ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০২৪ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আইসিটির প্রকল্পে ৫ কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
🕐 ২:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৩

আইসিটির প্রকল্পে ৫ কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতি

* জনপ্রতি তিন লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ
* কার্যাদেশও নেওয়া হয় প্রতারণার মাধ্যমে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের এস্টাব্লিশিং ডিজিটাল কানেক্টিভিটি (ইডিসি) প্রকল্পে জনবল নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ইডিসি প্রকল্পের অধীনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের উপজেলাগুলোতে ১৩৮ জন ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান সরবরাহের ক্ষেত্রে এই জালিয়াতি হয়েছে।

প্রকল্পটি বাতিল চেয়ে এরই মধ্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটি বিভাগের সচিবের দফতর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, ইডিসি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও উপ-প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় এবং মহাপরিচালকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছেন প্রকল্পটিতে জনশক্তি সরবরাহকারী কোম্পানি মন্ডল ট্রেডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান কবি শংকর রায় নিজেই।

৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ:
কবি শংকর রায় খোলাকাগজকে বলেন, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব উপজেলায় ‘ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান’ পদে জনবল নিয়োগের কার্যাদেশ পাওয়ার পর মন্ডল ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম ফিরোজ মন্ডল এবং শামসুর রহমান টুটুল চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা করে নিয়েছেন। তারা এই প্রকল্পে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ ও সরবরাহ করে ৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, শামসুর রহমান টুটুল এই প্রকল্পটি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১ কোটি টাকা নিয়েছে, টাকা নেওয়ার প্রমাণও রয়েছে। আমরা আইসিটি মন্ত্রনালয়ের কাছে প্রকল্পটি বাতিল চেয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি ফেরত চেয়েছি। টুটুলের কারণেই মন্ডল ট্রেডার্স লিমিটেড দুইভাগে বিভক্ত, প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

প্রকল্পের কার্যাদেশও নেওয়া হয় প্রতারণার মাধ্যমে:
আইসিটি বিভাগে দেওয়া চিঠিতে কবি শংকর রায় অভিযোগ করেন, আইসিটি বিভাগের প্রকল্পটির দরপত্রের জন্য বিড করার যোগ্যতা ছিল না মন্ডল ট্রেডার্সের। প্রতিষ্ঠানটির কাজের অভিজ্ঞতা তিন বছর। কিন্তু টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ৫ বছর। সেক্ষেত্রে টেন্ডারের শর্ত না হওয়ায় কাজটি বাতিলযোগ্য।

তিনি খোলাকাগজের কাছে অভিযোগ করেন, নিজেকে বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আত্মীয় দাবিকারী শামসুর রহমান টুটুলের হস্তক্ষেপে মন্ডল ট্রেডার্সকে ১১ কোটি ২৮ লাখ টাকার চুক্তি দেওয়া হয়। যদিও কোম্পানির দরপত্রের শর্তাবলী অনুযায়ী বিড করার যোগ্যতা নেই। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ মন্ডল, শাহমসুর রহমান টুটুলের প্রভাবে বিডিং নথি বাদ দিয়েছিলেন। কার্যাদেশ পাওয়ার পর তারা নগদ টাকা নিয়ে ইডিসি প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সব উপজেলায় 'ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান' পদে জনবল নিয়োগ শুরু করে।

মালিকানার দ্বন্দ্ব:
কবি শংকর বলেন, আমি মন্ডল ট্রেডার্সের বৈধ চেয়ারম্যান ও মালিক। কোম্পানির বিনিয়োগকৃত সকল মূলধন আমার। আইসিটিতে কাজ পাওয়ার পরে চুক্তি ও ওয়ার্ক অর্ডার হওয়ার কিছুদিন পর কোম্পানির, এম ডি ফিরোজ মন্ডল আর অফিসে আসেনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ও নিয়ে গেছে সেই মোতাবেক একটি সাধারণ ডায়েরিও করা আছে। বর্তমানে সে সকল জায়গাতে একক মালিকানা সেজে নিজেকে মণ্ডল ট্রেডার্স লিঃ এর পক্ষে চিঠি প্রেরণ করছে আমাকে জানানো ছাড়া। গত ১৪ এপ্রিলের পরে কোম্পানির কোন বোর্ড মিটিং বা বিশেষ মিটিং হয় নাই, এমনকি নোটিশ ও করা হয় নাই। অতএব ফিরোজ মণ্ডলের সকল কার্যক্রম অসৎ উদ্দেশ্যমুলক, দুর্নীতি ও প্রতারনার সামিল ও অবৈধ।

ইডিসির প্রকল্প পরিচালক প্রণব সাহা বলেন, মন্ডল ট্রেডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান কবি শংকর রায়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি এবং আমরা কাগজপত্র পরীক্ষা করছি। মালিকানা নিয়ে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঢাকা ও ময়মনসিংহ দুই বিভাগে নিয়োগ আটকে গেলেও অন্যান্য বিভাগে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে।

এসব অভিযোগে বিষয়ে কথা বলতে মন্ডল ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম ফিরোজ মন্ডলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এখনও কর্মক্ষেত্রে যোগদানের অপেক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা:
ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে ‘ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান’ পদে যেসব চাকরি প্রার্থীরা টাকা দিয়েছিলেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ হয়েছে খোলাকাগজের। তাদেরকে সাময়িক সমস্যার কথা বলে চাকরিতে যোগদানের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চাকরি প্রার্থী বলেন, আমি চাকরির জন্য ভেঙে ভেঙে ২ লাখ টাকা দিয়েছি। এখনও চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে কোন কিছুই জানানো হয় নি। যাদের মাধ্যমে টাকার লেনদেন করেছি, তারা কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেছে। আশা করছি শিগগিরই চাকরিতে যোগ দিতে পারবো।

 
Electronic Paper