ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০২৪ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

হাতিয়ায় গভীর রাতে হেলমেট বাহিনীর তাণ্ডব

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
🕐 ১:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০২৪

হাতিয়ায় গভীর রাতে হেলমেট বাহিনীর তাণ্ডব

একদিকে পবিত্র রমজান অপরদিকে গভীর রাত, মানুষজন তারাবির পর ঘুমে মগ্ন, বাজার ও বন্ধ। এসময় মাথায় হেলমেট, হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ৩০-৪০ জনের একটি দল মোটরসাইকেল যোগে বাজারের এসে থামেন। কোনোকিছু বুঝে উঠার আগে হ্যামার ও হাতুড়ির আঘাতে ভেঙ্গে চুরমার করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে ছাদ পর্যন্ত নির্মাণাধীন একটি দোকান ভবন।

হাতুড়ি ও হ্যামারের আঘাতে ভবন ভাঙার বিকট আওয়াজে সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠেন। বাজারের নিকটেই বসবাস করেন দোকানের মালিক। ভবন ভাংচুরের আওয়াজ শুনে সবার মত ছুটে আসেন দোকানের মালিক ও পরিবারের সদস্যরা। অস্ত্রের ভয়ে পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে গেলে পিটিয়ে আহত করা হয় পরিবারের মহিলা তিন সদস্যকে। পরে আহত তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

সন্ত্রাসী হেলমেট বাহিনীর তাণ্ডবীয় এই ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (২৪ মার্চ) রাতে হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের সেন্টার বাজারে। এই ঘটনায় সোমবার রাতে হাতিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। ভাংচুর করা ভবনের মালিক সেন্টার বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী হাজী আলী আহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

হাজী আলী আহাম্মদ জানান, এরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী। সবার সাথে অস্ত্র ছিল। আমিও আমার ছেলেরা আওয়াজ শুনে এগিয়ে এলেও অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারিনি। তারা আমাদেরকে প্রাণে মারার জন্য এগিয়ে আসলে আমরা দৌঁড়ে কোনরকম রক্ষা পাই। কিন্তু সন্ত্রাসীরা আমার ছেলের বৌ ও আমার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে তারা আমার বসতঘরে ঢুকে আলমিরা ভেঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ঘটনার সময় জাহাজমারা পুলিশকে বার বার ফোন করেও কোনো সহযোগীতা পাওয়া যায়নি। পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ আসে। এর আগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় আপন ভাই ইসমাইলসহ বাজার কমিটির দায়িত্বশীল অনেকে জড়িত আছেন বলে দাবি করেন ভবনের মালিক হাজী আলী আহাম্মদ।

স্থানীয়রা জানান, হাজী আলী আহাম্মদের সাথে তার ভাইদের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। একাধিকবার তাদের মালিকানা নিয়ে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক হয়। নতুন এই ভবন ভাংচুরের ঘটনা পূর্বের বিরোধের কারণে ঘটেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

বাজারের নৈশ প্রহরীরর দায়িত্বে থাকা জাহের উদ্দিন জানান, ৩০-৪০ জনের একটি দল হঠাৎ করে বাজারে ঢুকে পড়ে। সবাই হেলমেট ও মুখোশ পরা ছিল। কেউ ভয়ে তাদের সামনে আসতে সাহস পায়নি। দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ছিল তাদের কাছে। সম্পূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা পর্যন্ত তারা বাজারেই অবস্থান করেন। সন্ত্রাসীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ আসে।

এ ব্যাপারে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দেবাশীষ সরকার বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনার পরপরই ঘটনাস্থলে যাই। এর আগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এই বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 
Electronic Paper