রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬,
১ চৈত্র ১৪৩২
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬
শিরোনাম: জ্বালানি তেল নিয়ে মিলছে স্বস্তির খবর      রিয়ালের জয়ের রাতে গুলেরের ইতিহাস গড়া গোল      ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস      আন্দোলনের পথেই হাঁটছে বিরোধীরা      সরকারকে আস্থা ধরে রাখতে হবে      হাতের কালি মোছার আগেই তিন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন      ইরানের দুই শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত, দাবি ইসরায়েলের       
খেলাধুলা
মোস্তাফিজ কাণ্ডের অবসান, আইসিসি থেকে কি পাচ্ছে বাংলাদেশ
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:২২ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) স্নায়ুযুদ্ধের অবসান হয়েছে। আগামী রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিপক্ষে টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) পিসিবির চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাথে বৈঠকে ম্যাচ খেলার অনুমতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। আইসিসি মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দেওয়া বেশ কয়েকটি শর্ত।

সংকটের শুরুটা মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় এই বাংলাদেশি বাঁহাতি পেসারকে। যার প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দেশীয় চ্যানেলগুলোয় আইপিএলের সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা উদ্বেগজনিত কারণে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।

আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আবেদন করে বিসিবি। কিন্তু, আইসিসি সময়স্বল্পতা এবং বিসিবি নিরাপত্তাঝুঁকির বাস্তবসম্মত প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ দাবি করে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভূক্ত করে। আর এখানেই দৃশ্যপটে হাজির হয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলে প্রথমে বিশ্বকাপ বয়কটের ইংত দেয় তারা। এরপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে বৈঠকের পর গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পিসিবি।

পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে ব্যাকফুটে পড়ে যায় আইসিসি। আর্থিকভাবে ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হচ্ছে ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ। এই একটি ম্যাচ না হলেই আইসিসির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াত ছয় হাজার কোটি টাকা। পিসিবিকে বাগে আনতে জরিমানা, শাস্তি এমনকি সদস্যপদ স্থগিতের হুমকিও দেয় আইসিসি। একই সাথে চলে দর কষাকষিও।

অবশেষে গেল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবি সংলাপে বসে এবং সেখানেই সংকট সমাধানের পথ খুলে যায়। গতকাল সোমবার রাতে পিসিবির চেয়ারম্যান পুনরায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন এবং ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে সম্মতি জানান।

এরপর আইসিসি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় দুঃখ প্রকাশ করে। একই সাথে বিশ্বকাপ বর্জন করায় বাংলাদেশকে শাস্তির আওতায় আনা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। ২০০ মিলিয়নের বেশি সমর্থকের ক্রিকেট বাজারের উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেয়া হয় সেই বিবৃতিতে। আইসিসির সাথে পিসিবি ও বিসিবির আলোচনায় চলমান টি-২০ বিশ্বকাপ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বঞ্চিত হওয়ায় বিসিবি ও পিসিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানানো হলেও এই দাবি রাখেনি আইসিসি। তবে, প্রাপ্তির খাতা একেবারে  শূন্য নয়। 

আইসিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে–

বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা শাস্তি বলবৎ হবে না :

আলোচনায় ৩ পক্ষ এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, বর্তমান ইস্যুতে বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক, ক্রীড়াগত বা প্রশাসনিক শাস্তি আরোপ করা হবে না। এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, আইসিসির বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) শরণাপন্ন হওয়ার অধিকার রাখে। এই অধিকার বহাল থাকবে।

২০২৮-২০৩১ সালের মধ্যে একটি আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক স্বত্ব:

এই সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ২০৩১ সালে পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা অবশ্যই আইসিসির স্বাভাবিক আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও পরিচালনাগত শর্ত পূরণসাপেক্ষে হবে। ২০৩১ বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজক হিসেবে আছে বাংলাদেশও।

বিবৃতিতে আইসিসি আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে এবং দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আইসিসির সদস্যদের মধ্যে আয়োজক হওয়ার অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখা হয়েছে, ‘টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে, এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করে যাচ্ছি।

কেকে/এমএ
আরও সংবাদ   বিষয়:  মোস্তাফিজ কাণ্ড   আইসিসি   বাংলাদেশ  
মতামত লিখুন:

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি তেল নিয়ে মিলছে স্বস্তির খবর
ইরানকে ফাঁসাতে ‘লুকাস’ ড্রোন ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
রিয়ালের জয়ের রাতে গুলেরের ইতিহাস গড়া গোল
আজ পর্দা নামছে অমর একুশে বইমেলার
ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

সর্বাধিক পঠিত

ঈদের পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি
দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন : আইজিপি
শ্রীমঙ্গল থানায় ইফতার মাহফিল
বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়নের কারিগর প্রকৌশলী সমাজ : গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী
মৌলভীবাজারে স্বস্তির বৃষ্টিতে প্রাণ পেল প্রকৃতি

খেলাধুলা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close