ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪ | ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

গুলশান লেক পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম শুরু

কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে জনগণকে নিয়ে লেক পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি : মেয়র আতিক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
🕐 ২:৪৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২৪

কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে জনগণকে নিয়ে লেক পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি : মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘গুলশান লেক, বারিধারা লেক মূলত রাজউকের অধীনে আছে। তাদের আমি চিঠি দিয়েছি এগুলোকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে দিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু এই লেক এখনো রাজউকের অধীনে রয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনকে দেয়নি। গুলশান লেকের পাশেই গুলশান জামে মসজিদ। এই মসজিদের মুসুল্লিরা আমাকে বার বার জানিয়েছে লেকের দূষিত পানির দুর্গন্ধ মসজিদে আসে। দুর্গন্ধে টেকা যায় না। গুলশান সোসাইটি, বারিধারা সোসাইটির নেতৃবৃন্দ আমার কাছে গিয়েছে। তারা নিজেরা এই লেক পরিষ্কারে অংশ নিতে চায়। তাই হস্তান্তর করুক আর না করুক সেটি নিয়ে চিন্তা না করে কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে জনগণকে নিয়ে লেক পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি৷’

আজ শনিবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও গুলশান সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে গুলশান লেক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া পরিষ্কার অভিযানে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পাশাপাশি গুলশান সোসাইটি, ৬টি স্কুলের শিক্ষার্থী, জাগো ফাউন্ডেশন ও শক্তি ফাউন্ডেশনের প্রায় ৪০০ জন অংশ নিয়েছেন। ৬টি স্কুল হলো স্যার জন উইলসন স্কুল, চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল, স্কলাস্টিকা স্কুল, দিল্লি পাবলিক স্কুল, অস্ট্রেলিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সানিডেল স্কুল।

সকাল সাড়ে নয়টায় গুলশান লেক পার্কে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা মিলিত হয়। সেখানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে সকাল ১০টায় গুলশান-৬৩ নম্বর রোডের গুলশান জামে মসজিদের পাশ থেকে লেক পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সাথে মেয়র মো. আতিকুল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সশরীর অংশ নেন৷

মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গুলশান মসজিদের সামনে লেকে জাহান্নাম থেকেও খারাপ অবস্থা হয়ে আছে। এই এলাকার মলমূত্র সব এখানে ফেলা হয়। এটি মেনে নেয়া যায়না। এই লেকগুলোতে মাছের চাষ হয়না, মশার চাষ হচ্ছে। আমি চাই এই লেক গুলোতে শিশুরা খেলবে। ওয়াটার টেক্সি চলবে। আরো আধুনিক যন্ত্র থাকবে যা দিয়ে তারা খেলবে। কিন্তু পানি হয়ে আছে শতভাগ দূষিত। এখানকার কোনো মানুষ এই লেক থেকে উপকৃত হচ্ছেনা। এই এলাকায় অতিরিক্ত মশা, যা এই লেকগুলো থেকে হয়। গুলশান এলাকার মানুষের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এই লেক পরিষ্কার করে দিচ্ছে।’

নগরবাসীর উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘সরকারের একার পক্ষে একটা সোসাইটিকে সুন্দর করা সম্ভব না যতক্ষণ না এখানকার মানুষই এগিয়ে আসে। আজকে এখানকার বিভিন্ন স্বনামধন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা ও শিশুরা এই কার্যক্রমে উপস্থিত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ফাউন্ডেশন ও এখানে উপস্থিত হয়েছে গুলশান বনানী অভিজাত এলাকা। এখানকার একেকটি ফ্ল্যাট ২৫ কোটি, ৫০ কোটি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক এই এলাকার বিল্ডিংগুলো থেকে পয়ঃবর্জ্য সরাসরি এই লেকে এসে পড়ছে। ডিএনসিসির স্টর্ম ড্রেনের সাথে একটি চোরাই পাইপ সংযুক্ত করা হচ্ছে। এই ড্রেন দিয়ে শুধু বৃষ্টির পানি যাওয়ার কথা। যারা পয়ঃবর্জ্য সরাসরি ফেলবে তাদের পাইপে আমি কলাগাছ থেরাপি দিবো। যাতে করে এই বর্জ্য আবার তাদের দিকে ব্যাক যায়। একটা ছোট ইটিপি প্ল্যান্ট মাত্র ৩ লাখ টাকা। এসব প্ল্যান্ট করতে রাস্তার নিচে যতটুকু জায়গা লাগে সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা করে দিবে। আমরা চাই শুধু সরকার না এলাকাবাসীও এগিয়ে আসুক।’

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এমপি।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা নাগরিকরা এবং পুরো সমাজের সবাই যদি একসঙ্গে একটা উদ্যোগ নেই, তাহলে সেটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমাদের লেকগুলো এত সুন্দর, এগুলোকে যদি আবার জীবিত করতে পারি, তাহলে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে। আর এটা করা সম্ভব। এটা একটা উদ্যোগের ব্যাপার। রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, আমাদের সোশ্যাল সোসাইটি এবং ওয়াসাকে ডাকবো। কারণ ওয়াসা সব সময় বলে যে, আমাদের ড্রেনেজ আছে আবার নেই। তাই আমার মনে হয়, একটা সমন্বয় করে কাজগুলো করতে হবে। এটা আমি করবো।’

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে আমি এই এলাকা থেকে দুইবার নির্বাচিত হয়েছি। নির্বাচনের আগে এবং পরে এই এলাকার মানুষের অনেকগুলো দাবির মধ্যে একটি দাবি বারবার আমার কাছে তুলে ধরা হয়েছিল, সেটি হলো লেকগুলো পরিষ্কার করতে হবে। শুধু গুলশানের নয় এমনকি কালাচাঁদপুরে যে লেক আছে, বারিধারার পেছন দিকে যে লেক আছে এছাড়াও অনেকগুলো লেক আছে যেগুলো পরিষ্কার করা দরকার। আর দেরি করতে চাই না। আমার একটা প্রত্যাশা থাকবে শুধু লেকগুলো পরিষ্কার হবে তাই নয়। আগামী দিনেও যাতে লেকগুলো পরিষ্কার থাকে এবং যত্ন নেওয়া হয় সেই ব্যবস্থা আমরা সবাই মিলে করবো।’

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অন্যান্যের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনা. মো. মঈন উদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগে. জেনা. ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ফিদা হাসান, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মফিজুর রহমান, অঞ্চল-০৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জুলকার নায়ন, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত প্রমুখ।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Electronic Paper