ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪ | ২ শ্রাবণ ১৪৩১

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

রাজারহাটে নিম্ন মানের চাউল সরবরাহের অভিযোগ

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
🕐 ৬:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৪

রাজারহাটে নিম্ন মানের চাউল সরবরাহের অভিযোগ

রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ও চাকিরপশার ইউনিয়নে নিম্নমানের এবং খাবার অনুপযোগী ভিজিএফের চাউল বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। অন্যান্য ইউনিয়ন গুলোতেও বিতরণকৃত চাউলের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

জানা গেছে,সোমবার ঈদ উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায়দের জন্য উপহার স্বরুপ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৪৩হাজার ৬১জন দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে ১০হিসেবে ভিজিএফের চাউল বিতরণ শুরু হয়। মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল থেকে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৪হাজার ৪৮জন তালিকাভূক্ত সুবিধাভোগীর মাঝে চাউল বিতরণ শুরু হলে পঁচা ও নিম্নমানের চাউল পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভূক্তভোগীরা। কেউ কেউ তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ জানালেও চাউল বিতরণের কাজে নিয়োজিতরা তাদের কথা ভ্রুক্ষেপ করছেন না বলে অভিযোগ উঠে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা মৌজার আমেনা বেওয়া বলেন,৫জন মিলে এক বস্তা করে চাউল দেয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়ে এসে ৫জন ভাগ করে নেয়ার সময় দেখি লালচে রংয়ের পঁচা চাউল যা খাওয়ার অনুপযোগী। পরে চাউল বিতরণকারীদেরকে বললে তারা বলেন,বস্তার ভিতর কি আছে আমরা তো দেখি নাই। এমনি অভিযোগ করেন পঁচা ও নিম্নমানের চাউল পাওয়া অর্ধশতাধিক মানুষ।

এর আগে সোমবার উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নে লালচে,পঁচা ও নিম্নমানের চাউল বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার উক্ত ইউনিয়নের চাকিরপশার তালুক দাসপাড়া গ্রামের মহেন্দ্র নাথের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী ময়না রানী খাবার অনুপযোগী চাউলগুলো দেখিয়ে বলেন, কেমন করি এগল্যা চাউল খামো,ভাত পাক করলে ট্যাঙ্গা নাগবে। এসময় ওই গ্রামের কুমোদিনী,মাধবি রানী সহ কয়েকজন খাবার অনুপযোগী চাউল দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পার্শ্ববর্তী চাকিরপশার তালুক হাজীপাড়া গ্রামের মোমেনা বেগম,আর্জিনা বেগম সহ অনেকেই ভিজিএফের পঁচা ও নিম্নমানের খাবার অনুপযোগী চাউল পাওয়ার জানান।

উপজেলার ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদে বিতরনের সময় তুলনা মূলকভাবে ওই ২ ইউনিয়নের চেয়ে চাউলের মান ভালো থাকলেও কয়েক বস্তা পর পর খাবার অনুপযোগী পঁচা চাউল পাওয়া যায়। এই ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারের প্রতিনিধি শহীদুল ইসলাম বলেন,আমি খাবার অনুপযোগী ও পঁচা চাউলের বস্তাগুলো বিতরণ না করে আলাদা করে রাখতে বলেছি।

ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাদেকুল ইসলাম বলেন,আমাদেরকে না বলে খাদ্য গুদামে কিভাবে নিম্নমানের খাবার অনুপযোগী চাউল ঢোকে সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান পরিচালনা করা উচিৎ।

চাকিরপশার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম বলেন,খাদ্য গুদাম থেকে সব চাউলের বস্তা দেখে নেয়া সম্ভব হয় না,তাই মিশালের মধ্যে খারাপ চাউল আসছে। একই কথা বলেন ঘড়িয়ালডাঁঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক।

তবে বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম বলেন,ভালো-মন্দ দুপ্রকার চাউলেই আছে,কিন্তু এখানে আমার কিছু করার নেই। অভিযোগ অস্বীকার করে রাজারহাট খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শরিফ আহমেদ বলেন,এগুলো চাউল আমার এখান থেকে যায়নি,আমার পিছনে কিছু লোক লেগে আছে তারাই করাচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

 
Electronic Paper