ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

ব্যাংকে সশস্ত্র হামলা, ম্যানেজারকে অপহরণ

বান্দরবান প্রতিনিধি
🕐 ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৩, ২০২৪

ব্যাংকে সশস্ত্র হামলা, ম্যানেজারকে অপহরণ

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা মসজিদ ঘেরাও করে মুসল্লিদের মোবাইল ফোন ছিনতাই, আনসার ও পুলিশের অস্ত্র-গুলি লুট এবং সোনালী ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাংকের ম্যানেজারকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন ঘটনায় আতংক নেমে এসেছে পুরো এলাকাজুড়ে।

রুমা উপজেলা মসজিদ ঘেরাও করে মুসল্লিদের মোবাইল ফোন ছিনতাই, আনসার ও পুলিশের ১০টি অস্ত্র ও ৩৮০ রাউন্ড গুলি লুট এবং সোনালী ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে টাকা লুট করার চেষ্টা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্যমতে, মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রুমা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মুসল্লিরা সবাই যখন মসজিদে নামাজ পড়ছিলো। ঠিক সেই মহুর্তে বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ আর এর পরপরই সশস্ত্র কয়েকজন অস্ত্রধারী মসজিদে প্রবেশ করে মুসল্লিদের জিন্মি করে লুটে নেয় সবার মোবাইল।

এরপরে সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে খুঁজে বের করে তাকে নিয়ে মসজিদের পাশেই সোনালী ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকের ভোল্ট ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আর এই ঘটনায় ব্যাংকে থাকা পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যদের হামলা করে তাদের ১৪টি অস্ত্র ও ৩৮০ রাউন্ড গুলি নিয়ে ম্যানেজারকে অপহরণ করে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, সিনেমার মতো করে রাতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এসেছিলো আর আমাদের মারধর করে মোবাইল নিয়ে চলে যায়। কয়েকজন মুসল্লি জানান, এই ঘটনায় আমরা আতংকিত আর আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই।

এদিকে এমন ঘটনার পর আতংক বিরাজ করে পুরে রুমা উপজেলা জুড়েই। আতংকে কারো সাথে কেউ কোন কথা বলছে না আর অনেকে ঘটনার চিত্র দেখে হতবিম্ব।

ঘটনার পর আজ (৩ এপ্রিল) সকালে বান্দরবান সদর থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো.মাহফুজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার সৈকত শাহীনসহ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। উপজেলা পরিষদসহ রুমার বিভিন্নস্থানে নিরাপত্তা জোরদার করে টহল দিচ্ছে র‌্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে সকাল ৯টায় সোনালী ব্যাংকের তালা খোলা হয় এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কর্মকর্তারা। এদিকে ব্যাংকের ল্যাপটপ, ডেক্সটপ ,প্রিন্টারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাঙ্গচুরের পাশাপাশি ভল্ট ভাঙ্গারস্থান পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তারা জানান এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং টাকা লুট হয়েছে কিনা তা সিআইডির একটি টিম আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন জানান, এই ঘটনার পর আমরা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছি আর যারা এই ঘটনায় জড়িত তাদের খুজে বের করতে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, টাকা লুটের যে ঘটনা সেটি এখনও সঠিকভাবে বলা যাবে না। আর সিআইডি আসলে লকার খোলা হলে পরে বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে।

স্থানীয় তথ্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে, আর এমন ঘটনায় আতংক পুরো বান্দরবান জুড়েই।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে সকাল ১০টায় রুমা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারকে উদ্ধার করতে এবং সকলের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মানববন্ধন করে ।

 
Electronic Paper