ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কাউনিয়ায় চাঁইয়ের কদর বাড়লেও অবহেলিত কারিগরেরা

মোস্তাক আহমেদ, কাউনিয়া (রংপুর)
🕐 ৫:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২৪

কাউনিয়ায় চাঁইয়ের কদর বাড়লেও অবহেলিত কারিগরেরা

চলছে বর্ষাকাল। নদী, নালা,খাল-বিল, জলাশয়গুলো সর্বত্র পানিতে টইটম্বুর। এ সময়টাতে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বেড়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে জাল দিয়ে মাছ শিকারের পাশাপাশি কৌশলে মাছ ধরতে জমির আইলে কিংবা অন্য কোনো স্থানে অল্প পানিতে সহজেই মাছ ধরার জনপ্রিয় একটি প্রাচীন উপকরণ হচ্ছে চাঁই। চাঁই হচ্ছে আড়াই-তিন ফুট লম্বাকৃতির চার কোনা, গোলাকার এবং চ্যাপ্টা আকৃতির একটি ফাঁদ। রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বাঁশের তৈরি জনপ্রিয় মাছ ধরার এই ফাঁদের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। ফলে চাঁইসহ বাঁশের তৈরী বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা। এসময়ে এ শিল্পের সাথে জড়িতদের আয়ও তুলনামূলক অন্যান্য সময়ের চেয়ে ভালোই হয়ে থাকে। তবে এ শিল্পের বিভিন্ন উপকরনের মূল্য বৃদ্ধিসহ সরকারি কোনো প্রণোদনা না থাকায় অবহেলিতই রয়ে যাচ্ছেন কারিগরেরা ।

সরেজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাঁদের আকার, ধরণ ও নকশায় পরিবর্তন আসলেও এখনো কমেনি বাঁশের তৈরি চাঁইসহ বাঁশের বিভিন্ন উপকরণের চাহিদা। হাটবাজারগুলোতে মাছ ধরার চাঁই প্রচুর পরিমাণে উঠেছে, ক্রেতাও বেশ ভাল। বনগ্রাম, বড়ুয়াহাটসহ নির্দিষ্ট কিছু গ্রামীণ এলাকার নারী-পুরুষেরা সারাবছর ধরে চাঁই ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ তৈরী করেন। গ্রামের মৎস্য শিকারীরা দেশীয় সুস্বাদু মাছ ধরার জন্য পানিতে পাতে নানা রকমের ফাঁদ। আর মাছ ধরার ফাঁদ হিসেবে বাঁশের তৈরী চাইয়ের জুড়ি নেই।
উপজেলার টেপামধুপুর, তাকিপল হাট ও খানসামা হাটসহ বিভিন্ন বাজারে চাঁইসহ বাঁশের বিভিন্ন উপকরণের বেচা-কেনার জন্য জনসাধারণের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তকিপল হাটে বাঁশের তৈরী উপকরণ কিনতে আসা ক্রেতা আবেদ আলী বলেন, শখের বসে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরতেই চাঁই কিনতে হাটে এসেছি। বর্ষা মৌসুমে মাঠে এই চাঁই পেতে মাছ ধরার মজাই আলাদা। তবে দিন যতই যাচ্ছে ততই এই খলশানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি চাঁই প্রকার ও মানভেদে ২৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাঁশ শিল্পের কারিগর রফিক জানান, বর্তমানে ছোট জাতের মাছ ধরার সুতি, ভাদায় ও কারেন্ট জালের দাপটের কারণে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি চাঁই এমনিতেই টিকে থাকতে পারছে না। কিন্তু জীবনের তাগিদে পৈতৃক এই পেশা ধরে রেখেছেন তারা। চাঁই তৈরির কারিগর আনোয়ার জানায়, সারাবছরে এর তেমন চাহিদা না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে এর খুব চাহিদা বাড়ে, বিশেষ করে যে বছর বন্যা হয়। চলতি মৌসুমে সে সবচেয়ে বেশী চাঁই তৈরী করেছে। তাছাড়াও বাঁশশিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা উচিত, নইলে এই পেশা হারিয়ে যাবে বলে জানায় সে।

জানা যায়, এই পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো ভালো নেই। বছরের কয়েকটি মাস মাছ ধরার চাঁইসহ বাঁশের তৈরি উপকরণ তৈরি করে সারাবছর সংসার চালানো এই পরিবারগুলোর জন্য অনেক কষ্টসাধ্য। তাই অবসর সময়ে তারা সরকারের প্রণোদনা চায়। এছাড়া কম সুদে ঋণ দিলে বেশি করে এই বাঁশ শিল্পের উপকরণ তৈরি করে নিজেরাই দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি করতে পারতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল হক বলেন, চাঁই একটি প্রাচীন মাছ ধরার উপকরণ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এর চাহিদা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এই পেশার সঙ্গে যে পরিবারগুলো এখনো যুক্ত আছে আমি তাদের খোঁজ-খবর নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।

 
Electronic Paper