ঢাকা, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮ মাঘ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বিচারের দাবিতে প্রতিবন্ধী বাবার আকুতি

টঙ্গিবাড়িতে ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

টঙ্গিবাড়ি প্রতিনিধি
🕐 ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২২

টঙ্গিবাড়িতে ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতব্বরদের মাধ্যমে বিচার না পাওয়ায় লোকলজ্জার ভয়ে কয়েক দফা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় ঘটনায় থানায় মামলা রুজুর পর আসামী জেল হাজতে থাকলেও অর্থের মাধ্যমে আপসের ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের পরিবারের বিরুদ্ধে।

ধর্ষকের পরিবারের হুমকি-ধামকিতে বর্তমানে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। অর্থের বিনিময় আপসের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মাতব্বররা নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে। ফলে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে-মাদ্রাসা ছাত্রী ও তার পরিবারে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সরেজমিন হাসাইল গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিবেশীদের নানা গুঞ্জনে সুষ্ঠ বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুগছে মাদ্রাসা ছাত্রী ও তার পরিবার। তাদের চোখে মুখে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। ধর্ষনের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রীর বাড়িতে গ্রামের মানুষের আনাগোনা থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউই ধর্ষকের বিচারও দাবী করছে না।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাতে উপজেলার হাসাইল বানারী ইউনিয়নের হাসাইল গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামানিকের ছেলে মো. রাব্বি উরফে শাহাদাত প্রামাণিক।

মাদ্রাসা ছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্য, মাতব্বর ফয়সাল হালদার, আফজাল মেলকার, সেলেম মল্লিক, হাসেম মল্লিকসহ স্থানীয় মাতব্বরদে কাছে বিচার দাবী করা হয়। গত ১৭ অক্টোবর সালিশ বৈঠক করে ঘটনার কোনো সুষ্ঠ বিচার না করে উল্টো আমাদের টাকা-পয়সা দিয়ে মিমাংশার প্রস্তাব দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ঘটনার এক সপ্তাহ পর ধর্ষনের ঘটনার সুষ্ঠ বিচার পেতে টঙ্গীবাড়ি থানায় মো. রাব্বি উরফে শাহাদাত প্রমানিককে আসামী করে মামলা রুজু করা হয়।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় মাতব্বররা ধর্ষকের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সুষ্ঠ বিচারের পরিবর্তে এখন ছাত্রীর পরিবারকে মিমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে মাতাব্বররা। বিষয়টি বুঝতে পেরে টঙ্গীবাড়ি থানা পুলিশও আসামী গ্রেপ্তারে তৎপর নেই বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর মা আরও বলেন, থানায় মামলা রুজুর পর থেকে ধর্ষক মো. রাব্বি উরফে শাহাদাত প্রামাণিক পলাতক ছিলো। ধর্ষকের পরিবার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ আমাদের গ্রামছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে।

ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, মানসম্মানের কথা ভেবে প্রথমে বিষয়টি পুলিশকে জানাতে চাইনি। স্থানীয় মাতব্বররা সুষ্ঠ বিচারের আশ্বাস দিলে তারা কোনো সুরাহা করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলা রুজুর পর থেকে মাতব্বররা দফায় দফায় বাড়িতে এসে টাকা-পয়সা দিয়ে মিমাংসা বসতে বলছে। বিপরীতে তাদের বলা হয়েছে, টাকা চাই না, আমার মেয়ের সম্মান ফিরিয়ে দেন।

জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বাবু হালদার বলেন, সালিশ বৈঠকে কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। থানায় মামলা রুজু হলেও আসামীকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মাতব্বর আফজাল মেলকার বলেন, এ ঘটনায় ছেলের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার যে গুঞ্জন শুনেছেন, তা সঠিক নয়। ছেলের পক্ষ রাজি না হওয়ায় বিষয়টি সমাধান করতে পারেনি স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ মাতব্বররা। অন্যদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতির কথা শুনে তারা ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। তাই ধর্ষনের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গীবাড়ি থানার এস আই জাফর আলী বলেন, আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। মাদ্রাসা ছাত্রীর মেডিক্যাল পরিক্ষা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রেক্ষিতে আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হবে। কেউ যদি ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দেয় তবে সে বিষয়টি দেখা হবে।

 
Electronic Paper