বন গিলে খাচ্ছে বনখেকোরা

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

বন গিলে খাচ্ছে বনখেকোরা

তানজেরুল ইসলাম, গাজীপুর ১০:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৯

print
বন গিলে খাচ্ছে বনখেকোরা

গাজীপুরে বনভূমিতে প্লট ও বাড়িসহ পজিশন বিক্রি হচ্ছে! এ সুযোগে জেলার চিহ্নিত বন দালালদের পাশাপাশি বনবিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপুল অর্থভৈববের মালিক বনে গেছেন। অথচ গত এক দশক আগেও নৈসর্গিক সবুজ বনাঞ্চলে ঘেরা ছিল গাজীপুর। তবে লাগাতার বন দখল উৎসবে জেলার অগণিত বনের সিএস দাগে কর্তৃত্ব হারিয়েছে ঢাকা বনবিভাগ। অথচ দিনদুপুরে গাজীপুরে বনাঞ্চল ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অনেকটাই নীরব ভূমিকায় বিভাগটির ঊর্ধ্বতন কর্তারা। তবে মাঝেমধ্যে বনে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা বনবিভাগের অধীন সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ অফিসগুলো। অথচ এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া বনভূমি ফের দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে বনাঞ্চলে বনখেকোদের প্রভাব এবং দৌরাত্ম্য যেমন বেড়েছে, তেমনি হুমকির মুখে পড়েছে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য।

ঢাকা বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘গাজীপুর জেলায় সরকারি গেজেটে মোট বনভূমি ৫২ হাজার ৭৩৭.১৫ একর এবং রিভিশনাল সার্ভে (আরএস) রেকর্ড অনুসারে বনভূমি ৪৫ হাজার ৬৮৫.৬৬ একর। গাজীপুরে বনবিভাগের কালিয়াকৈর, কাঁচিঘাটা, শ্রীপুর, রাজেন্দ্রপুর, ভাওয়াল ও জাতীয় উদ্যান রেঞ্জের অধীন ২৭টি বিট অফিস রয়েছে।’

জেলার ছয়টি রেঞ্জের মধ্য রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের বিভিন্ন এলাকায় গত এক বছরে বিশাল আয়তনের বনভূমি দখল হয়ে গেছে। অথচ বন দখল বন্ধের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাব মনিপুর বিট অফিসের। এতে হাতে চাঁদ পেয়েছে মনিপুর বিটের চিহ্নিত বনখেকোরা।

জানা গেছে, ঢাকা বনবিভাগের গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বিটে মোট বনভূমির পরিমাণ ৯১টি সিএস দাগে ৭৪৪.৪২ একর। তবে গত এক দশকে লাগাতার দখল উৎসবে মনিপুর বিটের অর্ধেক বনভূমি বনখেকোদের ভোগে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় অধিবাসীদের অভিমত।

অনুসন্ধান বলছে, মনিপুর বিটের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমিতে অহরহ প্লট ও জমিসহ বাড়ি বিক্রি হচ্ছে। এসব অবৈধ লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতারা একশ টাকার তিনটি স্ট্যাম্পে কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে বনে প্লট কিংবা বাড়িসহ জমি ক্রয়-বিক্রয় করছেন। অনেকে আবার বনে নির্মিত বাড়ি কিনে নিয়ে বাড়ির আকৃতি পরিবর্তন করছেন সংশ্লিষ্ট বিট অফিসকে রাজিখুশি করে। এ ছাড়া যারা বনে প্লট কিনেছেন তারা প্রথমে ওই প্লটের চারদিকে মাটি থেকে অন্তত ১৫ ফুট উঁচু প্লাস্টিকের চট দিয়ে বেড়া দেন। মূলত বাইরে থেকে প্লটে বাড়ি নির্মাণ কাজ আড়ালে রাখতেই এ ব্যবস্থা। পরে তড়িঘড়ি করে এসব প্লটে বাড়ি নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। বিগত বছরগুলোতে মনিপুর বিটের বিভিন্ন এলাকায় বনে পুরাতন টিন দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পর টিনে আলকাতরা দেওয়া হতো। তবে গত এক বছরে মনিপুর বিটের বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রঙিন টিন দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মিত হয়েছে।

এসব ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) আরএসএম মনিরুল ইসলাম জানান, ‘মনিপুর বিটে বন দখলের ঘটনা ঘটলে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’

গাজীপুরে বন দখলের ঘটনা খোলা কাগজসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিগত দিনে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ দৃশ্যত ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না- এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিএফ আরও জানান, ‘কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে।’