রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটের লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় প্রতিটি আসনেই বদলে গেছে দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক সমীকরণ।
জেলায় ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোট ভোটার ২৬ লাখ ৮ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৪০ জন, নারী ভোটার ১২ লাখ ৪১ হাজার ৭৩১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৬ জন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নেতৃত্বাধীন সমমনা ১১ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ছয় আসনে এনসিপির দুজন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে, বাকি দুটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শরিক দলগুলোর জন্য। তবে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটের সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর)
হাওরবেষ্টিত এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ জন। এখানে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোটারদের অবস্থান এখানে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ)
এই আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। বিএনপি আসনটি ছেড়ে দিয়েছে জোটসঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে। জোট প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও এস এন তরুণ দে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। প্রায় ৮০ হাজার হিন্দু ভোটার থাকায় এই আসনে তাদের ভোট ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর–বিজয়নগর)
জেলার সবচেয়ে বেশি ভোটারসংখ্যার এই আসনে ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ২৪ হাজার ৬০১ জন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় আসনটি কার্যত ফাঁকা মাঠে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এখানে এগিয়ে রয়েছেন। যানজট, ড্রেনেজ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সদর হাসপাতালের উন্নয়ন প্রধান ইস্যু।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া)
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৯ জন। বিএনপির মুশফিকুর রহমান ও জামায়াতের আতাউর রহমান সরকারের মধ্যে মূল লড়াই। সাংগঠনিক শক্তিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও জামায়াত ইউনিয়নভিত্তিক প্রচারণায় ভালো সাড়া পাচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর)
এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন। ভোটারদের মতে, ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের মধ্যেই মূল লড়াই সীমাবদ্ধ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর)
এই আসনে ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৭৪ জন। জোট প্রার্থী জোনায়েদ সাকি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বহিষ্কৃত) ড. সাইদুজ্জামান কামালের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। পাশাপাশি জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও সক্রিয় রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনেই ভোটের পুরোনো হিসাব ভেঙে গেছে। কোথাও বিএনপির একক প্রভাব, কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি এবং কোথাও সংখ্যালঘু ভোটারদের ভূমিকা নির্বাচনকে করে তুলেছে অনিশ্চিত ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
কেকে/ এমএস