ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মার্চ ২০২৪ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩০

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ইরফানের চিকিৎসায় দৈনিক প্রয়োজন লক্ষ টাকা, ব্যয় মেটাতে দিশেহারা পরিবার

হাছিবুল ইসলাম সবুজ, কুবি
🕐 ১২:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০২৩

ইরফানের চিকিৎসায় দৈনিক প্রয়োজন লক্ষ টাকা, ব্যয় মেটাতে দিশেহারা পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী ইরফান উল্লাহর অবস্থার উন্নতি হয়নি এখনো। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাকে (ইরফান উল্লাহ) এখনো লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। মাঝে একবার জ্ঞান ফিরলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পূর্বের মাত্রায় ঘুমের ঔষধ দেন ডাক্তার। এতে জ্ঞান না ফেরায় লাইফ সাপোর্ট কতদিন চলবে ডাক্তার ও সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি। এদিকে ইরফানের চিকিৎসায় ব্যয় প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ টাকা। ফলে চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকেও দেয়া হয়নি তেমন কোনো সহায়তা। এমতাবস্থায় অর্থ সাহায্য চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করলেও গত ১২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে টাকা উত্তোলনকারী শিক্ষার্থীরা পরিবারের হাতে প্রায় ৫৩ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন বলে জানা যায়।

তবে প্রশাসনের অর্থ উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার পর এখনও কোনো আর্থিক সহযোগিতা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও ২২ নভেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুনরায় অর্থ সহায়তা চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

ইরফানের চিকিৎসার জন্য পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে দুই দফায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভাগ ভিত্তিক অর্থ সাহায্যের আবেদন করা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। গত ২০ নভেম্বর বিভাগের অনুমতিক্রমে পুনরায় অর্থ উত্তোলনের কাজ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে কয়েকদিনের সংগ্রহকৃত অর্থ ইরফানের পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে। গতকাল (২২ নভেম্বর) অর্থ সহায়তার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ এম আব্দুল মঈনের সাথে দেখা করেছেন ইরফান উল্লাহর বড় ভাই আব্দুল আজাদ।

ইরফানের চিকিৎসার সার্বিক বিষয় জানতে চাইলে আজাদ জানান, 'ইরফানের চিকিৎসা পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ টাকার মতো ব্যয় হয় এর মধ্যে ঔষধ ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং লাইফ সাপোর্টের বিল প্রতিদিন প্রায় ৪৭ হাজার টাকা। টানা ১৪ দিনে ধরে এ ব্যয় বহন করে আসছে। যার মধ্যে লাইফ সাপোর্টের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে। অর্থাৎ হসপিটালে লাইফ সাপোর্টের বকেয়া বিল হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত নগদ ঔষধ ব্যয় পরিশোধ করেছেন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আরও আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে যা হিসেবের বাহিরে। দিন যত যাচ্ছে এ ব্যয়ের পরিমান আর আর্থিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে ইরফানের পরিারের। তবে সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে আর্থিক সহযোগিতা মিলেছে সামান্য। তিনি আরও জানান, ইরফানের চিকিৎসার পেছনে তাদের যা সঞ্চয় ছিল সব শেষ। এখন আত্মীয় স্বজন থেকে ঋণের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যয় বহন করছেন।

এ বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী জানান, পরিসংখ্যান বিভাগ ও অ্যাসোসিয়েশন উদ্যোগে দুই দফায় আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। ইরফানের চিকিৎসার ফান্ড কালেকশনের জন্য বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে ফান্ড এখনো হাতে আসেনি। আমরা আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে প্রশাসন বরাবরও চিঠি দিয়েছি। গত ১১ নভেম্বর শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ইরফানকে দেখতে গিয়ে আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এদিকে টানা দশদিন পার হলেও চিকিৎসার জন্যে প্রশাসন থেকে কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা পায়নি ইরফান।

আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কোষাধ্যক্ষ এ বিষয়ে বলতে পারবেন। একই কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান জানান, আর্থিক সহযোগিতার জন্য পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে একটি আবেদন পেয়েছি। ইস্যুটা যেহেতু শিক্ষার্থীর যার কারনে আমরা বিভাগের হিসাবে টাকা দিতে পারছি না এরজন্য ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের কাউকে আবেদন করতে হবে।

এদিকে ঘাতক বাস মালিকের সাথে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর। যদিও কি সমঝোতা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। তবে ইরফানের বড় ভাইয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাস মালিক কতৃপক্ষ ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং পরবর্তীতে আরও ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন উপাচার্য।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা পাইনি তবে উপাচার্য ব্যাক্তিগত ফান্ড থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে অর্থের পরিমাণ জানানো হয়নি তাকে।

কুমিল্লা রিজিওন হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানান, মামলা হওয়ার সাথে সাথে কুমিল্লা ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আমরা বাসের ড্রাইভার জাবেদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাসের ড্রাইভার, মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কী পরিমান আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা হয়েছে এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
এ বিষয় জানতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মো. মুশফিকুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায় তিশা পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব-১৫-১৬৪৮ নাম্বারের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন ইরফান উল্লাহ। পরে কয়েক জায়গায় স্থানান্তর হয়ে বর্তমানে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা প্রাইভেট হসপিটালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন তিনি।

 
Electronic Paper