ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪ | ৮ বৈশাখ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

গাজীপুরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

সুজন সারোয়ার, টঙ্গী
🕐 ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৪

গাজীপুরে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

টঙ্গীতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ট বাসাবাড়ি, দোকানপাট, অফিস-আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল সর্বত্রই। রাতেতো বটেই দিনের বেলায়ও মশা থেকে নিস্তার মিলছে না। মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে, ইলেক্ট্রিক ব্যাট কিংবা মশা নাশক ঔষধ স্প্রে করেও সুফল মিলছে না। বিকেল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যার আজান পরলেই মশার উৎপাত তীব্র আকার ধারণ করে। বর্তমানে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সিটি করপোরেশনের এ ব্যাপারে কোন কার্যকরী প্রদক্ষেপ নেই।

শ্রমিক অধ্যুষিত এ নগরীতে দিনে কর্মব্যস্ত মানুষের আনাগোনা আর সন্ধ্যা হতেই শুরু হয় মশার অত্যাচার। দিন দিন মশার যন্ত্রণা যেন বেড়েই চলছে। টঙ্গীর বাসিন্দারা যেন মশার কাছে অসহায় ও জিম্মি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে মশক নিধনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির শতাধিক ফগার মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়াও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ভেহিকেল মাউন্টেইন’ ফগার মেশিন রয়েছে। এবছর আরও কিছু ফগার মেশিন ক্রয় করার কথা ভাবছে নগর কতৃপক্ষ।

সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, টঙ্গীর গাজীপুরা, হোসেন মার্কেট, এরশাদ নগর, আউচ পাড়া, দত্তপাড়া, টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, গোপালপুর, শীলমুনসহ বিভিন্ন এলাকার ড্রেন, পুকুর, ডোবা, নালা-নর্দমার কচুরিপানা ও ময়লা পরিস্কার না করায় সেগুলো এখন মশা উৎপাদনের খামারে পরিণত হয়েছে। তাই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নগরীতে মশার উপদ্রব খুব বেশি। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে কিউলেক্স মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট নগরবাসী। অনেকেই ফ্ল্যাটের জানালায় নেট ব্যবহার করা সত্ত্বেও মশার অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছেনা। নিচতলা থেকে শুরু করে দশ তলা পর্যন্ত সর্বত্রই মশার সমান উপদ্রব। নিন্ম শ্রেণীর মানুষদেও ভোগান্তি আরও বেশি। সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে বাসার ছোট বাচ্চারাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না মশার উপদ্রবের কারণে। ঘরে বাইরে বাসা কিংবা অফিস সব জায়গায় মশা। কিন্তু মশক নিধন কর্মীদের মাঠে তেমন কোন কার্যক্রম দেখা যায়না।

মিলগেট এলাকার ব্যবসায়ী সাহাদাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মশার কারনে দিন-রাত অসহনীয় যন্ত্রণায় রয়েছি। দিনের বেলাও মশার উপদ্রব থাকে, বিকেলে তা বেড়ে যায় বহুগুন। মনে হচ্ছে আমরা কোন মশার শহরে বসবাস করছি। অথচ এমন পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে একবারও মশার ঔষধ প্রয়োগ করতে দেখছিনা।

টঙ্গী থানা মসজিদের পেশ ইমাম জানান, মশার যন্ত্রণায় মসজিদে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের ভীষণ কষ্ট হয়। কয়েল জ্বালিয়ে কিংবা মশা নাশক স্প্রে করেও এ যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাচ্ছিনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন মূলত কিউলেক্স মশার উপদ্রব চলছে। স্ত্রী কিউলেক্স মশার মাধ্যমে অসুস্থ ব্যক্তির শরীর থেকে সুস্থ ব্যক্তির শরীরে ফাইলেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে। ‘গাদ’ নামে পরিচিত এই রোগের কারণে হাত-পা ফুলে যায়, বারবার জ্বর হয়। এছাড়াও ম্যালেরিয়া ও চিকনগুনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে এডিস মশার উপদ্রব। প্রতি বছর এডিস মশার কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাই বর্ষা মৌসুমের আগেই মশক নিধনে কার্যকর ভুমিকা নিতে হবে। এছাড়া মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও বাড়াতে হবে।

গত ২৩ বছওে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মারা গেছেন ৮৬৮ জন। শুধু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৯৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। অর্থাৎ গত ২৩ বছওে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, গত এক বছরে তার চেয়ে বেশি মানুষ এই রোগে মারা গেছেন।

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের আঙ্গিনা ও ভেতরে মশা ভনভন করছে। কয়েলের ধোয়ায় রোগীদের কষ্ট হওয়ায় কয়েল ও জ্বালানো যাচ্ছেনা। ফলে অসুস্থ রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বজনরাও মশার যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা নিয়মিত হাসপাতাল ও আশপাশের আঙ্গিনা পরিস্কার করে থাকি। তবুও মশার উপদ্রব কমছে না। হাসপাতালের রোগীদের জন্য রাতে মশারী দেওয়া হয়। ইতি মধ্যে সিটি করপোরেশনকে মশক নিধনের ঔষধ ও ফগার মেশিনের জন্য জানিয়েছি। তারা অতি শিগগিরই হাসপাতালে প্রতিদিন বিকেলে মশার ঔষধ স্প্রে করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শীতের শেষে আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করেছে। এসময় মশা বংশবিস্তার ঘটায়। ফলে মশার উপদ্রব আনেক বেশি এখন। মশার কামড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকনগুনিয়া, গাদসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই মশা নিধনের জন্য সিটি কর্পোরেশনকে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে বড় ধরনের কোন সংকট তৈরি না হয়।

গাসিক ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, মশার বংশবিস্তার রোধ করতে নিয়মিত ভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় রুটিন ডিউটির বাইরেও অতিরিক্ত কাজ করছে মসক নিধন কর্মীরা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম সফিউল আজম বলেন, প্রতিটি ওর্য়াডের কাউন্সিলরের তত্ত্বাবধানে মশক নিধন কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে আমরা প্রত্যেক ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও মশক নিধনের ঔষধ সরবরাহ করেছি। এছাড়াও ‘ভেহিকেল মাউন্টেইন’ নামক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ফগার মেশিন রয়েছে যা দিয়ে গাড়িতে করে মশার ঔষধ স্প্রে করা যাবে। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মসক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 

 
Electronic Paper