালক
(ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিনের সন্তান)।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সুধীবৃন্দ, বাংলাদেশ সরকার
(সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৯)।

“ওস্তাদ মুনশী রইস উদ্দিন”
মোবারক হোসেন খান (২০১২)।

নূরিতা নূসরাত খন্দকার (লেখক ও গবেষক)।

বাংলাপিডিয়া : বাংলাদেশের জাতীয় বিশ^কোষ
(২য় সংস্করণ)।

সঙ্গীত দর্পণ, মোবারক হোসেন খান
(প্রকাশকাল : জুন ১৯৯৯, বাংলা একাডেমি, ঢাকা)।

“ভাব-সঙ্গীত” খোন্দকার রফিউদ্দিন
(প্রকাশকাল ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৯)।

 

 
Electronic Paper