পরীক্ষাভীতি দূর করতে করণীয়

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

পরীক্ষাভীতি দূর করতে করণীয়

আবিদ হোসেন ৩:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০২০

print
পরীক্ষাভীতি দূর করতে করণীয়

শিক্ষা জীবনে ফাইনাল পরীক্ষাসহ শিক্ষার্থীদের ক্লাসেও প্রতিনিয়ত পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষার ভীতি কম বেশি সব শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে। এই পরীক্ষা ভীতি দুর করার কিছু করণীয় দিক তুলে ধরা হলো-

বছরের প্রথম থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করা : বর্তমানে সিলেবাস থাকে দীর্ঘমেয়াদী। সারা বছর না পড়লে পরীক্ষার পূর্বে লেখাপড়ার প্রচন্ড চাপ পড়ে। তাই পরীক্ষাভীতিকে এড়াতে হলে বছরের প্রথম থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।

সঠিক বিষয় নির্বাচন : ভর্তির সময় শাখা বা বিষয় নির্বাচন সঠিক হতে হবে। ভালো নম্বর পাওয়ার প্রত্যাশায় যদি এমন বিষয় নেয়া হয় যা তোমার কাছে কঠিন মনে হয়, তাহলে তা না নেয়াই শ্রেয়। এমন বিষয় নিতে হবে যা তোমার কাছে সহজ লাগবে। এতে পরীক্ষাকে সহজ মনে হবে।

উৎসাহ-উদ্দীপনা পাওয়া : তোমাকে এমন সময় ব্যক্তিবর্গের সংস্পর্শে আসতে হবে, যারা তোমাকে লেখাপড়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন, উৎসাহ পেলে পড়াশোনা হয়ে উঠে আনন্দের ব্যাপার। ফলে পরীক্ষাও তোমার কাছে ভালো লাগার ব্যাপার হবে।

লেখার চর্চা করা : কথায় আছে একবার লেখা, দশবার পড়ার সমান। তাই সবসময় লেখার চর্চা থাকতে হবে। যা শিখবে তা সাথে সাথে লিখবে। তাতে পড়া মনে থাকবে এবং ভুল কম হবে, পরীক্ষা-ভীতিও কমে যাবে।

মডেল টেস্ট দেয়া: চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। তাতে তোমার পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি কতটুকু হয়েছে তা জানা যাবে এবং সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে। এছাড়া নিজে নিজে বাসায় পরীক্ষা দিবে এবং ভুলত্রুুটি সংশোধন করবে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ানো : আমি পারব

এ আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে হবে। এজন্য নেতিবাচক কাজ ও নেতিবাচক মানসিকতা ঝেড়ে ফেল। আত্মবিশ্বাস আর প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে পরীক্ষা ভাল না হয়ে পারবে না।

শরীরের যত্ন নেয়া : শরীরের যত্ন নিবে। শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকবে। মন ভালো থাকলে লেখাপড়া ভালো হবে। ফলে পরীক্ষাও সহজ হয়ে যাবে। মাঝে মাঝে চিত্তবিনোদমূলক কাজে অংশগ্রহণ করবে।

পরীক্ষার কেন্দ্র দেখা: যারা নতুন জায়গাকে ভয় পায়, তাদের আগে থেকেই কেন্দ্র ঘুরে আসা উচিত। এতে নতুন জায়গার ভয় কেটে যাবে। এছাড়া শিক্ষকদেরকে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। মনে রাখবে, শিক্ষকরা পরীক্ষার হলে ডিউটি দেন তোমাদের সহযোগিতা করার জন্য।

মুখস্থবিদ্যা নির্ভর না হওয়া: একেবারেই মুখস্থ বিদ্যা নির্ভর না হয়ে, একটি বিষয় পড়ার সময় তা বুঝেশুনে শিখতে হবে। তাহলে পরীক্ষায় পড়াটি অন্যভাবে আসলেও তা বোঝা যাবে এবং উত্তর লেখা তখন সহজ হবে। আর পরীক্ষাভীতিতো আসবেই না।

বেশি প্রত্যাশা না করা: শিক্ষার্থীর যতটুকু ক্ষমতা আছে, ততটুকুই প্রত্যাশা করতে হবে অভিভাবকগণকে। তাহলে তার ওপর চাপ কম থাকবে। তাতে পরীক্ষা-ভীতিতে ছাত্রছাত্রী আক্রান্ত হবে না।

সঠিক নির্দেশনা প্রদান: পড়াশুনার ব্যাপারে নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অভিভাবক থাকতে হবে এবং কাছাকাছি থেকে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। ফলে পরীক্ষা তাদের কাছে ভয়ের কোন কারণ হবে না।

রুটিনমাফিক পড়া : পড়াশোনাও করতে হবে পরিকল্পনার ভিত্তিতে। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি হবে সন্তোষজনক। মাথায় চাপ থাকবে কম। পরীক্ষা-ভীতিতেও আক্রান্ত হবে না।

নেগেটিভ চিন্তা না করা : আমাকে দিয়ে হবে না ,আমি পারব না শিক্ষার্থীদের এ ধরনের নেগেটিভ চিন্তা করা যাবে না। সর্বদা আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনা করলে সাফল্য আসবেই।

আবিদ হোসেন