ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যা কবলিতদের দূর্ভোগ

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
🕐 ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৪

আবারও বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যা কবলিতদের দূর্ভোগ

উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার (১০ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে করে আবারও নদীর নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপ চরের কিছু এলাকা নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে গত ৭ জুলাই এ উপজেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা হয়। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ফসলের ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর ৮ জুলাই থেকে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করে। পানি সরে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হয় তিস্তার তীব্র স্রোতের ক্ষত। বুধবার সকাল থেকে আবারও তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি হতে থাকে। বিকেল ৩টায় এ পয়েন্টে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি বাড়ায় উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লহ্মীটারী, গজঘন্টা, মর্ণেয়া, ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে গত ৭ জুলাই তিস্তা নদীর তান্ডবে উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের শেখপাড়া ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তিস্তার পানি কিছুটা কমলে তারা ব্রীজের উপর বাঁশের সাঁকো তৈরী করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় রিক্সা-অটোরিক্সা, পিকআপ, ট্রাক যাতায়াত করতে পারছে না। বিশেষ করে রোগীদের জরুরী অবস্থা দেখা দিলে হাসপাতালে নিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এছাড়া বন্যার পানিতে এখনও শেখপাড়ার আমনের বীজতলা, বাদামের ক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে।

শেখপাড়ার টাপু (৩৮), লিয়াকত হোসেন (৫০) ও আজগার আলী (৬০) বলেন, তিস্তার পানিতে ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ায় আমরা চরম দূর্ভোগে পড়েছি। বাড়িতে থাকা বোরো ধান ভাঙ্গানোর জন্য মিলে নিয়ে যেতে পারছি না। এলাকার মানুষজন ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের উপর তৈরি করা সাঁকো নিয়ে পারাপার হচ্ছে। তিস্তার পানি যেহেতু বাড়ছে, সাঁকোটিও নদীর স্রোতে ভেঙ্গে যাবে। এছাড়া গ্রামের দেড় হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

 
Electronic Paper