ওয়াশিংটন ও তেহরানের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভ্রমণ করা মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা থেকে জাহাজগুলোকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই নির্দেশিকা জারি করে।
নির্দেশনায় আমেরিকান জাহাজের ক্যাপ্টেনদের,
ইরানি বাহিনীকে মার্কিন জাহাজে ওঠার অনুমতি না দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
এই নির্দেশিকার মানে হল ‘এই জলপথে চলাচলকারী মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক সমুদ্র থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে নৌচলাচলের নিরাপত্তার সাথে আপস না হয়। হরমুজ প্রণালীতে পূর্ব দিকে যাতায়াতের সময়, জাহাজগুলোকে ওমানের আঞ্চলিক সমুদ্রের কাছাকাছি যাতায়াত করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’
গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পর এই সুপারিশগুলো আসে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্রমবর্ধমান বাগাড়ম্বরপূর্ণ আলোচনা ও হুমকির ফলে দুই দেশ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল।
বিশ্বব্যাপী শিপিং লেন ও বাণিজ্যিক জাহাজ ঐতিহাসিকভাবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে।
১৯৮০’-এর দশকে ইরান-ইরাক সংঘাতের সময়, উভয় দেশই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছিল; যা ট্যাঙ্কার যুদ্ধ নামে পরিচিতি পায়।
সম্প্রতি, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে ইসরাইল-সংযুক্ত জাহাজের উপর হামলা শুরু করে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার হরমুজকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল চুরির স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করে কারণ, এর কৌশলগত অবস্থান জ্বালানি উৎপাদনকারী অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে।
জানুয়ারির শেষের দিকে, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রণালীতে নৌ সামরিক মহড়া পরিচালনা করে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তেহরানকে যেকোনো অনিরাপদ ও অ-পেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
সূত্র : আল জাজিরা।
কেকে/এমএ